ঢাকা ০২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুজিববাদ কি; এ নিয়ে এতো আলোচনা কেন!

উৎপল দাস
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:০০:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
  • / 454

মুজিববাদ কি; এ নিয়ে এতো আলোচনা কেন!

রাজনীতির মাঠে হঠাৎ করেই আলোচনায় এসেছে ‘মুজিববাদ’। গেল কয়েক দিনে জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি’র নেতারা তাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচীতে ‘মুজিববাদকে মুর্দাবাদ’ আখ্যায়িত করে স্লোগান দিচ্ছেন এবং তারা এই মতবাদের কবর রচনা করতে চাচ্ছেন।

প্রশ্ন উঠেছে ‘মুজিববাদ‘ আসলে কি? কেন এটা নিয়ে এতো আলোচনা?

মুজিববাদ মূলত বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, আদর্শ ও নেতৃত্বের একটি সামগ্রিক রূপ। এটি একটি মতাদর্শগত ধারা, যা বঙ্গবন্ধুর জীবন, সংগ্রাম, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালার উপর ভিত্তি করে গঠিত।

শেখ মুজিবের রাজনৈতিক দর্শন মোটা দাঁগে চারটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। এগুলো হলো-জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান এই চারনীতির ওপর ভিত্তি করে প্রনয়ণ করা হয়। যা পরবর্তীতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রপরিচালনার চার মূলনীতি হিসেবে গৃহীত হয়।

১৯৭২ সালের ৭ জুন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শেখ মুজিব বলেন, “আগে স্লোগান ছিল ৬ দফা, এখন চারটা স্তম্ভ।” তবে এটি অতীতে কখনো মুজিববাদ হিসেবে চিহ্নিত ছিলো না।

জীবদ্দশায় শেখ মুজিব এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশকেও অগ্রসর হতে হবে জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র এই চারটি মূল সূত্র ধরে, বাংলাদেশের নিজস্ব পথ ধরে। আমার উপর্যুক্ত মতকে অনেকে বলছেন ‘মুজিববাদ’। এদেশের লেখক, সাহিত্যিক বা ঐতিহাসিকগণ আমার চিন্তাধারার কী নামকরণ করবেন সেটা তাদের ব্যাপার, আমার নয়। নামকরণের প্রতি আমার কোনো মোহ নাই। আমি চাই কাজ। আমি চাই আমার চিন্তাধারার বাস্তব রূপায়ণ। আমি চাই শোষণমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ! আমি চাই আমার স্বপ্ন সোনার বাংলা নির্মাণের পূর্ণ বাস্তবায়ন।’

‘মুজিববাদ’ আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকদের কাছে একটি আদর্শিক ভিত্তি। তবে ১৯৭০ বা ৮০’র দশকে এটিকে বঙ্গবন্ধুর চার নীতি হিসেবে অভিহিত করা হতো। তবে ‘মুজিববাদ’ শব্দটি কে বা কারা, কবে, কোথায় প্রথম ব্যবহার করেছিলেন তার কোন ঐতিহাসিক দলিল পাওয়া যায়নি।

ইতিহাসবিদরা বলছেন, ১৯৭২-এর ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে এই ধরনের একটি শ্লোগান শোনা গিয়েছিল। সেদিন ঢাকার জনসমুদ্রে অনেকের মুখেই শোনা গিয়েছিল, ‘বিশ্বে এলো নতুন দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ,’ ‘বিশ্বে এলো নতুন বাদ, মুজিববাদ, মুজিববাদ’ ইত্যাদি। তবে আবেগ আপ্লুত জনতার সেই স্লোগান স্থায়ী হয়নি।

এরপর ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর ‘দেশের ডাক’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক খ্যাতিমান সাংবাদিক খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস ‘মুজিববাদ’ শিরোনামে একটি বই প্রকাশ করেন। যেখানে তিনি বঙ্গবন্ধুর দর্শন ও রাষ্ট্রপরিচালনার নানা ঘটনা প্রবাহ তুলে ধরেন। ছাপা অঙরে সেটিই ছিলো ‘মুজিববাদ’ শব্দের ব্যবহার।

লেখক, সাংবাদিক খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস ছিলেন কলকাতায় শেখ মুজিবের সহপাঠী, রাজনীতিতে সহযোদ্ধা। পরবর্তীতে ২০২১ সালে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বইটির পুনর্মুদ্রণ করা হয়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর দলের ভিতরে এবং সরকার প্রধান শেখ হাসিনার বক্তব্যে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ’ ভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তা ঘন ঘন উচ্চারিত হতে থাকে। ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ ঘোষিত দলের গঠনতন্ত্রে প্রথমবারের মতো “মুজিববাদ” শব্দটি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়। যেখানে মুজিববাদকে দলীয় আদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইউনূস সরকারের উপদেষ্টা ও জুলাই আন্দোলনের কথিত মাস্টার মাইন্ড মাহফুজ আলম ১৫ অক্টোবর ‘মুজিববাদ’কে নতুন করে সামনে নিয়ে আসেন। স্যোশাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন ‘যাদের বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নাই গণহত্যা নিয়ে, তাদের সাথে নো রিকন্সিলিয়েশন (পুনর্মিলন)। আগে বিচার, তারপর সমঝোতা। মুজিববাদের বিরুদ্ধে এবার হবে প্রত্যাঘাত। খুনিদের ক্ষমা নাই। খুনিদের আদর্শের ফেরিওয়ালাদের ক্ষমা নাই।’

