আসামে বাংলাভাষী মুসলমানদের নিপীড়ন নিয়ে ভারতকে চিঠি জাতিসংঘের
- সর্বশেষ আপডেট ০২:৫৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / 6
আসামের নাগাঁওয়ের একটি এনআরসি সেবা কেন্দ্রে রাজ্যের জাতীয় নাগরিক পঞ্জির চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশের পর, লোকেরা তাদের নাম পরীক্ষা করছে। (ফাইল ছবি | পিটিআই)
জাতিসংঘের বর্ণবৈষম্য নিরসন কমিটি (সিইআরডি) আসামে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ, নাগরিকত্ব যাচাইয়ে অনিয়ম এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম টি নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জেনেভায় জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে কমিটি জানায়, ২০২৫ সালের ১২ মে পাঠানো আগের চিঠির জবাবে ভারত সরকার যে তথ্য দিয়েছে, তা অপর্যাপ্ত এবং অধিকাংশ অভিযোগের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেয়নি।
চিঠিতে বলা হয়, এনআরসি প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক ত্রুটি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহে জটিলতা এবং ‘অ-মৌলিক বাসিন্দা’ হিসেবে চিহ্নিত করার কারণে বিপুলসংখ্যক বাংলা ভাষাভাষী মুসলমান চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। কমিটির মতে, এই শ্রেণিবিভাগের কোনো সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নেই এবং এতে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ ছাড়া কঠোর যাচাই মানদণ্ড এবং ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় অনেক ‘সন্দেহভাজন ভোটার’ তাদের নাগরিকত্বের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের সুযোগ পাচ্ছেন না বলেও উল্লেখ করা হয়।
সিইআরডি আরও জানায়, আসামের বিভিন্ন জেলায় পর্যাপ্ত পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ ছাড়াই ব্যাপক উচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে, যা মূলত বাংলা ভাষাভাষী মুসলমান পরিবারগুলোকে প্রভাবিত করেছে।
কমিটি ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় ঘৃণাভাষণ, সহিংসতায় উসকানি, পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং বেসামরিক ও সংগঠিত গোষ্ঠীর হামলার অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
চিঠিতে কেন্দ্র সরকারকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, ভারতের আসন্ন পর্যায়ক্রমিক প্রতিবেদনে এসব বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
সিইআরডি জানিয়েছে, বর্ণবৈষম্য নিরসন সনদের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে তারা ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।


































