ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সমবায় অধিদপ্তরকে শতভাগ তামাকমুক্ত ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৫:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 11

সমবায় অধিদপ্তরকে শতভাগ তামাকমুক্ত ঘোষণা।

সমবায় অধিদপ্তরের সব কার্যালয়কে শতভাগ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত নিবন্ধক (প্রশাসন, মাসউ ও ফাইন্যান্স) মোহাম্মদ হাফিজুল হায়দার চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর সমবায় অধিদপ্তরের তিতাস সম্মেলন কক্ষে ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দি রুরাল পুওর (ডব়্প) ও সমবায় অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে “তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে সমবায় অধিদপ্তরের সকল কার্যালয়কে শতভাগ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত ঘোষণা” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ হাফিজুল হায়দার চৌধুরী বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ৪-এর উপধারা (১) অনুযায়ী সকল পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ। এই আইনের আলোকে সমবায় অধিদপ্তরের কার্যালয়সমূহকে ধূমপান ও তামাকমুক্ত ঘোষণা করা হলো। তিনি আরও বলেন, ধূমপানের ক্ষতি শুধু ধূমপায়ীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; পরোক্ষ ধূমপানের মাধ্যমে অধূমপায়ীরাও সমানভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ সেবা নিতে সমবায় অধিদপ্তরে আসেন। তাই এই কর্মপরিবেশকে তামাকমুক্ত করার মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মতবিনিময় সভাটি সঞ্চালনা করেন উপনিবন্ধক শাকিলা হক। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত নিবন্ধক (সমবায় ব্যবস্থাপনা) জেবুন নাহার এবং সাবেক সচিব মো. আজহার আলী তালুকদারসহ সংশ্লিষ্টরা।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ডব়্প-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এএইচএম নোমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী জেবা আফরোজা। তিনি বলেন, গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) ২০১৭ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন কর্মক্ষেত্রসহ পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। এছাড়া প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ আচ্ছাদিত কর্মক্ষেত্রে পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকিতে রয়েছেন। উদ্বেগজনকভাবে ১৫ বছরের নিচে ৬১ হাজারেরও বেশি শিশু পরোক্ষ ধূমপানের কারণে সৃষ্ট নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যু কমাতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, ২০২৫ আইন আকারে পাস করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি নির্বাচনী ইশতেহারে তামাক নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণায় এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির অনুরোধ জানানো হয়।

সভা শেষে সমবায় অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারবিরোধী বার্তাসমৃদ্ধ সাইনবোর্ড ও স্টিকার স্থাপন করা হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সমবায় অধিদপ্তরকে শতভাগ তামাকমুক্ত ঘোষণা

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৫:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

সমবায় অধিদপ্তরের সব কার্যালয়কে শতভাগ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত নিবন্ধক (প্রশাসন, মাসউ ও ফাইন্যান্স) মোহাম্মদ হাফিজুল হায়দার চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর সমবায় অধিদপ্তরের তিতাস সম্মেলন কক্ষে ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দি রুরাল পুওর (ডব়্প) ও সমবায় অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে “তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে সমবায় অধিদপ্তরের সকল কার্যালয়কে শতভাগ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত ঘোষণা” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ হাফিজুল হায়দার চৌধুরী বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ৪-এর উপধারা (১) অনুযায়ী সকল পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ। এই আইনের আলোকে সমবায় অধিদপ্তরের কার্যালয়সমূহকে ধূমপান ও তামাকমুক্ত ঘোষণা করা হলো। তিনি আরও বলেন, ধূমপানের ক্ষতি শুধু ধূমপায়ীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; পরোক্ষ ধূমপানের মাধ্যমে অধূমপায়ীরাও সমানভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ সেবা নিতে সমবায় অধিদপ্তরে আসেন। তাই এই কর্মপরিবেশকে তামাকমুক্ত করার মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মতবিনিময় সভাটি সঞ্চালনা করেন উপনিবন্ধক শাকিলা হক। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত নিবন্ধক (সমবায় ব্যবস্থাপনা) জেবুন নাহার এবং সাবেক সচিব মো. আজহার আলী তালুকদারসহ সংশ্লিষ্টরা।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ডব়্প-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এএইচএম নোমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী জেবা আফরোজা। তিনি বলেন, গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) ২০১৭ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন কর্মক্ষেত্রসহ পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। এছাড়া প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ আচ্ছাদিত কর্মক্ষেত্রে পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকিতে রয়েছেন। উদ্বেগজনকভাবে ১৫ বছরের নিচে ৬১ হাজারেরও বেশি শিশু পরোক্ষ ধূমপানের কারণে সৃষ্ট নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যু কমাতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, ২০২৫ আইন আকারে পাস করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি নির্বাচনী ইশতেহারে তামাক নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণায় এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির অনুরোধ জানানো হয়।

সভা শেষে সমবায় অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারবিরোধী বার্তাসমৃদ্ধ সাইনবোর্ড ও স্টিকার স্থাপন করা হয়।