নির্বাচনী সময়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪১:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / 24
নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার পাশাপাশি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন সাংবাদিকসহ বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেছেন, নির্বাচনের সময়ে মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকদের ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনি বাড়ে আইনি জটিলতা,হয়রানি ও অনিশ্চয়তা। এ পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের দ্রুত পরামর্শ ও আইনগত এবং অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করার করার কথা বলেন তারা। এছাড়া নির্বাচনসহ সংবেদনশীল বিষয় রিপোর্ট করতে সংবাদমাধ্যমগুলোর নিজস্ব নির্দেশিকা বা গাইডবুক প্রণয়ন জরুরি বলেও মত দেন তারা।
আজ রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল আলম মিলনায়তনে গণমাধ্যম ও যোগাযোগবিষয়ক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান- সমষ্টি এবং ডিআরইউর যৌথ আয়োজনে সাংবাদিক সাপোর্ট ডেস্ক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তারা।
ইউনেস্কোর গ্লোবাল মিডিয়া ডিফেন্স ফান্ডের (জিএমডিএফ) সহায়তায় সমষ্টি ‘গণমাধ্যম সুরক্ষায় আইন সহায়তা শক্তিশালীকরণ’ কার্যক্রমের আওতায় সাংবাদিক ও আইন সহায়তা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে এই সাপোর্ট ডেস্ক প্রতিষ্ঠা করে। এখন থেকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এ ডেস্কের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুজান ভাইজের সভাপতিত্বে ও ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। সম্মানিত অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ,চর্চার সম্পাদক সোহরাব হাসান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন এবং ঢাকা ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টের সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম। সাপোর্ট ডেস্কের প্রেক্ষাপট ও কাঠামো সম্পর্কে বক্তব্য দেন সমষ্টির নির্বাহী পরিচালক মীর মাসরুরুজ্জামান। আরও বক্তব্য রাখেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, জিএমডিএফ প্রতিনিধি লিনা ফক্স, বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সীমা জহুর, জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য শাহনাজ পলি, আইনসেবার নির্বাহী পরিচালক সুজয় চৌধুরী, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ, সাংবাদিক নাদিয়া শারমীন প্রমুখ।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, সরকারের অনেক ব্যর্থতা আছে এবং সেগুলোর সমালোচনা প্রয়োজন,তবে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়ও সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে। জুলাই আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের ঝুঁকির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন,“জুলাই আন্দোলনের সময় ছয়জন সাংবাদিক মারা গেছেন। কিন্তু তাদের হাউজগুলো তাদের সুরক্ষা উপকরণ দেয়নি।”
তিনি আরও বলেন,“সম্মুখ সারিতে গিয়ে যারা সাংবাদিকতা করেছেন তাদের সাধারণ নিরাপত্তাগুলো গুরুত্ব পায়নি। তবুও তারা কাজ করেছে, রিপোর্টিং করেছে,সাংবাদিকতা করেছে।” সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের জন্য ঝুঁকি কমানোর নির্দেশিকা ও গাইডবুক তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি।
ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. সুজান ভাইজ বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাংবাদিক সাপোর্ট ডেস্ক একটি সময়োপযোগী এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যা সাংবাদিকদের নিরাপদে ও পেশাদারভাবে দায়িত্ব পালন করতে সহযোগিতা করবে। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে সাংবাদিকদের ওপর কাজের চাপ ও ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এই সময়ে নির্ভুল, বিশ্বাসযোগ্য এবং পক্ষপাতহীন তথ্য উপস্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। এই সাপোর্ট ডেস্ক সাংবাদিকদের আইনি সহায়তা ও ঝুঁকি মোকাবিলার প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করবে,যাতে তারা স্বাধীনভাবে সংবাদ পরিবেশন করতে পারেন।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন সাংবাদিকদের ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেকোনো অত্যাচার-নিপীড়নের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। সংকীর্ণতা থেকে বের হয়ে আমরা যেকোনো সাংবাদিকের পাশে দাঁড়াব।
লিনা ফক্স বলেন, “বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকরা ক্রমবর্ধমান আইনি হয়রানি ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন জার্নালিস্ট সাপোর্ট ডেস্ক কার্যকর একটি মডেল হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ সাংবাদিকদের জন্য সময়োপযোগী আইনি সহায়তা নিশ্চিত করবে, এবং ইউনেস্কো ও জিএমডিএফ ভবিষ্যতেও এই উদ্যোগকে সামনে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।”
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সাপোর্ট ডেস্কের মাধ্যমে সাংবাদিকরা মামলা, আইনি জটিলতা ও হয়রানির মুখে পড়লে দ্রুত পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় রেফারেল সহায়তা পাবেন। ডিআরইউ এখন থেকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন ও আইন সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ডেস্কের কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং সমষ্টি প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।































