ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেরপুরের ঘটনায় ইউএনও এবং ওসি প্রত্যাহার

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:২১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 20

শেরপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় জামায়াত নেতা রেজাউল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ ইউএনও ও ওসিকে প্রত্যাহারের তথ্য জানান। এর আগে হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা পার হলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম শেরপুর-৩ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও থানার ওসিকে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানান।

দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভা থেকে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনার পরও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিপন্থী। জনগণ দ্রুত বিচার ও দোষীদের শাস্তি চায় বলেও তিনি দাবি করেন।

সহিংসতার সূত্রপাত হয় বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে। সেখানে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা মঞ্চে বসার সময় চেয়ার দখল নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থকের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

আহতদের স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

এ ঘটনার পর রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্র ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহদী আমিন সংঘর্ষের পেছনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই একটি দল কেন সব চেয়ার দখল করে রাখল, কেন সেখানে লাঠিসোঁটা জড়ো করা হলো এবং কেন সবার অনুরোধ উপেক্ষা করে সংঘাতের পথ বেছে নেওয়া হলো, এসব বিষয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, নিহত ব্যক্তি যে দলেরই হোক না কেন, এমন মৃত্যু কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় বিএনপির ৪০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। যারা নিহত ও আহত হয়েছেন, তারা সবাই একটি শান্তিপূর্ণ ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচনী ব্যবস্থাই প্রত্যাশা করেছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শেরপুরের ঘটনায় ইউএনও এবং ওসি প্রত্যাহার

সর্বশেষ আপডেট ০৬:২১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

শেরপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় জামায়াত নেতা রেজাউল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ ইউএনও ও ওসিকে প্রত্যাহারের তথ্য জানান। এর আগে হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা পার হলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম শেরপুর-৩ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও থানার ওসিকে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানান।

দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভা থেকে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনার পরও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিপন্থী। জনগণ দ্রুত বিচার ও দোষীদের শাস্তি চায় বলেও তিনি দাবি করেন।

সহিংসতার সূত্রপাত হয় বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে। সেখানে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা মঞ্চে বসার সময় চেয়ার দখল নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থকের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

আহতদের স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

এ ঘটনার পর রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্র ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহদী আমিন সংঘর্ষের পেছনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই একটি দল কেন সব চেয়ার দখল করে রাখল, কেন সেখানে লাঠিসোঁটা জড়ো করা হলো এবং কেন সবার অনুরোধ উপেক্ষা করে সংঘাতের পথ বেছে নেওয়া হলো, এসব বিষয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, নিহত ব্যক্তি যে দলেরই হোক না কেন, এমন মৃত্যু কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় বিএনপির ৪০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। যারা নিহত ও আহত হয়েছেন, তারা সবাই একটি শান্তিপূর্ণ ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচনী ব্যবস্থাই প্রত্যাশা করেছিলেন।