ঢাকা ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তৃতীয়বার বিধ্বস্ত হলো চীনা যুদ্ধবিমান এফ-৭

শরিয়ত খান
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৭:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
  • / 391

চীনা যুদ্ধবিমান এফ-৭

রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ীতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে। সেনাবাহিনীর আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল এফ-৭ বিজিআই মডেলের— একটি উন্নতমানের চীনা যুদ্ধবিমান।

বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় স্কুল ভবনে ১০০ থেকে ১৫০ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছিল। এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জন দগ্ধ শিক্ষার্থীকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। আরও অনেক আহত শিক্ষার্থীকে অন্যান্য হাসপাতালেও নেওয়া হয়েছে। দগ্ধদের বেশিরভাগই ছাত্র-ছাত্রী, তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল চীনের তৈরি চেংদু জে-৭ সিরিজের অংশ, যার উন্নত সংস্করণ হলো এফ-৭ বিজিআই। এই মডেলের প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান চেংদু এয়ারক্রাফট করপোরেশন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাংলাদেশকে এই মডেল সরবরাহের পরপরই চীন এ সিরিজের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে এই নিয়ে তৃতীয়বার বিধ্বস্ত হলো এফ-৭ সিরিজের যুদ্ধবিমান। ২০১৮ সালের নভেম্বরে টাঙ্গাইলে এক মহড়ায় এফ-৭ বিজি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে উইং কমান্ডার আরিফ আহমেদ দিপু নিহত হন। ২০২১ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রাম থেকে উড্ডয়নের পর বঙ্গোপসাগরে বিধ্বস্ত হয় এফ-৭ এমবি বিমান, যাতে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহমিদ প্রাণ হারান।

এফ-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমানটি মূলত এফ-৭ বিজি এর একটি উন্নত সংস্করণ। এতে রয়েছে তিনটি মাল্টি-ফাংশনাল ডিসপ্লে, শক্তিশালী ফায়ার কন্ট্রোল রাডার এবং কেএলজে-৬ এফ রাডার। ২০১১ সালে চীনের সঙ্গে ১৬টি এফ-৭ বিজিআই সরবরাহের চুক্তি করে বাংলাদেশ, যা ২০১৩ সালের মধ্যে সরবরাহ সম্পন্ন হয়।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর মোট ৩৬টি এফ-৭ যুদ্ধবিমান রয়েছে, যার বেশিরভাগই বিজিআই ভেরিয়েন্ট। অন্যান্য ভেরিয়েন্টের মধ্যে রয়েছে এফ-৭ এমবি এবং এফটি-৭। এফ-৭ বিজিআই একটি লাইটওয়েট মাল্টিরোল ফাইটার, যার সর্বোচ্চ গতি মাক ২.২ বা শব্দের গতির চেয়ে ২.২ গুণ বেশি। এটি ১ হাজার ৫০০ কেজি পর্যন্ত অস্ত্র বহনে সক্ষম এবং এতে রয়েছে ৫টি হার্ডপয়েন্ট।

যুদ্ধবিমানটি ১৭ হাজার ৫০০ মিটার বা ৫৭ হাজার ৪২০ ফুট উচ্চতায় উড়তে পারে এবং এর কার্যকর পাল্লা প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার। এতে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, লেজার-গাইডেড ও জিপিএস-গাইডেড বোমা বহনের সুবিধা রয়েছে। এক আসনবিশিষ্ট এই বিমানের ককপিট সম্পূর্ণ কাচের তৈরি, যা উন্নত ভিজ্যুয়াল ওয়ারফেয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করে।

এই যুদ্ধবিমানটি রাশিয়ার মিগ-২১ এবং অনেক সমসাময়িক যুদ্ধবিমানের চেয়ে দ্রুত ম্যানুভার করার ক্ষমতা রাখে, যা একে আকাশে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম করে তোলে।

তথ্যসূত্র:

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (মিলিটারি ব্যালেন্স—২০২৩),

ফ্লাইট গ্লোবাল (ওয়ার্ল্ড এয়ার ফোর্স-২০২৩),

জাপান ডিফেন্স উইকলি,

চেংদু এয়ারক্রাফট করপোরেশন ডেটাশিট।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তৃতীয়বার বিধ্বস্ত হলো চীনা যুদ্ধবিমান এফ-৭

সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৭:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ীতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে। সেনাবাহিনীর আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল এফ-৭ বিজিআই মডেলের— একটি উন্নতমানের চীনা যুদ্ধবিমান।

বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় স্কুল ভবনে ১০০ থেকে ১৫০ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছিল। এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জন দগ্ধ শিক্ষার্থীকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। আরও অনেক আহত শিক্ষার্থীকে অন্যান্য হাসপাতালেও নেওয়া হয়েছে। দগ্ধদের বেশিরভাগই ছাত্র-ছাত্রী, তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল চীনের তৈরি চেংদু জে-৭ সিরিজের অংশ, যার উন্নত সংস্করণ হলো এফ-৭ বিজিআই। এই মডেলের প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান চেংদু এয়ারক্রাফট করপোরেশন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাংলাদেশকে এই মডেল সরবরাহের পরপরই চীন এ সিরিজের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে এই নিয়ে তৃতীয়বার বিধ্বস্ত হলো এফ-৭ সিরিজের যুদ্ধবিমান। ২০১৮ সালের নভেম্বরে টাঙ্গাইলে এক মহড়ায় এফ-৭ বিজি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে উইং কমান্ডার আরিফ আহমেদ দিপু নিহত হন। ২০২১ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রাম থেকে উড্ডয়নের পর বঙ্গোপসাগরে বিধ্বস্ত হয় এফ-৭ এমবি বিমান, যাতে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহমিদ প্রাণ হারান।

এফ-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমানটি মূলত এফ-৭ বিজি এর একটি উন্নত সংস্করণ। এতে রয়েছে তিনটি মাল্টি-ফাংশনাল ডিসপ্লে, শক্তিশালী ফায়ার কন্ট্রোল রাডার এবং কেএলজে-৬ এফ রাডার। ২০১১ সালে চীনের সঙ্গে ১৬টি এফ-৭ বিজিআই সরবরাহের চুক্তি করে বাংলাদেশ, যা ২০১৩ সালের মধ্যে সরবরাহ সম্পন্ন হয়।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর মোট ৩৬টি এফ-৭ যুদ্ধবিমান রয়েছে, যার বেশিরভাগই বিজিআই ভেরিয়েন্ট। অন্যান্য ভেরিয়েন্টের মধ্যে রয়েছে এফ-৭ এমবি এবং এফটি-৭। এফ-৭ বিজিআই একটি লাইটওয়েট মাল্টিরোল ফাইটার, যার সর্বোচ্চ গতি মাক ২.২ বা শব্দের গতির চেয়ে ২.২ গুণ বেশি। এটি ১ হাজার ৫০০ কেজি পর্যন্ত অস্ত্র বহনে সক্ষম এবং এতে রয়েছে ৫টি হার্ডপয়েন্ট।

যুদ্ধবিমানটি ১৭ হাজার ৫০০ মিটার বা ৫৭ হাজার ৪২০ ফুট উচ্চতায় উড়তে পারে এবং এর কার্যকর পাল্লা প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার। এতে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, লেজার-গাইডেড ও জিপিএস-গাইডেড বোমা বহনের সুবিধা রয়েছে। এক আসনবিশিষ্ট এই বিমানের ককপিট সম্পূর্ণ কাচের তৈরি, যা উন্নত ভিজ্যুয়াল ওয়ারফেয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করে।

এই যুদ্ধবিমানটি রাশিয়ার মিগ-২১ এবং অনেক সমসাময়িক যুদ্ধবিমানের চেয়ে দ্রুত ম্যানুভার করার ক্ষমতা রাখে, যা একে আকাশে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম করে তোলে।

তথ্যসূত্র:

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (মিলিটারি ব্যালেন্স—২০২৩),

ফ্লাইট গ্লোবাল (ওয়ার্ল্ড এয়ার ফোর্স-২০২৩),

জাপান ডিফেন্স উইকলি,

চেংদু এয়ারক্রাফট করপোরেশন ডেটাশিট।