সরকারের উদ্যোগে প্রথম সমন্বিত শিক্ষা আইন প্রণয়নের পথে
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 11
শিক্ষা ব্যবস্থা পুরো দেশ জুড়ে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার লক্ষ্যে সরকার প্রথমবারের মতো সমন্বিত শিক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আইনটির মূল লক্ষ্য শিক্ষাকে নাগরিকের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার।
শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার আজ সচিবালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) একান্ত সাক্ষাতকারে বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলছি, শিক্ষা একটি অধিকার। কিন্তু এতদিন শিক্ষাকে অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এমন কোনো সমন্বিত আইন ছিল না। এই আইন প্রথমবার সেই শূন্যতা পূরণ করছে।” তিনি জানান, আইন নিজে বিস্তারিত নীতিমালা নয়, বরং দিকনির্দেশনা দেয়; ভবিষ্যতে বিধিমালা ও নীতিমালার মাধ্যমে এটি আরও কার্যকর হবে।
আইনটি তড়িঘড়ি তৈরি করা হয়েছে—এমন অভিযোগকে তিনি নাকচ করে বলেন, “এটি দীর্ঘ আলোচনার ফল। মাঠপর্যায়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রশাসক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন জেলার অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আইন করা রান্নার মতো; উপকরণ জোগাড়ের প্রস্তুতি আমরা করেছি।”
প্রস্তাবিত আইনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (ইউআইএন) চালু করা, অপ্রয়োজনীয় ও মানহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একত্রিতকরণ, কোচিং সেন্টার ও নোটবই নির্ভরতা ধাপে ধাপে কমানো, জাতীয় শিক্ষা একাডেমী প্রতিষ্ঠা, কারিগরি, আইসিটি ও এআইভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণ, এবং শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও মানবিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া। এছাড়া মানসিক বিকাশ, নৈতিকতা, মানবাধিকার ও নিরাপত্তাকে আইনে অন্তর্ভুক্ত করে যৌন ও মানসিক নিপীড়নকে অসদাচরণ হিসেবে চিহ্নিত ও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
সি আর আবরার বলেন, “শিক্ষা শুধু পরীক্ষার ফল নয়। একজন শিক্ষার্থী যেন মানবিক ও নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে, সেটাই এই আইনের লক্ষ্য।” তিনি ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বরকে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন, যাতে প্রাইমারি থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত তথ্য এক ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকে এবং ভর্তি বা সার্টিফিকেট যাচাইয়ের সময় বারবার যাচাইয়ের প্রয়োজন না হয়।
আইনে বাংলা ভাষার প্রাধান্য রাখা হয়েছে, তবে ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষার শিক্ষাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, বিশেষ করে আইসিটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বৃদ্ধি করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, আইন নিখুঁত নয় এবং উন্নয়নের সুযোগ আছে। তবে এটিকে তড়িঘড়ি বা অগ্রহণযোগ্য বলা উচিত নয়। বাংলাদেশে এটি প্রথমবারের মতো সমন্বিত শিক্ষা আইন হওয়াই এর সবচেয়ে বড় অর্জন। আগে শিক্ষা পরিচালিত হতো বিচ্ছিন্ন নীতিমালা ও বিধিমালার মাধ্যমে; নতুন আইন সেই সব বিষয়কে একত্র করে একটি কার্যকর কাঠামো তৈরি করার চেষ্টা করছে।































