নীরব ভূমিকায় উপজেলা প্রশাসন
টেকনাফে খালের জমি ভরাট করে একের পর এক স্থাপনা নির্মাণ
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৩২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ জুন ২০২৫
- / 223
কক্সবাজারের টেকনাফ পৌর শহরের নাফ নদীর তিন ভাগে বিভক্ত প্রাকৃতিক খালগুলো দিনে দিনে নালায় পরিণত হচ্ছে। একসময় এই খালগুলোতে মাছ আহরণ করে অনেক হতদরিদ্র মানুষের সংসার চলত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খালগুলো পাহাড়ি পানির ঢলের সাথে মাটি আসা ও কিছু অসাধু ব্যক্তির দখলে ভরাট হয়ে যাচ্ছে, যার কারণে সাধারণ মানুষের আয় বন্ধ হওয়ার পথে। বর্ষাকালে ভারী বর্ষণে পাহাড়ি পানির ঢল খাল থেকে নদীতে নেমে যেতে না পারায় বন্যার আশঙ্কাও দেখা দিচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের জমি ভরাট করে একের পর এক স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসনের নজর এ বিষয়ে নেই। বর্ষাকালে খালের পাশের বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়ছেন এবং বন্যার ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক রফিকুল ইসলাম জানান, গ্রীষ্মের পরে বর্ষাকালে পাহাড় থেকে পানি ও মাটি খালে নামার ফলে দীর্ঘদিন অবহেলায় খালগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে পানি নদীতে যেতে না পেরে আশেপাশের বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া কেউ কেউ খালের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছে এবং ময়লা-আবর্জনা ফেলাও খাল ভরাটের কারণ হচ্ছে। ফলে বৃষ্টির দিনে আশেপাশের মানুষের বসতভিটায় বন্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, সরকার নিয়মিত খাল খনন ও পরিচ্ছন্নতা করলে এ সমস্যা অনেকটাই কমে যেত এবং কেউ সহজে খালের জমি দখল করার সাহস পেত না।
খালের জমি ভরাট ও দখলের বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, “খাল খনন ও পরিচ্ছন্নতা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব। তারা সময় সময় প্রকল্প নিয়ে খাল খনন করে। যদি প্রয়োজন মনে হয়, আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দিয়ে খাল পরিষ্কারের ব্যবস্থা করাতে পারি। উপজেলা প্রশাসনও প্রয়োজন হলে খালের পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নেবে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের টেকনাফ পিওর শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, “স্থানীয় বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি লিখিত আবেদন আসে, আমরা সরেজমিনে খাল খননের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করি। মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”

































