ঢাকা ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
এমএসএফ এর জরিপ

নির্বাচনী সহিংসতার শিকার ৫০৯ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৭:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 37

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী সহিংসতায় ৬৪ ঘটনায় সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৫০৯ জন। তাদের মধ্যে চারজন নিহত হয়েছেন। সহিংসতার ৬৪ টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্বে ১৩, বিএনপি-স্বতন্ত্র প্রার্থী ৯ , গণ অধিকার পরিষদ-স্বতন্ত্র ১, বিএনপি-জামাত সংঘর্ষের ৩৩, বিএনপি-এনসিপি ১টি ঘটনা ঘটেছে। ছয়টি ঘটনায় দুস্কৃতিকারি নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা, ভাংচুর, ককটেল বিষ্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) এর জানুয়ারির মানবাধিকার পরিস্থিতি মনিটরিং প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, এর প্রচারণা শুরুর সময়ে কয়েকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে অর্ন্তদ্বন্দ্ব ও সহিংসতায় হতাহতের এবং দুস্কৃতিকারীদের হাতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সরকার সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধে  সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীকে গণহারে গ্রেফতার করছে।

প্রতিবেদনে জানা যায়, রাজনৈতিক সহিংসতার ২৪ টি ঘটনায় হামলায় সহিংসতার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন ২১৫ জন। আহতদের মধ্যে ২ জন গুলিবিদ্ধ । সহিংসতার ২৪ টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্বে ১৬টি, বিএনপি-আওয়ামী লীগের সংঘর্ষের ২ টি, বিএনপি-জামাত সংঘর্ষের ৫টি ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতার ২৪ টি ঘটনার মধ্যে ১ টি ঘটনায় ভাংচুর হলেও কেউ হতাহত হয়নি।

দুষ্কৃতিকারির দ্বারা নিহত হয়েছেন বিএনপির কর্মী ও সমর্থক ৬ এবং ১০ জন অপমৃত্যুর শিকার হয়েছেন। অপমৃত্যুর শিকার ব্যক্তির মধ্যে ৪ বিএনপির, ২ জামাত, ২ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন আওয়ামী লীগ, ১ কিশোর এবং ১ জন বৃদ্ধা রাজনৈতিক রোষানলে পরে পুড়ে মারা গেছেন।

প্রতিবেদনে আরে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতার ঘটনায় বগুড়াতে ১ টি মামলা হয়েছে। তালিকায় সুনির্দিষ্টভাবে ১২০ এবং অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা ৩২০ জন করা হয়েছে। সারাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সরকারের পতন সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ৬০ নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যার মধ্যে কোটা সংক্রান্ত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও চলতি মাসে সারাদেশে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত ৮১০ এবং ডেভিল হ্যান্ট ফেজ-২ তে গ্রেফতার হয়েছে ২২ হাজার ৫৭ জন।

প্রতিবেদনে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১ নিহত ও ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ ও সেনা হেফাজতে দুইজন মধ্যবয়সী পুরুয়ের মৃত্যুর ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। হেফাজতে দু’টি মৃত্যুর ক্ষেত্রেই পরিবারের অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্যাতনে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ বা সেনা কর্তৃপক্ষের দাবি অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁরা মারা গেছেন। কারা হেফাজতে মোট ১৫ বন্দির মৃত্যু হয়েছে। গত মাসে এ সংখ্যা ছিল মোট ৯ জন। এ মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনা হেফাজতে থাকা অবস্থায় দুইজন আসামির মৃত্যু হয়েছে। সেনা বাহিনী ও পুলিশের নির্যাতনে দুই মধ্যবয়সীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা অগ্রহণযোগ্য ও অনাকাঙ্খিত।

২৫৭টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। যা গত মাসের তুলনায় ১৪টি বেশী। এ মাসে ধর্ষণের ঘটনা ৩৪টি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১১টি, ধর্ষণ ও হত্যা ৩টি। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫ জন প্রতিবন্ধী কিশোরী ও নারী।

উল্লেখ্য , ধর্ষণের শিকার ৩৪ জনের মধ্যে ৬ শিশু, ১১ কিশোরী রয়েছে, অপরদিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২ কিশোরী ও ৯ নারী এবং ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছেন ২ শিশু ও ১ জন। ধর্ষণের চেষ্টা ১৯, যৌন হয়রানি ১৭, শারীরিক নির্যাতনের ৪০টি ঘটনা ঘটেছে।

এ মাসে ১৩ কিশোরী ও ১৯ নারীসহ মোট ৩২ জন আত্মহত্যা করেছেন। এ মাসে অপহরণের শিকার হয়েছেন ৪ কিশোরী, অপরদিকে ৪ কিশোরী নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়াও ৩ শিশু, ৫ কিশোরী ও ২ নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যুসহ মোট ৭৭ জন শিশু, কিশোরী ও নারী হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। যার মধ্যে ৩২ জন শিশু ও কিশোরী রয়েছেন।

