প্রায় ৭ লাখ ভোটার স্থানান্তর, বিএনপির আপত্তি
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 29
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে প্রায় ৬.৭ লাখ ভোটারের স্থানান্তর অনুমোদন দেওয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ নভেম্বরের মধ্যে ৭ লাখের বেশি স্থানান্তরের আবেদন পড়েছে। ঢাকার ২০টি আসনে স্থানান্তরিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার।
বিএনপি অভিযোগ করেছে, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী নির্দিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় জয়ের নিশ্চয়তার জন্য ভোটার স্থানান্তরের পরিকল্পনা করেছে। দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, “বিপুলসংখ্যক ভোটার অস্বাভাবিকভাবে স্থানান্তরিত হয়েছে। কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান সঠিক নয়।”
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় স্থানান্তরিত ভোটারের সংখ্যা ২ থেকে ৩ হাজারের মধ্যে। তবে বিএনপি এই তথ্যকে অপ্রমাণিত বলছে এবং এলাকাভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য দাবি করেছে।
ঢাকার বিভিন্ন থানায় স্থানান্তরের পরিসংখ্যানও প্রকাশ হয়েছে। মিরপুরে সর্বাধিক ১,৬২৭ জন ভোটার স্থানান্তরিত হয়েছে, ডেমরায় ১,৪৪৪, পল্লবীতে ১,২৩৫। কেরানীগঞ্জে ১,২০৭, বাড্ডায় ৮৫১, কাফরুলে ৮১১, সাভারে ৭৭১, খিলগাঁও ৭৪২ এবং যাত্রাবাড়ীতে ৭১৭ ভোটার স্থানান্তরিত হয়েছে।
ঢাকার মোট ২০টি আসনে ভোটার সংখ্যা ১৩তম সংসদের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকা-১-এ ভোটার ৩১,৫৩১ জন বেড়ে ৫,৪৫,১৪০ জনে দাঁড়িয়েছে, ঢাকা-২-এ কমেছে ৫৫৮,৯৫৮ থেকে ৪১৯,২১৫ জনে। অন্যান্য আসনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে, যেমন ঢাকা-৪ ১০৭,৯২৯, ঢাকা-৭ ১৩৬,২৮৭, ঢাকা-১০ ৬৩,৭২৭ এবং ঢাকা-১৪ ৩৭,৮৩২।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলেছেন, ভোটার বৃদ্ধির পাশাপাশি নির্বাচনি এলাকাগুলোর সীমানা পরিবর্তন এবং নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তিই প্রধান কারণ। উল্লেখযোগ্য সীমানা পরিবর্তন হয়েছে ঢাকা-২, ঢাকা-৪, ঢাকা-৫, ঢাকা-৭, ঢাকা-১০ এবং ঢাকা-১৪ আসনে, যা ভোটার সংখ্যালঘু বা বর্ধনের মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
বিএনপির অভিযোগ ও কমিশনের জবাবের এই অবস্থায় নির্বাচনের আগে ভোটার স্থানান্তর নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে।




