মাহফুজ আলমের এই স্ট্যাটাসের পর বিভিন্ন সময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা-কর্মীরা ‘মুজিববাদ’ নিয়ে সমালোচনা শুরু করেন।

এর আগে, ১৯৭৭ সালে জেনারেল জিয়াউর রহমান এক সামরিক আদেশে ১৯৭২ সালের সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে রাষ্ট্রের ওই চার মূলনীতির অংশটি পরিবর্তন করেছিল।
এছাড়াও মুখবন্ধে ‘জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের’ শব্দবন্ধটি ‘জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধ’ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয় তখন।

এরপর ১৯৭৯ সালের এপ্রিলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন দ্বিতীয় সংসদের মাধ্যমে ওই প্রস্তাবনাটি সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া হয়, যা পঞ্চম সংশোধনী হিসেবে পরিচিত।

এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ শব্দ চালু করা। একই সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতার বদলে ‘আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” সংবিধানে যুক্ত করা হয়। এবং ইসলামিক রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।

২০১০ সালের ২৭ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এক রায়ে পঞ্চম সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে। একইসঙ্গে সংবিধানকে পঞ্চম সংশোধনীর আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

২০১১ সালের ৩০ জুন, দীর্ঘ তিন যুগ পর এই চার নীতি ফের সংবিধানে যুক্ত করা হয়। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন, ২০১১-এ বাহাত্তরের সংবিধানের এই সংক্রান্ত অনুচ্ছেদটি ফিরিয়ে আনা হয়।

এনসিপি নেতারা মুজিববাদকে একনায়কত্ব বা দলীয়করণ হিসেবে চিহ্নিত করে এর সমালোচনা করেন। একই সাথে এই মতবাদ মুছে ফেলার ঘোষণা দিয়েছে। তারা, বিগত সরকারের প্রনয়ন করা সংবিধান নতুন করে রচনার দাবি তুলেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মুজিববাদ কি; এ নিয়ে এতো আলোচনা কেন!

সর্বশেষ আপডেট ০৯:০০:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫

রাজনীতির মাঠে হঠাৎ করেই আলোচনায় এসেছে ‘মুজিববাদ’। গেল কয়েক দিনে জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি’র নেতারা তাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচীতে ‘মুজিববাদকে মুর্দাবাদ’ আখ্যায়িত করে স্লোগান দিচ্ছেন এবং তারা এই মতবাদের কবর রচনা করতে চাচ্ছেন।

প্রশ্ন উঠেছে ‘মুজিববাদ‘ আসলে কি? কেন এটা নিয়ে এতো আলোচনা?

মুজিববাদ মূলত বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, আদর্শ ও নেতৃত্বের একটি সামগ্রিক রূপ। এটি একটি মতাদর্শগত ধারা, যা বঙ্গবন্ধুর জীবন, সংগ্রাম, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালার উপর ভিত্তি করে গঠিত।

শেখ মুজিবের রাজনৈতিক দর্শন মোটা দাঁগে চারটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। এগুলো হলো-জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান এই চারনীতির ওপর ভিত্তি করে প্রনয়ণ করা হয়। যা পরবর্তীতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রপরিচালনার চার মূলনীতি হিসেবে গৃহীত হয়।

১৯৭২ সালের ৭ জুন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শেখ মুজিব বলেন, “আগে স্লোগান ছিল ৬ দফা, এখন চারটা স্তম্ভ।” তবে এটি অতীতে কখনো মুজিববাদ হিসেবে চিহ্নিত ছিলো না।

জীবদ্দশায় শেখ মুজিব এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশকেও অগ্রসর হতে হবে জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র এই চারটি মূল সূত্র ধরে, বাংলাদেশের নিজস্ব পথ ধরে। আমার উপর্যুক্ত মতকে অনেকে বলছেন ‘মুজিববাদ’। এদেশের লেখক, সাহিত্যিক বা ঐতিহাসিকগণ আমার চিন্তাধারার কী নামকরণ করবেন সেটা তাদের ব্যাপার, আমার নয়। নামকরণের প্রতি আমার কোনো মোহ নাই। আমি চাই কাজ। আমি চাই আমার চিন্তাধারার বাস্তব রূপায়ণ। আমি চাই শোষণমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ! আমি চাই আমার স্বপ্ন সোনার বাংলা নির্মাণের পূর্ণ বাস্তবায়ন।’

