রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে বিরোধ
সত্য-মিথ্যা নাকি কৌশলের খেলা?
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
- / 155
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেন বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। একদিকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বর্তমান প্রক্রিয়া পরিবর্তনে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানাচ্ছেন, বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।
তাহলে প্রশ্ন উঠেছে—কে মিথ্যা বলছেন? আবার কে সত্য বলছেন? অধ্যাপক আলী রিয়াজ নাকি সালাউদ্দিন আহমেদ। এমনকি তারা কি নতুন কৌশল নিয়েছেন সেটা নিয়েও কথা বলছেন অনেকে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ঐকমত্য সংলাপের পর আলী রীয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা স্পষ্ট হয়েছে। অধিকাংশ দল মনে করছে বর্তমান ধারা পরিবর্তন দরকার। সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ সংশোধনের ব্যাপারে সবাই একমত।”
তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অধিকাংশ রাজনৈতিক দল উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে মত দিয়েছে।
অপরদিকে, একই দিনে বৈঠক শেষে ভিন্ন বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনের বিষয়ে এখনো কোনো সমাধান আসেনি। নির্বাচন প্রক্রিয়া, ক্ষমতা ও নির্বাচকদের কাঠামো নিয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে।”
বিএনপির পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে—রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেবেন নির্বাচিত সংসদ সদস্য, ১০০ জন উচ্চকক্ষের সদস্য ও ১০০ জন নারী আসনের প্রতিনিধি। তবে দ্বিকক্ষ পদ্ধতির বিষয়ে দলটির আপত্তি রয়েছে। সালাহউদ্দিন জানান, পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে ভোট হলে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন কঠিন হবে, তাই তা তারা সমর্থন করে না।
এই সাংঘর্ষিক অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এখনই চূড়ান্ত ঐকমত্যের দাবি করা বাস্তবসম্মত নয়। বরং আলোচনার মধ্যে মতানৈক্য থাকাটাই স্বাভাবিক।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—আলী রীয়াজের কথায় কি অতিরঞ্জন রয়েছে, নাকি সালাহউদ্দিন রাজনৈতিক কৌশল থেকেই ভিন্ন বার্তা দিচ্ছেন?
সব কিছু পরিষ্কার হতে পারে আগামী রোববার (২২ জুন), যেদিন পরবর্তী দফার সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান তখন আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
































