ঢাকা ১১:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
অধ্যাদেশ জারি

ব্যাংকের মালিক হচ্ছেন ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪৯:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 10

সরকার

ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমকে আরও সুসংহত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে গতি আনতে ঋণগ্রহীতাদেরই ব্যাংকের মালিকানা নিশ্চিত করে ‘মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ বিভাগ থেকে গতকাল এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, দেশে ৫০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনে একটি মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক গঠন করা হবে, যার অন্তত ৬০ শতাংশ মালিকানা থাকবে সাধারণ ঋণগ্রহীতাদের হাতে। ফলে তারা শুধু গ্রাহক হিসেবেই নয়, ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও অংশীদার হিসেবেও যুক্ত হবেন।

এই বিশেষ আইনের মাধ্যমে ব্যাংকটিকে একটি ‘সামাজিক ব্যবসা’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার বিধান রাখা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিগত লভ্যাংশের পরিবর্তে অর্জিত মুনাফা পুনরায় সামাজিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন খাতে ব্যয় করতে হবে।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে লাইসেন্স গ্রহণ করে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার জন্য ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠা করা যাবে। অনুমোদিত মূলধন হবে ৫০০ কোটি টাকা এবং প্রাথমিক পরিশোধিত মূলধন ন্যূনতম ২০০ কোটি টাকা। মোট মূলধনের অন্তত ৬০ শতাংশ আসবে ঋণগ্রহীতা শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে। তবে কোনো মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে না।

পরিচালনা পর্ষদ হবে নয় সদস্যের। এর মধ্যে চারজন পরিচালক নির্বাচিত হবেন ঋণগ্রহীতা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্য থেকে। এছাড়া তিনজন মনোনীত পরিচালক, দুইজন স্বতন্ত্র পরিচালক এবং ভোটাধিকারবিহীন একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকবেন। কোনো পরিচালক একটানা দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

লভ্যাংশ নীতির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারীরা মূল বিনিয়োগের অতিরিক্ত অর্থ লভ্যাংশ হিসেবে নিতে পারবেন না। তবে সাধারণ ঋণগ্রহীতা শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এ বিধান শিথিল রাখা হয়েছে, যাতে তারা বিনিয়োগের সুফল পেতে পারেন। অবশিষ্ট নিট মুনাফা সামাজিক খাতে ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকবে।

ব্যাংকের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে থাকবে আত্ম-কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনে ঋণ প্রদান, আমানত গ্রহণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য উদ্যোগ মূলধন সরবরাহ, বিনা মূল্যে কারিগরি ও প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া এবং শিল্প, কৃষিজাত পণ্য, গবাদিপশু ও যন্ত্রপাতি খাতে ঋণ সহায়তা।

ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে ‘অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩’ অনুসরণ করা যাবে। তবে আদায়ে সামাজিক সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে হবে এবং কোনো ধরনের জবরদস্তি বা অবমাননাকর পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে না।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক এই ব্যাংকের লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে এবং প্রয়োজনে পরিচালনা বোর্ড বাতিল বা চেয়ারম্যান ও পরিচালক অপসারণের ক্ষমতা রাখবে। পাশাপাশি ব্যাংকের কার্যক্রম ‘ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১’ এবং ‘মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি আইন, ২০০৬’-এর বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, সরকার শিগগিরই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এর কার্যকর হওয়ার তারিখ নির্ধারণ করবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

অধ্যাদেশ জারি

ব্যাংকের মালিক হচ্ছেন ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতারা

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪৯:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমকে আরও সুসংহত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে গতি আনতে ঋণগ্রহীতাদেরই ব্যাংকের মালিকানা নিশ্চিত করে ‘মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ বিভাগ থেকে গতকাল এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, দেশে ৫০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনে একটি মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক গঠন করা হবে, যার অন্তত ৬০ শতাংশ মালিকানা থাকবে সাধারণ ঋণগ্রহীতাদের হাতে। ফলে তারা শুধু গ্রাহক হিসেবেই নয়, ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও অংশীদার হিসেবেও যুক্ত হবেন।

এই বিশেষ আইনের মাধ্যমে ব্যাংকটিকে একটি ‘সামাজিক ব্যবসা’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার বিধান রাখা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিগত লভ্যাংশের পরিবর্তে অর্জিত মুনাফা পুনরায় সামাজিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন খাতে ব্যয় করতে হবে।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে লাইসেন্স গ্রহণ করে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার জন্য ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠা করা যাবে। অনুমোদিত মূলধন হবে ৫০০ কোটি টাকা এবং প্রাথমিক পরিশোধিত মূলধন ন্যূনতম ২০০ কোটি টাকা। মোট মূলধনের অন্তত ৬০ শতাংশ আসবে ঋণগ্রহীতা শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে। তবে কোনো মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে না।

পরিচালনা পর্ষদ হবে নয় সদস্যের। এর মধ্যে চারজন পরিচালক নির্বাচিত হবেন ঋণগ্রহীতা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্য থেকে। এছাড়া তিনজন মনোনীত পরিচালক, দুইজন স্বতন্ত্র পরিচালক এবং ভোটাধিকারবিহীন একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকবেন। কোনো পরিচালক একটানা দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

লভ্যাংশ নীতির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারীরা মূল বিনিয়োগের অতিরিক্ত অর্থ লভ্যাংশ হিসেবে নিতে পারবেন না। তবে সাধারণ ঋণগ্রহীতা শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এ বিধান শিথিল রাখা হয়েছে, যাতে তারা বিনিয়োগের সুফল পেতে পারেন। অবশিষ্ট নিট মুনাফা সামাজিক খাতে ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকবে।

ব্যাংকের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে থাকবে আত্ম-কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনে ঋণ প্রদান, আমানত গ্রহণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য উদ্যোগ মূলধন সরবরাহ, বিনা মূল্যে কারিগরি ও প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া এবং শিল্প, কৃষিজাত পণ্য, গবাদিপশু ও যন্ত্রপাতি খাতে ঋণ সহায়তা।

ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে ‘অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩’ অনুসরণ করা যাবে। তবে আদায়ে সামাজিক সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে হবে এবং কোনো ধরনের জবরদস্তি বা অবমাননাকর পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে না।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক এই ব্যাংকের লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে এবং প্রয়োজনে পরিচালনা বোর্ড বাতিল বা চেয়ারম্যান ও পরিচালক অপসারণের ক্ষমতা রাখবে। পাশাপাশি ব্যাংকের কার্যক্রম ‘ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১’ এবং ‘মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি আইন, ২০০৬’-এর বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, সরকার শিগগিরই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এর কার্যকর হওয়ার তারিখ নির্ধারণ করবে।