সিলেটে কমিশনকে অসহযোগিতাসহ প্রতিপক্ষকে মারধরের অভিযোগ
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৪:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৫
- / 246
সিলেটে দুই পরিবারের বাড়ির সীমানা সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি করতে আদালতের নির্দেশে আসা কমিশনকে অসহযোগিতা করাসহ প্রতিপক্ষের হাত থেকে মোবাইল ছিনিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাহ রুম্মানুল হক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গত ৮ মার্চ সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার ইউনিয়নের সতি ঘর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
কমিশনে আসা সিলেট জজ আদালতের সিভিল কোর্ট কমিশনার মো. আওলাদ হোসেন রেজা কমিশনকে অসহযোগিতা করার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও মারধরের বিষয়ে তিনি দেখেননি বলে জানান। ওই সময় তিনি পরিস্থিতি ঘোলাটে ভেবে দ্রুত সেখান থেকে চলে আসেন।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মারুফ আহমেদ বাদী হয়ে সিলেট জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ভুক্তভোগী মারুফ আহমেদ দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার ইউনিয়নের সতি ঘর গ্রামের হারুণ মিয়ার ছেলে এবং শাহ রুম্মানুল হক একই এলাকার শফিকুল বারির ছেলে।
ভুক্তভোগী মারুফ আহমদের অভিযোগে জানা যায়, তার সাথে পার্শ্ববর্তী বাড়ীর রুম্মানুল বাড়ির সীমানা সংক্রান্ত বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিষয়ে আদালতে মামলা করা হলে আদালত বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য সরেজমিন তদন্ত ও মাপঝোপ করে উভয় পক্ষকে সীমানা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে কমিশন পাঠায়।
কমিশনে আসা সিলেট জজ আদালতের সিভিল কোর্ট কমিশনার মো. আওলাদ হোসেন রেজা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আদালতের নির্ধারিত কাগজে স্বাক্ষর করতে বলেন। তবে ওই কাগজে মারুফ স্বাক্ষর করলেও রুম্মানুল অস্বীকৃতি জানায়। কমিশন তার কাজ শেষ করে বিষয়টি উভয় পক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য রুম্মানুলদের ডাকার জন্য একটু সামনের দিকে এগিয়ে যান এ সময় মারুফও তার সাথে সাথে এগিয়ে যায়। কমিশনার রেজা রুম্মানুলকে বাড়ীর সীমানা বুঝে নেওয়ার জন্য আসতে বললে তিনি সেখানে যাবেন না এবং কোন কিছু বুঝে নিবেন না বলে জানান। তার স্বীকৃতি জানানো বিষয়গুলো মারুফ তার মোবাইল ফোনে ধারণ করতে গেলে সে সময় রুম্মানুল তার হাত থেকে ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। মারুফের অভিযোগ, ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় তাকে রুমানুল জোরপূর্বক ঘরে ঢুকিয়ে মারধর করে। পরে আশেপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে।
মারুফ আরো বলেন, তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও তার মোবাইল ফোনটি ফেরত দেয়নি রুমানুল। পরে এ ঘটনায় মারুফ আহমদ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন এবং পরবর্তীতে শাহ রুম্মানুল হকের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক পঞ্চায়েত সদস্য বলেন, কমিশনের নির্দেশে মারুফ ছবি তুলতে গেলে রুমানুল ছুটে এসে তার গালে দুটি চড় বসিয়ে দেয় এবং মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেয়। এ অবস্থায় মারুফ সেটি ফেরত নিতে দস্তাদস্তি শুরু করে। আমরা বাড়ী অপর পাশে থাকায় এরপর কি হয়েছে তা আর বলতে পারবনা। তবে গ্রামের অন্যান্য মুরব্বিসহ পঞ্চায়েত সদস্যরা মোবাইল ফেরত চাই সেটি সে শুধু পুলিশের কাছেই দিবে অন্য কারো কাছে নয়।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ও পঞ্চায়েত সদস্য লিলু মেম্বার বলেন, মোবাইল ফোনটি ফেরত দেওয়ার জন্য আমি রুম্মানুলকে কয়েকবার বলেছি কিন্তু সে পুলিশের কাছে ছাড়া অন্য কারো কাছে দিবে না। পরে থানার ওসির হস্তক্ষেপে মোবাইলটি মাহফুজ ফেরত পায়নি।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায, রুম্মানুল অতিশয় চালাক প্রকৃতির একজন মানুষ। অপর দিকে মারুফ গো-বেচারা টাইপের। রুম্মানুলের দুই ভাই শাহ মিজানুল হক ও শাহ এনামুল হক প্রবাসে থাকে। ভাইদের মধ্যে কেবল মাত্র রুম্মানুল বাড়ীতে থাকে। প্রবাসী দুই টাকা পাঠায় আর সে কোন অজুহাতে মানুষের নামে মামলা করে বেড়ায়। এছাড়া, তার প্রবাসী দুই ভাই—শাহ মিজানুল হক ও শাহ এনামুল হক—ফেসবুকসহ তাদের পরিচালিত ‘মোগলাবাজার প্রতিদিন’ নামক পত্রিকায় মারুফ আহমেদ ও তার চাচাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন।
গ্রামবাসীরা আরও জানায়, রুম্মানুল টাকার জোড়ে সবকিছু করতে চান তিনি। টাকা দিয়ে কিভাবে থানা ও আদালত কিনে ফেলা যায় সেটা সে ছাড়া আর কেউ ভালো জানেনা। তাছাড়া শাহ রুম্মানুল হক সম্পর্কে গ্রামবাসী আরও জানায়, তিনি বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিব ও সিলেটের মেয়র আনোয়ারুজ্জামানের হয়ে কাজ করতেন। বিগত সরকারের সময় এই রুম্মানুল গ্রামের পঞ্চায়েত ও মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাদেরকে হয়রানি করেছেন।
আওয়ামী সরকারের আমলে তার ক্ষমতার দাপটে এলাকাবাসী বিভিন্ন ভাবে হয়রানীর শিকার হয়েছেন। তার অত্যচারে সাধারন মানুষ অতিষ্ট । এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ব্যাবস্থা গ্রহনের জোর দাবী করেন।
এছাড়া, বাংলাদেশ রেলওয়ের নিজস্ব ভূমি আত্মসাৎ করে নিজের বাড়ির জন্য রাস্তা নির্মাণ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রতিবেদন রয়েছে। এ ব্যাপারে শাহ রুম্মানুল হকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি তার বিরুদ্ধে করা সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে জানান। তিনি কমিশন যখন আসে তখন আমি বাড়ীর ভিতর ছিলাম এবং আরেক জন কমিশনের সাথে কথা বলছিলাম বলে দাবি করেন।
































