ঢাকা ১২:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইশতেহারে পৃথক সড়ক নিরাপত্তা আইন অন্তর্ভুক্তির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৭:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 52

ইশতেহারে পৃথক সড়ক নিরাপত্তা আইন অন্তর্ভুক্তির দাবি। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে একটি পৃথক সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে রোড সেফটি কোয়ালিশন বাংলাদেশ।
রবিবার (১ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবহন খাতে প্রথম আইন ছিল ১৯৮৩ সালের মোটর ভেহিকলস অর্ডিন্যান্স। ওই আইনে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বহু ঘাটতি থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এ খাতে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে ২০১২ সালে একটি খসড়া আইন প্রণয়ন করা হয়। পরে ২০১৬ সালে সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে ‘সড়ক পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা আইন’ নামে একটি খসড়া চূড়ান্ত হলেও তা তখন পাশ করা সম্ভব হয়নি।

বক্তারা জানান, ২০১৮ সালে ঢাকায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মোটর ভেহিকলস অর্ডিন্যান্স বাতিল করে ‘সড়ক পরিবহন আইন–২০১৮’ প্রণয়ন করা হয়। তবে ওই আইনে সড়ক নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলাদাভাবে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এবং সময়মতো বিধিমালা জারি না হওয়ায় আইনটির কার্যকর প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ২০২২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ‘সড়ক পরিবহন বিধিমালা–২০২২’ জারি করে। কিন্তু বিধিমালায় সড়ক নিরাপত্তা বিষয়গুলো সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ থাকায় সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ও আহত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ সড়ক দুর্ঘটনা। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী প্রতিবছর গড়ে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বেসরকারি সংস্থা ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী এ সংখ্যা আরও বেশি। প্রতিবছরই সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে, যা অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য খাতে বড় চাপ সৃষ্টি করছে।

বক্তারা বলেন, দেশের বিদ্যমান সড়ক পরিবহন আইন–২০১৮ মূলত পরিবহন ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে প্রণীত। এতে বেপরোয়া গতি, হেলমেট ও সিটবেল্ট ব্যবহার, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা তদন্ত ও তথ্য সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। পাশাপাশি জাতিসংঘ ঘোষিত ‘ডিকেড অব অ্যাকশন ফর রোড সেফটি ২০২১–২০৩০’-এর পাঁচটি মূল স্তম্ভের সঙ্গেও বর্তমান আইন পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইশতেহারে পৃথক সড়ক নিরাপত্তা আইন অন্তর্ভুক্তির দাবি

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৭:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে একটি পৃথক সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে রোড সেফটি কোয়ালিশন বাংলাদেশ।
রবিবার (১ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবহন খাতে প্রথম আইন ছিল ১৯৮৩ সালের মোটর ভেহিকলস অর্ডিন্যান্স। ওই আইনে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বহু ঘাটতি থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এ খাতে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে ২০১২ সালে একটি খসড়া আইন প্রণয়ন করা হয়। পরে ২০১৬ সালে সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে ‘সড়ক পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা আইন’ নামে একটি খসড়া চূড়ান্ত হলেও তা তখন পাশ করা সম্ভব হয়নি।

বক্তারা জানান, ২০১৮ সালে ঢাকায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মোটর ভেহিকলস অর্ডিন্যান্স বাতিল করে ‘সড়ক পরিবহন আইন–২০১৮’ প্রণয়ন করা হয়। তবে ওই আইনে সড়ক নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলাদাভাবে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এবং সময়মতো বিধিমালা জারি না হওয়ায় আইনটির কার্যকর প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ২০২২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ‘সড়ক পরিবহন বিধিমালা–২০২২’ জারি করে। কিন্তু বিধিমালায় সড়ক নিরাপত্তা বিষয়গুলো সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ থাকায় সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ও আহত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ সড়ক দুর্ঘটনা। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী প্রতিবছর গড়ে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বেসরকারি সংস্থা ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী এ সংখ্যা আরও বেশি। প্রতিবছরই সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে, যা অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য খাতে বড় চাপ সৃষ্টি করছে।

বক্তারা বলেন, দেশের বিদ্যমান সড়ক পরিবহন আইন–২০১৮ মূলত পরিবহন ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে প্রণীত। এতে বেপরোয়া গতি, হেলমেট ও সিটবেল্ট ব্যবহার, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা তদন্ত ও তথ্য সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। পাশাপাশি জাতিসংঘ ঘোষিত ‘ডিকেড অব অ্যাকশন ফর রোড সেফটি ২০২১–২০৩০’-এর পাঁচটি মূল স্তম্ভের সঙ্গেও বর্তমান আইন পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।