ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চাহিদা মেটাতে পাঁচ কার্গো এলএনজি, ৭৫ হাজার টন সার কিনবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩০:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 6

পাঁচ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং মোট ৭৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার

দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কৃষি উৎপাদনে প্রয়োজনীয় সার নিশ্চিত করতে পাঁচ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও মোট ৭৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড থেকে রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সার সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির ভিত্তিতে কেনা হবে।

ফার্টিগ্লোবের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সরবরাহ সম্পর্ক রয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করা হচ্ছে। আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির অনুমোদন নিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া আমদানির নতুন চুক্তি সই হয়।

চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের দাম ধরা হয়েছে ৪১০ মার্কিন ডলার। সে হিসাবে ৪০ হাজার টন সার কিনতে মোট ব্যয় হবে ১ কোটি ৬৪ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০১ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাশিয়ার জেএসসি ‘ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রোডিনটর্গ)’ থেকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বাবদ ব্যয় হবে ১৫১ কোটি ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন এমওপি সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫২ দশমিক ৯৩ মার্কিন ডলার।

জ্বালানি খাতের চাহিদা পূরণে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সিঙ্গাপুরের আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড থেকে ২০২৬ সালে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি এই চুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও সারের দামে অস্থিরতার মধ্যেই এসব আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সময়মতো এলএনজি ও সার সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে কৃষি উৎপাদন ও শিল্প কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে আশা করছে সরকার।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চাহিদা মেটাতে পাঁচ কার্গো এলএনজি, ৭৫ হাজার টন সার কিনবে সরকার

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩০:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কৃষি উৎপাদনে প্রয়োজনীয় সার নিশ্চিত করতে পাঁচ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও মোট ৭৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড থেকে রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সার সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির ভিত্তিতে কেনা হবে।

ফার্টিগ্লোবের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সরবরাহ সম্পর্ক রয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করা হচ্ছে। আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির অনুমোদন নিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া আমদানির নতুন চুক্তি সই হয়।

চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের দাম ধরা হয়েছে ৪১০ মার্কিন ডলার। সে হিসাবে ৪০ হাজার টন সার কিনতে মোট ব্যয় হবে ১ কোটি ৬৪ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০১ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাশিয়ার জেএসসি ‘ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রোডিনটর্গ)’ থেকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বাবদ ব্যয় হবে ১৫১ কোটি ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন এমওপি সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫২ দশমিক ৯৩ মার্কিন ডলার।

জ্বালানি খাতের চাহিদা পূরণে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সিঙ্গাপুরের আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড থেকে ২০২৬ সালে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি এই চুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও সারের দামে অস্থিরতার মধ্যেই এসব আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সময়মতো এলএনজি ও সার সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে কৃষি উৎপাদন ও শিল্প কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে আশা করছে সরকার।