সেই ব্যবসায়ীকে বাড়ির সামনে ফেলে গেল অপহরণকারীরা
- সর্বশেষ আপডেট ০২:১৪:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫
- / 157
কুষ্টিয়ায় নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী মো. জাহাবক্সকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে গেছে অপহরণকারীরা।
সোমবার (১৬ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি তাঁর চোখ ও মুখ বেঁধে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যায়।
এ তথ্য পুলিশ ও পরিবার নিশ্চিত করেছে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাবক্স জীবিত ফিরে এসেছেন, এতেই তারা সন্তুষ্ট। তাঁদের কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। বর্তমানে তিনি কারও সঙ্গে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই বলেও জানানো হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার জাহাবক্সের ছেলে প্রান্ত বলেন, “বাবা ফিরে এসেছেন। রাত ১২টার দিকে বাড়ির বারান্দায় কিছু একটা পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে বাইরে বের হয়ে দেখি বাবা অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। তাঁর মুখ ও চোখ বাঁধা ছিল। পরে জানতে পারি, দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে তাঁকে নামিয়ে দিয়ে গেছে। বাবাকে মারধর করা হয়েছে, মাথায় দাগ রয়েছে। তিনি এখন কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।”
তিনি আরও জানান, “অপহরণের রাতে এক ব্যক্তি স্যালাইন দেওয়ার কথা বলে বাবাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়েছিল। বাবা তাঁকে পরিচিত কেউ মনে করেছিলেন। বাইরে বেরিয়ে দেখেন অপরিচিত। প্রথমে একজন থাকলেও পরে আরও একজন আসে। দোকান খোলার সঙ্গে সঙ্গে পেছন থেকে বাবার মুখ, চোখ ও হাত বেঁধে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে বাবা আর কিছু বলতে পারেননি। দোকানের ক্যাশবাক্সের নিচে যে টাকা ছিল, তাও তারা নিয়ে গেছে। রাতেই বাড়িতে থানার পুলিশ এসে কথা বলে গেছে। আমাদের কিছু দরকার নেই, কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও নেই। বাবা জীবিত ফিরে এসেছেন, এটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট।”
এর আগে, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজ বাড়ির সামনে থেকে আব্দালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলী হায়দার স্বপনকে থানায় নেয় পুলিশ।
অপহরণের শিকার মো. জাহাবক্স (৩৮) সদর উপজেলার আব্দালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম আব্দালপুর গ্রামের মৃত কুদ্দুস আলীর ছেলে। তিনি বাড়ির পাশেই প্রান্ত স্টোর নামে একটি পাইকারি মুদির দোকান পরিচালনা করেন।
এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “জাহাবক্সকে উদ্ধারে পুলিশ, ডিবি ও অন্যান্য বাহিনী সক্রিয় ছিল। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। বর্তমানে পুলিশের তত্ত্বাবধানে আছেন। সুস্থ হলে তাঁকে বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”
আটক ইউপি চেয়ারম্যান আলী হায়দারের বিষয়ে ওসি আরও জানান, “তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।”



































