ঢাকা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রজনন স্বাস্থ্য ও কল্যাণে যৌথ মডেল বাস্তবায়নে উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 16

প্রজনন স্বাস্থ্য ও কল্যাণে যৌথ মডেল বাস্তবায়নে উদ্যোগ।

বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের মাঝে মানসম্মত প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণে এবং সহজলভ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।

আজ সোমবার ( ২৬ জানুয়ারি ) রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ ডিজিএফপি ভবনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

তরুণ প্রজন্মের জন্য জনস্বাস্থ্য সেবাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই কৌশলগত সহযোগিতা গড়ে তোলা হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আশরাফী আহমদ, এনডিসি এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস। এছাড়াও উভয় প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এই সহযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রজনন স্বাস্থ্য ও কল্যাণ সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঘাটতিগুলো পূরণ করা। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কারিগরি দক্ষতা এবং ডিজিএফপি-এর বিস্তৃত সেবা নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে, এই উদ্যোগটি স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা ও মান বৃদ্ধির ওপর জোর দেবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করা হচ্ছে। একইসাথে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবায় মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা এবং জলবায়ু সহিষ্ণুতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ডা. আশরাফী আহমদ, এনডিসি বলেন, “এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর একটি মাইলফলক, কারণ ডিজিএফপি-এর সাথে কাজ করার ক্ষেত্রে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। আমরা দেখেছি যে, তারা বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরী ও যুব সমাজের প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। প্ল্যান অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে যুব সম্পৃক্ততা, জলবায়ু সহিষ্ণুতা, এসআরএইচআর (SRHR) চাহিদা এবং মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তার বিষয়গুলো চিহ্নিত করেছে। আমরা আশা করি, অদূর ভবিষ্যতে এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় একটি অর্থবহ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীদের বৃহত্তর কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”

এই প্রকল্পে যুবকদের বিভিন্নমুখী সমস্যার আন্তঃসম্পর্কের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন তরুণদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণের ওপর অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রভাব ফেলে, এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে, অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এমন একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে যা সহিষ্ণু এবং উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম।

কবিতা বোস বলেন, “কিশোর-কিশোরী এবং তরুণদের জন্য মানসম্মত প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা কেবল স্বাস্থ্যের বিষয় নয়, এটি একটি মানবাধিকার। ডিজিএফপি-এর সাথে এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে তরুণদের আরও উন্নত সেবা প্রদান করা যায়। বিশেষ করে প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার , মানসিক স্বাস্থ্য এবং জলবায়ু সহিষ্ণুতার মধ্যে যে যোগসূত্র রয়েছে যা অনেক সময় উপেক্ষিত থাকে, আমরা এই উদ্যোগের মাধ্যমে তা তুলে ধরব।”

এই সমঝোতা স্মারকের আওতায়, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ডিজিএফপি-কে উন্নত সেবা প্রদান মডেল কার্যকর করতে, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় যুবকদের অংশগ্রহণ বাড়াতে কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

প্রজনন স্বাস্থ্য ও কল্যাণে যৌথ মডেল বাস্তবায়নে উদ্যোগ

সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের মাঝে মানসম্মত প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণে এবং সহজলভ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।

আজ সোমবার ( ২৬ জানুয়ারি ) রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ ডিজিএফপি ভবনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

তরুণ প্রজন্মের জন্য জনস্বাস্থ্য সেবাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই কৌশলগত সহযোগিতা গড়ে তোলা হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আশরাফী আহমদ, এনডিসি এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস। এছাড়াও উভয় প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এই সহযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রজনন স্বাস্থ্য ও কল্যাণ সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঘাটতিগুলো পূরণ করা। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কারিগরি দক্ষতা এবং ডিজিএফপি-এর বিস্তৃত সেবা নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে, এই উদ্যোগটি স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা ও মান বৃদ্ধির ওপর জোর দেবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করা হচ্ছে। একইসাথে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবায় মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা এবং জলবায়ু সহিষ্ণুতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ডা. আশরাফী আহমদ, এনডিসি বলেন, “এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর একটি মাইলফলক, কারণ ডিজিএফপি-এর সাথে কাজ করার ক্ষেত্রে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। আমরা দেখেছি যে, তারা বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরী ও যুব সমাজের প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। প্ল্যান অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে যুব সম্পৃক্ততা, জলবায়ু সহিষ্ণুতা, এসআরএইচআর (SRHR) চাহিদা এবং মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তার বিষয়গুলো চিহ্নিত করেছে। আমরা আশা করি, অদূর ভবিষ্যতে এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় একটি অর্থবহ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীদের বৃহত্তর কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”

এই প্রকল্পে যুবকদের বিভিন্নমুখী সমস্যার আন্তঃসম্পর্কের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন তরুণদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণের ওপর অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রভাব ফেলে, এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে, অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এমন একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে যা সহিষ্ণু এবং উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম।

কবিতা বোস বলেন, “কিশোর-কিশোরী এবং তরুণদের জন্য মানসম্মত প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা কেবল স্বাস্থ্যের বিষয় নয়, এটি একটি মানবাধিকার। ডিজিএফপি-এর সাথে এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে তরুণদের আরও উন্নত সেবা প্রদান করা যায়। বিশেষ করে প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার , মানসিক স্বাস্থ্য এবং জলবায়ু সহিষ্ণুতার মধ্যে যে যোগসূত্র রয়েছে যা অনেক সময় উপেক্ষিত থাকে, আমরা এই উদ্যোগের মাধ্যমে তা তুলে ধরব।”

এই সমঝোতা স্মারকের আওতায়, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ডিজিএফপি-কে উন্নত সেবা প্রদান মডেল কার্যকর করতে, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় যুবকদের অংশগ্রহণ বাড়াতে কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে