ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আদালতে হাবিবুল আউয়াল

রাজনৈতিক সরকারের অধীনে হাজার বছরেও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৭:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫
  • / 229

আদালতে হাবিবুল আউয়াল

“রাজনৈতিক সরকারের অধীনে এক হাজার বছরেও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়”—ঢাকার একটি আদালতে রিমান্ড শুনানিকালে এমন মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি আরও স্বীকার করেন, ২০২৪ সালে তিনি ‘ডামি নির্বাচন’ পরিচালনা করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে শুনানিতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “আমাকে কেউ টাকা দেয়নি, আমিও কারও কাছ থেকে নেইনি। তবে রাজনৈতিক সমঝোতার অভাবে একতরফা নির্বাচন হয়েছে।”

এসময় বিচারক প্রশ্ন তোলেন—নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ভাতা অতীতে যেখানে ২৫-৩০ হাজার টাকা ছিল, সেখানে ২০২৪ সালের নির্বাচনে তা বেড়ে ৪-৫ লাখ টাকা করা হয় কেন? জবাবে হাবিবুল আউয়াল জানান, বিষয়টি তার জানা নেই এবং ৮ লাখ নির্বাচনী কর্মীর কাউকেই তিনি চেনেন না।

বিচারক আরো বলেন, “আপনার সময় আপনি দেশের সেরা অফিসার ছিলেন। নির্বাচনে অনিয়মের দায় নিয়ে পদত্যাগ করেননি কেন?”
জবাবে তিনি বলেন, “পদত্যাগ করলে ভালো হতো। তবে বঙ্গবন্ধুও ক্ষমতার লোভ সামলাতে পারেননি, তার সময়েও কারচুপি হয়েছে। বাংলাদেশে সংস্কার না হলে হাজার বছরেও নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।”

রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী দাবি করেন, নির্বাচনের আগে হাবিবুল আওয়াল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছেন, “আপনি শুধু টাকা দিন, আমি আপনাকে বিজয়ী ঘোষণা করে দেব।” তিনি আরও বলেন, আসামি নির্বাচনী বরাদ্দের টাকার হিসাব দেননি এবং ওই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, “তিনি একজন ৭০ বছর বয়সী ব্যক্তি। ফ্যাসিস্ট হটাতে গিয়ে যেন আমরা নিজেরাই ফ্যাসিস্টে পরিণত না হই।” আদালত এ যুক্তি আমলে না নিয়ে হাবিবুল আউয়ালের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত, ২২ জুন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সালাউদ্দিন খান রাজধানীর একটি থানায় অভিযোগ করেন, সাবেক নির্বাচন কমিশন জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ভীতির পরিবেশ তৈরি করে একতরফা নির্বাচন করেছে। পরে মামলায় রাষ্ট্রদ্রোহ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ধারা যুক্ত হয়। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ১৫ জন সাবেক নির্বাচন কমিশনারসহ ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আদালতে হাবিবুল আউয়াল

রাজনৈতিক সরকারের অধীনে হাজার বছরেও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়

সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৭:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫

“রাজনৈতিক সরকারের অধীনে এক হাজার বছরেও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়”—ঢাকার একটি আদালতে রিমান্ড শুনানিকালে এমন মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি আরও স্বীকার করেন, ২০২৪ সালে তিনি ‘ডামি নির্বাচন’ পরিচালনা করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে শুনানিতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “আমাকে কেউ টাকা দেয়নি, আমিও কারও কাছ থেকে নেইনি। তবে রাজনৈতিক সমঝোতার অভাবে একতরফা নির্বাচন হয়েছে।”

এসময় বিচারক প্রশ্ন তোলেন—নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ভাতা অতীতে যেখানে ২৫-৩০ হাজার টাকা ছিল, সেখানে ২০২৪ সালের নির্বাচনে তা বেড়ে ৪-৫ লাখ টাকা করা হয় কেন? জবাবে হাবিবুল আউয়াল জানান, বিষয়টি তার জানা নেই এবং ৮ লাখ নির্বাচনী কর্মীর কাউকেই তিনি চেনেন না।

বিচারক আরো বলেন, “আপনার সময় আপনি দেশের সেরা অফিসার ছিলেন। নির্বাচনে অনিয়মের দায় নিয়ে পদত্যাগ করেননি কেন?”
জবাবে তিনি বলেন, “পদত্যাগ করলে ভালো হতো। তবে বঙ্গবন্ধুও ক্ষমতার লোভ সামলাতে পারেননি, তার সময়েও কারচুপি হয়েছে। বাংলাদেশে সংস্কার না হলে হাজার বছরেও নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।”

রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী দাবি করেন, নির্বাচনের আগে হাবিবুল আওয়াল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছেন, “আপনি শুধু টাকা দিন, আমি আপনাকে বিজয়ী ঘোষণা করে দেব।” তিনি আরও বলেন, আসামি নির্বাচনী বরাদ্দের টাকার হিসাব দেননি এবং ওই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, “তিনি একজন ৭০ বছর বয়সী ব্যক্তি। ফ্যাসিস্ট হটাতে গিয়ে যেন আমরা নিজেরাই ফ্যাসিস্টে পরিণত না হই।” আদালত এ যুক্তি আমলে না নিয়ে হাবিবুল আউয়ালের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত, ২২ জুন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সালাউদ্দিন খান রাজধানীর একটি থানায় অভিযোগ করেন, সাবেক নির্বাচন কমিশন জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ভীতির পরিবেশ তৈরি করে একতরফা নির্বাচন করেছে। পরে মামলায় রাষ্ট্রদ্রোহ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ধারা যুক্ত হয়। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ১৫ জন সাবেক নির্বাচন কমিশনারসহ ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।