কাউন্দিয়া ঘাটে নারী যাত্রী নিখোঁজ, নৌকার মাঝিদের বেপরোয়া আচরণ
- সর্বশেষ আপডেট ০১:২২:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫
- / 477
সাভারের তুরাগ নদীতে কাউন্দিয়া ইউনিয়নের ঘাট প্রাঙ্গণে শাহ সিমেন্ট কোম্পানির একটি ভলগেটের পেছনে মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টায় ভয়াবহ এক নৌকাডুবির ঘটনায় রিপা (৩৩) নামে এক নারী যাত্রী নিখোঁজ হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধারে তৎপরতা চালালেও এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মাঝি জাকিরের নৌকায় কাউন্দিয়া থেকে দিয়াবাড়ি যাওয়ার পথে রিপাসহ মোট পাঁচজন যাত্রী (চারজন পুরুষ) ওঠেন। নদীর মাঝপথে শাহ সিমেন্টের ভলগেটের কাছে পৌঁছালে নৌকাটি ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায় এবং সবাই নদীতে পড়ে যান। পুরুষ যাত্রীরা সাঁতার কেটে রক্ষা পেলেও রিপা তৎক্ষণাৎ নিখোঁজ হন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলী আজগর অভিযোগ করেন, “মাত্র কয়েকদিন আগেও একই স্থানে ট্রলার ও নৌকার ধাক্কায় দুটি শিশু ও এক নারী প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। যাত্রীরা মাঝিকে সাবধান করতে বললেও তারা কাউকে তোয়াক্কা করে না, বরং আজেবাজে কথা বলেন।”
অন্য বাসিন্দা ফয়সাল বলেন, “ব্রিজ না থাকায় প্রতিদিন কাউন্দিয়া ঘাট থেকে দিয়াবাড়ি ঘাট পর্যন্ত ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ নৌকায় যাতায়াত করেন। প্রতিবছরই এমন দুর্ঘটনা ঘটে, মানুষ মারা যায়। সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হওয়ায় মাঝিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”
এলাকাবাসী দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে তুরাগ নদীর ওপর জরুরি ভিত্তিতে একটি সেতু নির্মাণ এবং বেপরোয়া নৌকার মাঝিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুয়েল মিয়া বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে জানান, তারা প্রাথমিকভাবে বিষয়টি জেনে নৌ থানাকে অবহিত করেছেন এবং নিখোঁজ নারীর উদ্ধারে কাজ চলছে। তিনি বলেন, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নৌকার মাঝিদের আইনের আওতায় আনার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
একইভাবে আমিনবাজার নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসিবুর রহমানও বেপরোয়া মাঝিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের কথা জানিয়েছেন।
নিখোঁজ রিপার মেয়ে আফরোজা ও স্বজনরা মাঝি জাকিরের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। ঘটনার পর থেকে নৌকার মাঝি জাকির পলাতক রয়েছেন।































