ঢাকা ০৭:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বিএনপি হতাশ ও ক্ষুব্ধ

তারেককে হটাতে জামায়াতের নতুন ষড়যন্ত্র

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
  • / 301

মিটফোর্ডে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী যে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তাতে চরম ক্ষোভ জানিয়েছে বিএনপি। বিএনপির ভাষ্য, এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক মোড় দিয়ে পরিকল্পিতভাবে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে, যার পেছনে জামায়াত অগ্রণী ভূমিকা রাখছে বলে তাদের বিশ্বাস।

বিএনপি মনে করছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিএনপিকে দুর্বল ও প্রশ্নবিদ্ধ করতেই জামায়াত অপপ্রচার চালাচ্ছে। যদিও মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডে ব্যবসায়িক বিরোধের বিষয় স্পষ্ট, তারপরও বিএনপি নিজ দলের পাঁচ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। এমন অবস্থান নেওয়ার পরও, জামায়াতের তরফ থেকে যে ভাষ্য এসেছে, তাতে বিএনপি নেতারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, যারা আন্দোলনে একসঙ্গে ছিল, তারাই এখন ঐক্য বিনষ্ট করছে। এতে করে আসলে ফ্যাসিবাদকে উসাহ দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপি-জামায়াত
বিএনপি-জামায়াত

সম্প্রতি মির্জা আব্বাস ও রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা জামায়াতের নাম না নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, সুযোগসন্ধানী কয়েকটি ইসলামী দল এখন বিএনপিকেই প্রধান টার্গেট বানিয়েছে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছে। এই দলগুলো অতীতে কখনও এরশাদের, কখনও আওয়ামী লীগের ছায়ায় চলেছে; আর এখন বিএনপির বিরুদ্ধাচরণ করছে।

দীর্ঘ ২৪ বছরের রাজনৈতিক সঙ্গী জামায়াতের প্রতি এমন অবস্থান নতুন নয়, তবে এবার সেটা প্রকাশ্যে এসেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে বিএনপি জামায়াতকে নিয়ে আর কোনো আনুষ্ঠানিক জোটে নেই। এরপর যুগপৎ আন্দোলনে সামান্য অংশগ্রহণের পর জামায়াত পৃথকভাবে তাদের কর্মসূচি চালিয়ে আসছে।

জামায়াতের নেতারা অবশ্য বিএনপির সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমরা কোনো নাম বলিনি, চাঁদাবাজি নিয়ে বিএনপি নিজেরাই বহিষ্কার করেছে। আমরা বিশ্বাস করি রাজনৈতিক সৌজন্য থাকা উচিত। একে অপরকে দোষারোপ করে পরিবেশ নষ্ট করা ঠিক নয়।”

তিনি আরও বলেন, “যারা তারেক রহমানের নামে অশ্লীল স্লোগান দিয়েছে, তারা জামায়াত-শিবিরের কেউ নয়। আমাদের মিছিল থেকে এমন কিছু শোনা যাবে না।”

এদিকে, চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ভূমিকা নিয়েও বিএনপি নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মির্জা আব্বাস বলেন, “যারা অতীতে আওয়ামী লীগকে সহ্য করেছে, এখন বিএনপির বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে।” বিএনপির মতে, চরমোনাই পীরসহ ইসলামী কয়েকটি দলের ভূমিকা বিভ্রান্তিকর এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিচালিত।

এই পরিস্থিতিতে বিএনপি আবারও বলছে—দেশে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য জোরদার হওয়া জরুরি। তবে সেটা হবে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের ভিত্তিতে, ব্যক্তিগত এজেন্ডা নয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিএনপি হতাশ ও ক্ষুব্ধ

তারেককে হটাতে জামায়াতের নতুন ষড়যন্ত্র

সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫

মিটফোর্ডে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী যে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তাতে চরম ক্ষোভ জানিয়েছে বিএনপি। বিএনপির ভাষ্য, এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক মোড় দিয়ে পরিকল্পিতভাবে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে, যার পেছনে জামায়াত অগ্রণী ভূমিকা রাখছে বলে তাদের বিশ্বাস।

বিএনপি মনে করছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিএনপিকে দুর্বল ও প্রশ্নবিদ্ধ করতেই জামায়াত অপপ্রচার চালাচ্ছে। যদিও মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডে ব্যবসায়িক বিরোধের বিষয় স্পষ্ট, তারপরও বিএনপি নিজ দলের পাঁচ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। এমন অবস্থান নেওয়ার পরও, জামায়াতের তরফ থেকে যে ভাষ্য এসেছে, তাতে বিএনপি নেতারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, যারা আন্দোলনে একসঙ্গে ছিল, তারাই এখন ঐক্য বিনষ্ট করছে। এতে করে আসলে ফ্যাসিবাদকে উসাহ দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপি-জামায়াত
বিএনপি-জামায়াত

সম্প্রতি মির্জা আব্বাস ও রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা জামায়াতের নাম না নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, সুযোগসন্ধানী কয়েকটি ইসলামী দল এখন বিএনপিকেই প্রধান টার্গেট বানিয়েছে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছে। এই দলগুলো অতীতে কখনও এরশাদের, কখনও আওয়ামী লীগের ছায়ায় চলেছে; আর এখন বিএনপির বিরুদ্ধাচরণ করছে।

দীর্ঘ ২৪ বছরের রাজনৈতিক সঙ্গী জামায়াতের প্রতি এমন অবস্থান নতুন নয়, তবে এবার সেটা প্রকাশ্যে এসেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে বিএনপি জামায়াতকে নিয়ে আর কোনো আনুষ্ঠানিক জোটে নেই। এরপর যুগপৎ আন্দোলনে সামান্য অংশগ্রহণের পর জামায়াত পৃথকভাবে তাদের কর্মসূচি চালিয়ে আসছে।

জামায়াতের নেতারা অবশ্য বিএনপির সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমরা কোনো নাম বলিনি, চাঁদাবাজি নিয়ে বিএনপি নিজেরাই বহিষ্কার করেছে। আমরা বিশ্বাস করি রাজনৈতিক সৌজন্য থাকা উচিত। একে অপরকে দোষারোপ করে পরিবেশ নষ্ট করা ঠিক নয়।”

তিনি আরও বলেন, “যারা তারেক রহমানের নামে অশ্লীল স্লোগান দিয়েছে, তারা জামায়াত-শিবিরের কেউ নয়। আমাদের মিছিল থেকে এমন কিছু শোনা যাবে না।”

এদিকে, চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ভূমিকা নিয়েও বিএনপি নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মির্জা আব্বাস বলেন, “যারা অতীতে আওয়ামী লীগকে সহ্য করেছে, এখন বিএনপির বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে।” বিএনপির মতে, চরমোনাই পীরসহ ইসলামী কয়েকটি দলের ভূমিকা বিভ্রান্তিকর এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিচালিত।

এই পরিস্থিতিতে বিএনপি আবারও বলছে—দেশে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য জোরদার হওয়া জরুরি। তবে সেটা হবে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের ভিত্তিতে, ব্যক্তিগত এজেন্ডা নয়।