ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৫ রাজাকারকে দা দিয়ে কোপানো বীর মুক্তিযোদ্ধা সখিনা বেগম আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫
  • / 277

বীর মুক্তিযোদ্ধা সখিনা বেগম

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দা দিয়ে কুপিয়ে পাঁচ রাজাকারকে হত্যা করে সাহসিকতার নজির স্থাপনকারী নারী বীর মুক্তিযোদ্ধা সখিনা বেগম আর নেই। বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মঙ্গলবার (১৭ জুন) ভোরে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার হিলচিয়া ইউনিয়নের বড়মাইপাড়া গ্রামে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।

সখিনা বেগমের জন্ম কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার গুরুই গ্রামে। বাবা সোনাফর মিয়া ও মা দুঃখী বিবির সন্তান সখিনা ছিলেন নিঃসন্তান। মুক্তিযুদ্ধের আগেই তার স্বামী কিতাব আলী মারা যান। পরে ভাগ্নি ফাইরুন্নেছা আক্তারের কাছে বড়মাইপাড়ায় আশ্রয় নেন এবং সেখানেই প্রায় ৪০ বছর কাটান।

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সখিনা বসু বাহিনীর নেতৃত্বাধীন এক মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে রান্নার কাজ শুরু করেন। কিন্তু তার ভেতরে লুকিয়ে ছিল প্রতিশোধের আগুন। কারণ, তার প্রিয় ভাগ্নে মতিউর রহমান সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন পাকিস্তানি হানাদার ও রাজাকারদের হাতে। এরপরই সখিনা গোপনে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকেন এবং একসময় ধরা পড়েন শত্রুর হাতে।

চমকপ্রদভাবে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে আসেন, সঙ্গে নিয়ে আসেন একটি ধারালো দা। সেই দা দিয়েই নিকলীর পাঁচজন রাজাকারকে একে একে কুপিয়ে হত্যা করেন। তার সেই দা এখন ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে, যা তার আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার স্থায়ী সাক্ষী।

স্থানীয়রা জানান, সখিনা শুধু একজন যোদ্ধা নন, ছিলেন ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষ্য। প্রতিবেশীদের কাছে তিনি মুক্তিযুদ্ধের অনেক অজানা কথা শোনাতেন। জানাজা শেষে তাকে নিজ গ্রাম গুরুইয়ের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

সখিনা বেগমের মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। তাকে নিয়ে গর্বিত তার গ্রামবাসী, যিনি এক সময় ভয়ংকর শত্রুর মুখোমুখি হয়েও মাথা নত করেননি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

৫ রাজাকারকে দা দিয়ে কোপানো বীর মুক্তিযোদ্ধা সখিনা বেগম আর নেই

সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দা দিয়ে কুপিয়ে পাঁচ রাজাকারকে হত্যা করে সাহসিকতার নজির স্থাপনকারী নারী বীর মুক্তিযোদ্ধা সখিনা বেগম আর নেই। বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মঙ্গলবার (১৭ জুন) ভোরে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার হিলচিয়া ইউনিয়নের বড়মাইপাড়া গ্রামে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।

সখিনা বেগমের জন্ম কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার গুরুই গ্রামে। বাবা সোনাফর মিয়া ও মা দুঃখী বিবির সন্তান সখিনা ছিলেন নিঃসন্তান। মুক্তিযুদ্ধের আগেই তার স্বামী কিতাব আলী মারা যান। পরে ভাগ্নি ফাইরুন্নেছা আক্তারের কাছে বড়মাইপাড়ায় আশ্রয় নেন এবং সেখানেই প্রায় ৪০ বছর কাটান।

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সখিনা বসু বাহিনীর নেতৃত্বাধীন এক মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে রান্নার কাজ শুরু করেন। কিন্তু তার ভেতরে লুকিয়ে ছিল প্রতিশোধের আগুন। কারণ, তার প্রিয় ভাগ্নে মতিউর রহমান সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন পাকিস্তানি হানাদার ও রাজাকারদের হাতে। এরপরই সখিনা গোপনে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকেন এবং একসময় ধরা পড়েন শত্রুর হাতে।

চমকপ্রদভাবে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে আসেন, সঙ্গে নিয়ে আসেন একটি ধারালো দা। সেই দা দিয়েই নিকলীর পাঁচজন রাজাকারকে একে একে কুপিয়ে হত্যা করেন। তার সেই দা এখন ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে, যা তার আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার স্থায়ী সাক্ষী।

স্থানীয়রা জানান, সখিনা শুধু একজন যোদ্ধা নন, ছিলেন ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষ্য। প্রতিবেশীদের কাছে তিনি মুক্তিযুদ্ধের অনেক অজানা কথা শোনাতেন। জানাজা শেষে তাকে নিজ গ্রাম গুরুইয়ের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

সখিনা বেগমের মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। তাকে নিয়ে গর্বিত তার গ্রামবাসী, যিনি এক সময় ভয়ংকর শত্রুর মুখোমুখি হয়েও মাথা নত করেননি।