সরকারে গেলে জনবহুল স্থানে ফ্রি ইন্টারনেট দেবে বিএনপি
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৩:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
- / 9
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের সংস্কার ও সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। শনিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে দলটির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান আইসিটি খাত নিয়ে সাত দফা অঙ্গীকার তুলে ধরেন, যা আসন্ন নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণার অংশ হিসেবে বিএনপি তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে দেশের অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষকে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও জানান, সরকার গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যে একটি জাতীয় ই-ওয়ালেট চালু করা হবে, যা ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে সহজ ও নিরাপদ করবে। এসব উদ্যোগ দলটির নির্বাচনী ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে বলে জানান তিনি।
বিএনপির ঘোষিত প্রথম অঙ্গীকার অনুযায়ী, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবা চালু করা হবে। এর আওতায় কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, এআইভিত্তিক স্বাস্থ্য রেকর্ড, কানেক্টেড স্কুল ও ডিজিটাল লার্নিং সিস্টেম, জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা, স্বয়ংক্রিয় পুলিশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, এআই পরিচালিত ইমিগ্রেশন, ভূমি ও কর ব্যবস্থাপনার ডিজিটালাইজেশন এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ওয়ান-স্টপ সেবা চালুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
দ্বিতীয় অঙ্গীকারে সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও বিপিও খাতকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক করতে ‘Made/Assembled/Serviced in Bangladesh’ উদ্যোগ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য ও সেবাকে বৈশ্বিক বাজারে শক্ত অবস্থানে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
তৃতীয় অঙ্গীকার হিসেবে আইসিটি খাতে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। সাইবার নিরাপত্তা, বিপিও, এআই-ডেটা, সেমিকন্ডাক্টর ও ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ খাতে সরাসরি দুই লাখ এবং ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে আরও আট লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
চতুর্থ দফায় ‘ক্যাশ-লাইট’ অর্থনীতি গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে PayPalসহ একটি জাতীয় ই-ওয়ালেট চালু করা হবে, যাতে কেনাকাটা, বিল, কর ও ফি পরিশোধসহ সব ধরনের লেনদেন ডিজিটাল মাধ্যমে করা যায়।
পঞ্চম অঙ্গীকারে সবার জন্য ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, অফিস, রেলস্টেশন, বিমানবন্দর এবং গ্রামীণ ডিজিটাল সেন্টারসহ জনবহুল স্থানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা চালুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
ষষ্ঠ দফায় আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে। নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামো রক্ষায় দেশি-বিদেশি অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে শক্তিশালী নীতিমালা ও আইন প্রণয়নের কথা জানিয়েছে বিএনপি।
সপ্তম ও শেষ অঙ্গীকারে দেশের প্রথম এআই-চালিত ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়। দলটির তথ্যমতে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইটে ৬ কোটি ৩০ লাখের বেশি সাইবার হামলা হয়েছে এবং একই বছরে পাঁচ কোটির বেশি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে বিক্রি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্টসহ সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য একাধিক টিআর-৩ ও টিআর-৪ মানের ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার কথা বলা হয়।
এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘ক্লাউড-ফার্স্ট’ কৌশলের আওতায় একটি আধুনিক এআই-চালিত ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস স্থাপন করে দেশের তথ্য নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।
































