ঢাকা ০২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হলি আর্টিজান ট্র্যাজেডির নয় বছর আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৯:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
  • / 270

হলি আর্টিজান ট্র্যাজেডির নয় বছর

আজ ১ জুলাই ২০২৫, গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সংঘটিত ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার নয় বছর পূর্ণ হলো। ২০১৬ সালের এই দিনে দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছিল এক বিভীষিকাময় রাত, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর জঙ্গি হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়।

সেদিন রাতে, পাঁচজন সন্ত্রাসী রাজধানীর গুলশানের অভিজাত এলাকা ৭৯ নম্বর সড়কের হলি আর্টিজান বেকারিতে ঢুকে নির্বিচারে হামলা চালায়। নিহত হন ২২ জন—যাদের মধ্যে ইতালি, জাপান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। প্রাণ হারান দুই পুলিশ কর্মকর্তা এবং আহত হন অনেকেই।

প্রথমে পুলিশ, র‍্যাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে রাখে। পরদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেনাবাহিনীর কমান্ডো বাহিনী ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ চালিয়ে জিম্মিদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। এই অভিযানে পাঁচজন সন্ত্রাসী নিহত হয় এবং ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

নিহতদের মধ্যে ছিলেন— ৯ জন ইতালির নাগরিক, ৭ জন জাপানের নাগরিক, ১ জন ভারতীয়, ৩ জন বাংলাদেশি (এর মধ্যে একজনের দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল) এবং ২ জন পুলিশ কর্মকর্তা।

আইএস এ হামলার দায় স্বীকার করলেও সরকার ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এর পেছনে দেশীয় জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করেন। হামলাকারীদের মধ্যে পরিচিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের তরুণদের জড়িত থাকা দেশের জন্য ছিল এক চরম অশনিসংকেত।

এই ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী সারা দেশে জঙ্গিবিরোধী অভিযান জোরদার করে এবং একাধিক সফল অভিযান পরিচালনা করে নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার বা নিহত করে।

প্রতিবছর এই দিনটি বিভিন্নভাবে স্মরণ করে নিহতদের পরিবার, বিদেশি দূতাবাস ও সাধারণ মানুষ। এটি দেশের জঙ্গিবাদবিরোধী লড়াইয়ের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

হলি আর্টিজান ট্র্যাজেডির নয় বছর আজ

সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৯:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫

আজ ১ জুলাই ২০২৫, গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সংঘটিত ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার নয় বছর পূর্ণ হলো। ২০১৬ সালের এই দিনে দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছিল এক বিভীষিকাময় রাত, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর জঙ্গি হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়।

সেদিন রাতে, পাঁচজন সন্ত্রাসী রাজধানীর গুলশানের অভিজাত এলাকা ৭৯ নম্বর সড়কের হলি আর্টিজান বেকারিতে ঢুকে নির্বিচারে হামলা চালায়। নিহত হন ২২ জন—যাদের মধ্যে ইতালি, জাপান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। প্রাণ হারান দুই পুলিশ কর্মকর্তা এবং আহত হন অনেকেই।

প্রথমে পুলিশ, র‍্যাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে রাখে। পরদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেনাবাহিনীর কমান্ডো বাহিনী ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ চালিয়ে জিম্মিদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। এই অভিযানে পাঁচজন সন্ত্রাসী নিহত হয় এবং ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

নিহতদের মধ্যে ছিলেন— ৯ জন ইতালির নাগরিক, ৭ জন জাপানের নাগরিক, ১ জন ভারতীয়, ৩ জন বাংলাদেশি (এর মধ্যে একজনের দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল) এবং ২ জন পুলিশ কর্মকর্তা।

আইএস এ হামলার দায় স্বীকার করলেও সরকার ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এর পেছনে দেশীয় জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করেন। হামলাকারীদের মধ্যে পরিচিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের তরুণদের জড়িত থাকা দেশের জন্য ছিল এক চরম অশনিসংকেত।

এই ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী সারা দেশে জঙ্গিবিরোধী অভিযান জোরদার করে এবং একাধিক সফল অভিযান পরিচালনা করে নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার বা নিহত করে।

প্রতিবছর এই দিনটি বিভিন্নভাবে স্মরণ করে নিহতদের পরিবার, বিদেশি দূতাবাস ও সাধারণ মানুষ। এটি দেশের জঙ্গিবাদবিরোধী লড়াইয়ের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।