টাকার বিপরীতে কমলো ডলারের দাম
- সর্বশেষ আপডেট ১০:০৬:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
- / 310
দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে টাকার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার কমেছে ২ টাকা ২০ পয়সা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আজ সোমবার আন্তঃব্যাংকে ডলারের বিক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ১২০ টাকা ১০ পয়সা, যা গত ৯ জুলাই ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। তবে ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ১১৯ টাকা ৫০ পয়সা।
২০২২ সালে কোভিড-পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে টাকার অবমূল্যায়ন শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় টাকার মান এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ের প্রবণতা বলছে, টাকার মান কিছুটা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, টাকার মান বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, হুন্ডি ও মানি লন্ডারিং হ্রাস পাওয়া এবং ঋণদাতা সংস্থাগুলোর অর্থ ছাড়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ দশমিক ৮১ শতাংশ বা ৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বেশি।
এছাড়া, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি বছরের মে মাসে একটি উদার মুদ্রাবিনিময় হার ব্যবস্থা চালু করে। শুরুতে ব্যাংকিং খাতে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও বাস্তবে তা মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২১ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার।
ডলারের দাম দ্রুত কমতে থাকায় বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রথমবারের মতো বাজার থেকে ডলার কিনেছে। গত ১৩ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক ১৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে মোট ১৭১ মিলিয়ন ডলার কিনেছে, যার সর্বনিম্ন মূল্য ছিল ১২১ টাকা ৫০ পয়সা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “ডলারের দরপতনও মুদ্রাবাজারের জন্য ইতিবাচক নয়। রপ্তানিকারক ও রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীরাও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমাদের হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।”
