‘মুজিববাদ’ আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকদের কাছে একটি আদর্শিক ভিত্তি। তবে ১৯৭০ বা ৮০’র দশকে এটিকে বঙ্গবন্ধুর চার নীতি হিসেবে অভিহিত করা হতো। তবে ‘মুজিববাদ’ শব্দটি কে বা কারা, কবে, কোথায় প্রথম ব্যবহার করেছিলেন তার কোন ঐতিহাসিক দলিল পাওয়া যায়নি।

ইতিহাসবিদরা বলছেন, ১৯৭২-এর ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে এই ধরনের একটি শ্লোগান শোনা গিয়েছিল। সেদিন ঢাকার জনসমুদ্রে অনেকের মুখেই শোনা গিয়েছিল, ‘বিশ্বে এলো নতুন দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ,’ ‘বিশ্বে এলো নতুন বাদ, মুজিববাদ, মুজিববাদ’ ইত্যাদি। তবে আবেগ আপ্লুত জনতার সেই স্লোগান স্থায়ী হয়নি।

এরপর ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর ‘দেশের ডাক’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক খ্যাতিমান সাংবাদিক খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস ‘মুজিববাদ’ শিরোনামে একটি বই প্রকাশ করেন। যেখানে তিনি বঙ্গবন্ধুর দর্শন ও রাষ্ট্রপরিচালনার নানা ঘটনা প্রবাহ তুলে ধরেন। ছাপা অঙরে সেটিই ছিলো ‘মুজিববাদ’ শব্দের ব্যবহার।

লেখক, সাংবাদিক খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস ছিলেন কলকাতায় শেখ মুজিবের সহপাঠী, রাজনীতিতে সহযোদ্ধা। পরবর্তীতে ২০২১ সালে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বইটির পুনর্মুদ্রণ করা হয়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর দলের ভিতরে এবং সরকার প্রধান শেখ হাসিনার বক্তব্যে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ’ ভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তা ঘন ঘন উচ্চারিত হতে থাকে। ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ ঘোষিত দলের গঠনতন্ত্রে প্রথমবারের মতো “মুজিববাদ” শব্দটি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়। যেখানে মুজিববাদকে দলীয় আদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইউনূস সরকারের উপদেষ্টা ও জুলাই আন্দোলনের কথিত মাস্টার মাইন্ড মাহফুজ আলম ১৫ অক্টোবর ‘মুজিববাদ’কে নতুন করে সামনে নিয়ে আসেন। স্যোশাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন ‘যাদের বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নাই গণহত্যা নিয়ে, তাদের সাথে নো রিকন্সিলিয়েশন (পুনর্মিলন)। আগে বিচার, তারপর সমঝোতা। মুজিববাদের বিরুদ্ধে এবার হবে প্রত্যাঘাত। খুনিদের ক্ষমা নাই। খুনিদের আদর্শের ফেরিওয়ালাদের ক্ষমা নাই।’

মাহফুজ আলমের এই স্ট্যাটাসের পর বিভিন্ন সময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা-কর্মীরা ‘মুজিববাদ’ নিয়ে সমালোচনা শুরু করেন।

এর আগে, ১৯৭৭ সালে জেনারেল জিয়াউর রহমান এক সামরিক আদেশে ১৯৭২ সালের সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে রাষ্ট্রের ওই চার মূলনীতির অংশটি পরিবর্তন করেছিল।
এছাড়াও মুখবন্ধে ‘জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের’ শব্দবন্ধটি ‘জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধ’ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয় তখন।

এরপর ১৯৭৯ সালের এপ্রিলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন দ্বিতীয় সংসদের মাধ্যমে ওই প্রস্তাবনাটি সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া হয়, যা পঞ্চম সংশোধনী হিসেবে পরিচিত।

এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ শব্দ চালু করা। একই সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতার বদলে ‘আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” সংবিধানে যুক্ত করা হয়। এবং ইসলামিক রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।

২০১০ সালের ২৭ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এক রায়ে পঞ্চম সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে। একইসঙ্গে সংবিধানকে পঞ্চম সংশোধনীর আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

২০১১ সালের ৩০ জুন, দীর্ঘ তিন যুগ পর এই চার নীতি ফের সংবিধানে যুক্ত করা হয়। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন, ২০১১-এ বাহাত্তরের সংবিধানের এই সংক্রান্ত অনুচ্ছেদটি ফিরিয়ে আনা হয়।

এনসিপি নেতারা মুজিববাদকে একনায়কত্ব বা দলীয়করণ হিসেবে চিহ্নিত করে এর সমালোচনা করেন। একই সাথে এই মতবাদ মুছে ফেলার ঘোষণা দিয়েছে। তারা, বিগত সরকারের প্রনয়ন করা সংবিধান নতুন করে রচনার দাবি তুলেছে।