ঢাকা ০১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাহাড় কাটায় বেপরোয়া, প্রশাসনের নিষেধও উপেক্ষিত

আকাশ মারমা মংসিং, বান্দরবান
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৩:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
  • / 668

পাহাড় কাটায় বেপরোয়া যুবদল নেতা, প্রশাসনের নিষেধও উপেক্ষিত

দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বান্দরবান জেলা যুবদলের সদস্য নাজিম উদ্দিন। পাওয়ার গ্রিড নির্মাণের স্থান ভরাট করতে তিনি আবারো পাহাড় কাটায় লিপ্ত হয়েছেন। প্রকাশ্যে দিনদুপুরে পাহাড় কেটে মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে। এর আগেও একাধিকবার জরিমানা ও মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবুও যেন পাহাড় কাটার উৎসব থেমে নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে জেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার পাহাড় কাটা হয়েছে। মাসখানেক আগেও থোয়াইগ্যা পাড়া, চড়ুই পাড়া, লেমুঝিড়ি, কুহালংসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় সড়কের পাশ ঘেঁষে পাহাড় কাটা হয়। সম্প্রতি, সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে সেখান থেকে দুইজন ও একটি ট্রাক আটক করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার জরিমানা করলেও থেমে নেই তার দাপট। বরং, দিনকে দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের বাকিছড়া নতুন পাড়া এলাকায় টিনের ঘেরা ভেতরে চলছে পাহাড় কাটার কাজ। গহীন পাহাড় থেকে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে চারটি ট্রাকে করে তা সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব মাটি ফেলা হচ্ছে আগের পাওয়ার গ্রিড নির্মাণের জায়গায়। ফলে মাটি গাড়ি চলাচলের কারণে সড়কজুড়ে মাটি পড়ে পিচ্ছিল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড় কাটার স্থানে সড়কের পাশে পাহারাদার বসানো হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নাজিম উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ অনুসারী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাকিছড়ার এক বাসিন্দা বলেন, “বাকিছড়া নতুন পাড়া মসজিদের ভেতর থেকে পাহাড় কাটছেন নাজিম উদ্দিন। সকাল থেকে চারটি ট্রাকে মাটি সরানো হচ্ছে।”

এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্বীকার করেন, “বাকিছড়া মসজিদের ভেতরের টিনের বেড়া ঘেরা জায়গা থেকে পাহাড় কেটে মাটি ভরাট করা হচ্ছে।” তিনি দাবি করেন, “ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসক অনুমতি দিয়েছেন। আপনি চাইলে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।”

তবে এরপর নাজিম উদ্দিন বলেন, “আপনার জন্য কি করা লাগবে আর আমার জন্য আপনি কি করতে পারবেন? সন্ধ্যায় দেখা করব, যা করার দরকার করব।”

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, “গতবার পাহাড় কাটার দায়ে তাকে জরিমানা করা হয়েছে। আবারো যদি নতুন করে পাহাড় কাটে, তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, “নাজিম উদ্দিনকে পাহাড় কাটার জন্য প্রশাসন থেকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। বরং, ইউএনও তাকে আগেই জরিমানা করেছেন। আবারো পাহাড় কাটার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পাহাড় কাটায় বেপরোয়া, প্রশাসনের নিষেধও উপেক্ষিত

সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৩:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বান্দরবান জেলা যুবদলের সদস্য নাজিম উদ্দিন। পাওয়ার গ্রিড নির্মাণের স্থান ভরাট করতে তিনি আবারো পাহাড় কাটায় লিপ্ত হয়েছেন। প্রকাশ্যে দিনদুপুরে পাহাড় কেটে মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে। এর আগেও একাধিকবার জরিমানা ও মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবুও যেন পাহাড় কাটার উৎসব থেমে নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে জেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার পাহাড় কাটা হয়েছে। মাসখানেক আগেও থোয়াইগ্যা পাড়া, চড়ুই পাড়া, লেমুঝিড়ি, কুহালংসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় সড়কের পাশ ঘেঁষে পাহাড় কাটা হয়। সম্প্রতি, সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে সেখান থেকে দুইজন ও একটি ট্রাক আটক করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার জরিমানা করলেও থেমে নেই তার দাপট। বরং, দিনকে দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের বাকিছড়া নতুন পাড়া এলাকায় টিনের ঘেরা ভেতরে চলছে পাহাড় কাটার কাজ। গহীন পাহাড় থেকে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে চারটি ট্রাকে করে তা সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব মাটি ফেলা হচ্ছে আগের পাওয়ার গ্রিড নির্মাণের জায়গায়। ফলে মাটি গাড়ি চলাচলের কারণে সড়কজুড়ে মাটি পড়ে পিচ্ছিল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড় কাটার স্থানে সড়কের পাশে পাহারাদার বসানো হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নাজিম উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ অনুসারী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাকিছড়ার এক বাসিন্দা বলেন, “বাকিছড়া নতুন পাড়া মসজিদের ভেতর থেকে পাহাড় কাটছেন নাজিম উদ্দিন। সকাল থেকে চারটি ট্রাকে মাটি সরানো হচ্ছে।”

এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্বীকার করেন, “বাকিছড়া মসজিদের ভেতরের টিনের বেড়া ঘেরা জায়গা থেকে পাহাড় কেটে মাটি ভরাট করা হচ্ছে।” তিনি দাবি করেন, “ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসক অনুমতি দিয়েছেন। আপনি চাইলে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।”

তবে এরপর নাজিম উদ্দিন বলেন, “আপনার জন্য কি করা লাগবে আর আমার জন্য আপনি কি করতে পারবেন? সন্ধ্যায় দেখা করব, যা করার দরকার করব।”

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, “গতবার পাহাড় কাটার দায়ে তাকে জরিমানা করা হয়েছে। আবারো যদি নতুন করে পাহাড় কাটে, তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, “নাজিম উদ্দিনকে পাহাড় কাটার জন্য প্রশাসন থেকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। বরং, ইউএনও তাকে আগেই জরিমানা করেছেন। আবারো পাহাড় কাটার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”