জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত ববি, কবে মিলবে মুক্তি!
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:১৭:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
- / 426
দক্ষিণাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার অন্যতম বিদ্যাপীঠ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। তবে বর্ষা এলেই বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে দেখা দেয় এক অস্বস্তিকর দৃশ্য—জলাবদ্ধতা, ভাঙা রাস্তা ও নোংরা পানি। সামান্য বৃষ্টিতেই ক্যাম্পাসের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের সামনের এলাকা পুকুরে পরিণত হয়। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে নাভিশ্বাস উঠছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টির পানি জমে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়কগুলোর বেশির ভাগই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নিচতলার প্রবেশপথে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় অনেক শিক্ষার্থী জুতা হাতে প্যান্ট গুটিয়ে ক্লাসে যেতে বাধ্য হন।
ছাত্রদের ভাষ্য মতে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ সড়ক এখনও কাঁচা ও লাল ইটের। এই ইটের রাস্তা এখন ভেঙে পড়ে গর্তে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বারবার পাকা সড়কের দাবি তুললেও এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেই দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের হোসেন বলেন, “জ্ঞানচর্চার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পানি ডিঙিয়ে ক্লাসে যেতে হয়—এটা অত্যন্ত লজ্জার। জুতা হাতে ক্লাসে যাওয়া আমাদের নিত্য অভ্যাস হয়ে গেছে। এটা কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র হতে পারে না।”
জলাবদ্ধতা নিয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী শহিদ আফ্রিদি বলেন, “বর্ষাকালে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় ক্লাসে যাওয়ার পথ। পা ফসকে পড়ে যাওয়ার ভয়ে প্রতিদিন আতঙ্কে থাকি।”
ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রাস্তা নিয়ে প্রকৌশল বিভাগের উপ-প্রকৌশলী মুরশীদ আবেদীন বলেন, “পরিকল্পনা দপ্তরে বহু আগেই প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। অর্থায়ন পেলে কাজ করা সম্ভব।”
অন্যদিকে, পরিকল্পনা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হুমায়ুন কবির জানান, “এটি প্রকৌশল শাখার বিষয়। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হলে ড্রেনেজ সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (অন্তর্বর্তীকালীন) অধ্যাপক ড. মো. তৌফিক আলম বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে অবগত আছি। গত অর্থবছরে কিছু সমস্যার কারণে কাজ শুরু করতে পারিনি। এবছর আমরা চেষ্টা করছি কাজটি বাস্তবায়নের।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের রাস্তার জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের প্রকৌশলীর সঙ্গে আলাপ হয়েছে। বৃষ্টি কমলেই তারা কাজ শুরু করবেন।”
এদিকে জলাবদ্ধতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা। কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, “ববিতে নয়, যেন ঘের বা হ্যাচারিতে ভর্তি হতে এসেছি।”
সব মিলিয়ে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই দুর্ভোগে পড়ছেন। বারবার অভিযোগের পরও পাকা রাস্তা বা কার্যকর ড্রেনেজব্যবস্থার উদ্যোগ না থাকায় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের একটাই দাবি—জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে ক্যাম্পাসে স্থায়ী অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা হোক।



































