ট্রাম্পের দুই শর্তে ইরানকে সামরিক সংঘর্ষ এড়িয়ে চলার আহ্বান
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৯:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
- / 7
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদারের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, সামরিক সংঘর্ষ এড়াতে ইরানকে অবশ্যই দুটি শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রথমত, কোনো পারমাণবিক কর্মসূচি থাকছে না, এবং দ্বিতীয়ত, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করতে হবে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “প্রথম—ইরানে কোনো পারমাণবিক কর্মসূচি নয়। দ্বিতীয়—বিক্ষোভকারীদের হত্যাকা- বন্ধ করতে হবে। তারা হাজারে হাজারে মানুষ হত্যা করছে।” তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের শক্তিশালী জাহাজ এখন ইরানের দিকে এগোচ্ছে। যদি এগুলো ব্যবহার না করেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেটাই হবে সবচেয়ে ভালো।”
ওয়াশিংটন কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে নতুন চুক্তি করার চাপ বাড়াচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে ট্রাম্পের মন্তব্য এসেছে।
প্রতি দিক থেকে তেহরানও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী “তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী” প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত।
আরাগচি শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। একই সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে ফোনে জানিয়েছে, আঙ্কারা উত্তেজনা হ্রাসে সহযোগিতা করতে আগ্রহী।
ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন তার স্ত্রী মেলানিয়াকে নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্রের প্রিমিয়ারে। চলতি সপ্তাহে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, “আশা করি ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসবে এবং এমন চুক্তিতে পৌঁছাবে যেখানে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।” একই পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরের অবস্থান উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন।
এর জবাবে আরাগচি বলেন, ইরান সবসময়ই ন্যায্য ও সমমর্যাদাভিত্তিক পারমাণবিক চুক্তি স্বাগত জানিয়েছে, যা ভয়ভীতি বা হুমকিমুক্ত। তিনি নিশ্চিত করেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র ইরানের নিরাপত্তা নীতি বা লক্ষ্য নয়। উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি যোগ করেছেন, “যদিও কিছু বার্তা আদান–প্রদান হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হচ্ছে না।”
গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে মুদ্রার বড় পতনের পর ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, সহিংসতা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র ওই নাগরিকদের “উদ্ধার” করতে এগিয়ে আসবে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হরানা জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরু থেকে অন্তত ৬,৪৭৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, যার মধ্যে ৬,০৯২ জন বিক্ষোভকারী, ১১৮ শিশু এবং ২১৪ জন সরকারি কর্মকর্তা। ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এ পর্যন্ত ৩,১০০’র বেশি নিহত হয়েছে, বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা হামলার শিকার পথচারী।
উপর্যুক্ত উত্তেজনার মধ্যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ডসকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং ইরানের ছয়টি প্রতিষ্ঠান ও ১৫ জন ব্যক্তির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।


