প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রতিশোধ, পারিবারিক বিরোধ, যৌতুক, প্রেমঘটিত, হতাশা ও অভিমান ইত্যাদি কারণে এ হত্যাকান্ড ও আত্মহত্যাগুলো সংঘটিত হয়েছে। এ মাসে ১টি শিশু ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা সমাজপতিরা আপোষ করেছেন যা প্রচলিত আইনকে অবজ্ঞা করে বেআইনিভাবে সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার সিদ্ধান্ত। এ সময়ে ৪ মৃত ও ৩ জীবিত মোট ৭ জন নবজাতক শিশুকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে যা অমানবিক ও নিন্দনীয়। এ সমস্ত শিশুদেরকে কি কারণে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা নিরূপনের চেষ্টা করছে না।

নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা যেমন; ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, আত্মহত্যা গত মাসের তুলনায় কিছুটা কমলেও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণ ও হত্যা, শারীরিক নির্যাতন এবং হত্যার ঘটনা বেড়েছে। নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃঢ় পদক্ষেপ দৃশ্যমান হচ্ছে না। ফলে উদ্বেগজনকহারে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা বেড়েই চলেছে। এ মাসে সনাতন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মন্দিরে প্রতিমা চুরি, ভাংচুর ও দানবাক্সসহ পূজার সরঞ্জাম লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে । সীমান্তে হতাহতের  ঘটনা বন্ধ হয়নি, অপরদিকে ভারতীয় কোষ্টগার্ড কর্তৃক বাংলাদেশী জেলেদের ধরে নেওয়ার ঘটনায় সে অঞ্চলের বসবাসকারীর জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

গণপিটুনি ও মব সহিংসতার মত আইন হাতে তুলে নেয়ার ঘটনায় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় দিন দিন তা বেড়েই চলেছে  ফলে এ ইস্যুতে নিহত ও আহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সেইসাথে অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারে পুলিশের ভূমিকা দেখা গেলেও তাদের পরিচয় এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করার বিষয়ে নিস্ক্রিয়  অবস্থানের কারণে এ  সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে ফলে নাগরিকদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি প্রকট হয়েছে। এ মাসে মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল লক্ষনীয়ভাবে উদ্বেগজনক। মানবাধিকার লংঘন প্রতিরোধ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক চর্চা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমমর্যাদা ও নাগরিক জীবনে নিরাপত্তার বিষয়গুলোর নিশ্চয়তা বিধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এমএসএফ জোর দাবি জানাচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এমএসএফ এর জরিপ

নির্বাচনী সহিংসতার শিকার ৫০৯ জন

সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৭:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী সহিংসতায় ৬৪ ঘটনায় সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৫০৯ জন। তাদের মধ্যে চারজন নিহত হয়েছেন। সহিংসতার ৬৪ টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্বে ১৩, বিএনপি-স্বতন্ত্র প্রার্থী ৯ , গণ অধিকার পরিষদ-স্বতন্ত্র ১, বিএনপি-জামাত সংঘর্ষের ৩৩, বিএনপি-এনসিপি ১টি ঘটনা ঘটেছে। ছয়টি ঘটনায় দুস্কৃতিকারি নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা, ভাংচুর, ককটেল বিষ্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) এর জানুয়ারির মানবাধিকার পরিস্থিতি মনিটরিং প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, এর প্রচারণা শুরুর সময়ে কয়েকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে অর্ন্তদ্বন্দ্ব ও সহিংসতায় হতাহতের এবং দুস্কৃতিকারীদের হাতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সরকার সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধে  সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীকে গণহারে গ্রেফতার করছে।

প্রতিবেদনে জানা যায়, রাজনৈতিক সহিংসতার ২৪ টি ঘটনায় হামলায় সহিংসতার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন ২১৫ জন। আহতদের মধ্যে ২ জন গুলিবিদ্ধ । সহিংসতার ২৪ টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্বে ১৬টি, বিএনপি-আওয়ামী লীগের সংঘর্ষের ২ টি, বিএনপি-জামাত সংঘর্ষের ৫টি ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতার ২৪ টি ঘটনার মধ্যে ১ টি ঘটনায় ভাংচুর হলেও কেউ হতাহত হয়নি।

দুষ্কৃতিকারির দ্বারা নিহত হয়েছেন বিএনপির কর্মী ও সমর্থক ৬ এবং ১০ জন অপমৃত্যুর শিকার হয়েছেন। অপমৃত্যুর শিকার ব্যক্তির মধ্যে ৪ বিএনপির, ২ জামাত, ২ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন আওয়ামী লীগ, ১ কিশোর এবং ১ জন বৃদ্ধা রাজনৈতিক রোষানলে পরে পুড়ে মারা গেছেন।

প্রতিবেদনে আরে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতার ঘটনায় বগুড়াতে ১ টি মামলা হয়েছে। তালিকায় সুনির্দিষ্টভাবে ১২০ এবং অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা ৩২০ জন করা হয়েছে। সারাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সরকারের পতন সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ৬০ নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যার মধ্যে কোটা সংক্রান্ত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও চলতি মাসে সারাদেশে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত ৮১০ এবং ডেভিল হ্যান্ট ফেজ-২ তে গ্রেফতার হয়েছে ২২ হাজার ৫৭ জন।

প্রতিবেদনে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১ নিহত ও ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ ও সেনা হেফাজতে দুইজন মধ্যবয়সী পুরুয়ের মৃত্যুর ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। হেফাজতে দু’টি মৃত্যুর ক্ষেত্রেই পরিবারের অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্যাতনে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ বা সেনা কর্তৃপক্ষের দাবি অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁরা মারা গেছেন। কারা হেফাজতে মোট ১৫ বন্দির মৃত্যু হয়েছে। গত মাসে এ সংখ্যা ছিল মোট ৯ জন। এ মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনা হেফাজতে থাকা অবস্থায় দুইজন আসামির মৃত্যু হয়েছে। সেনা বাহিনী ও পুলিশের নির্যাতনে দুই মধ্যবয়সীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা অগ্রহণযোগ্য ও অনাকাঙ্খিত।

২৫৭টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। যা গত মাসের তুলনায় ১৪টি বেশী। এ মাসে ধর্ষণের ঘটনা ৩৪টি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১১টি, ধর্ষণ ও হত্যা ৩টি। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫ জন প্রতিবন্ধী কিশোরী ও নারী।

উল্লেখ্য , ধর্ষণের শিকার ৩৪ জনের মধ্যে ৬ শিশু, ১১ কিশোরী রয়েছে, অপরদিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২ কিশোরী ও ৯ নারী এবং ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছেন ২ শিশু ও ১ জন। ধর্ষণের চেষ্টা ১৯, যৌন হয়রানি ১৭, শারীরিক নির্যাতনের ৪০টি ঘটনা ঘটেছে।

এ মাসে ১৩ কিশোরী ও ১৯ নারীসহ মোট ৩২ জন আত্মহত্যা করেছেন। এ মাসে অপহরণের শিকার হয়েছেন ৪ কিশোরী, অপরদিকে ৪ কিশোরী নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়াও ৩ শিশু, ৫ কিশোরী ও ২ নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যুসহ মোট ৭৭ জন শিশু, কিশোরী ও নারী হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। যার মধ্যে ৩২ জন শিশু ও কিশোরী রয়েছেন।

প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রতিশোধ, পারিবারিক বিরোধ, যৌতুক, প্রেমঘটিত, হতাশা ও অভিমান ইত্যাদি কারণে এ হত্যাকান্ড ও আত্মহত্যাগুলো সংঘটিত হয়েছে। এ মাসে ১টি শিশু ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা সমাজপতিরা আপোষ করেছেন যা প্রচলিত আইনকে অবজ্ঞা করে বেআইনিভাবে সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার সিদ্ধান্ত। এ সময়ে ৪ মৃত ও ৩ জীবিত মোট ৭ জন নবজাতক শিশুকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে যা অমানবিক ও নিন্দনীয়। এ সমস্ত শিশুদেরকে কি কারণে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা নিরূপনের চেষ্টা করছে না।

নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা যেমন; ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, আত্মহত্যা গত মাসের তুলনায় কিছুটা কমলেও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণ ও হত্যা, শারীরিক নির্যাতন এবং হত্যার ঘটনা বেড়েছে। নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃঢ় পদক্ষেপ দৃশ্যমান হচ্ছে না। ফলে উদ্বেগজনকহারে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা বেড়েই চলেছে। এ মাসে সনাতন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মন্দিরে প্রতিমা চুরি, ভাংচুর ও দানবাক্সসহ পূজার সরঞ্জাম লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে । সীমান্তে হতাহতের  ঘটনা বন্ধ হয়নি, অপরদিকে ভারতীয় কোষ্টগার্ড কর্তৃক বাংলাদেশী জেলেদের ধরে নেওয়ার ঘটনায় সে অঞ্চলের বসবাসকারীর জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

গণপিটুনি ও মব সহিংসতার মত আইন হাতে তুলে নেয়ার ঘটনায় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় দিন দিন তা বেড়েই চলেছে  ফলে এ ইস্যুতে নিহত ও আহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সেইসাথে অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারে পুলিশের ভূমিকা দেখা গেলেও তাদের পরিচয় এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করার বিষয়ে নিস্ক্রিয়  অবস্থানের কারণে এ  সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে ফলে নাগরিকদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি প্রকট হয়েছে। এ মাসে মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল লক্ষনীয়ভাবে উদ্বেগজনক। মানবাধিকার লংঘন প্রতিরোধ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক চর্চা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমমর্যাদা ও নাগরিক জীবনে নিরাপত্তার বিষয়গুলোর নিশ্চয়তা বিধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এমএসএফ জোর দাবি জানাচ্ছে।