ঢাকা ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঈদের পর বইমেলা আয়োজনের দাবি জানিয়েছে প্রকাশকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৯:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 11

অমর একুশে বইমেলা ২০ ফেব্রুয়ারি

লাদেশের প্রকাশক ও বই বিক্রেতারা অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর সময়সূচি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মেলার সময় ঈদের পর আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) এ বিষয়ে বাপুসের পক্ষ থেকে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এর আগে, ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির বইমেলা স্ট্যান্ডিং কমিটির আলোচনা সভায় সৃজনশীল প্রকাশকরা রমজান মাসে বইমেলা আয়োজনের সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয় তুলে ধরেন।

২০২৬ সালের মেলা ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারিত। প্রকাশকরা বলছেন, রমজান ও জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির সময় মেলা আয়োজন করলে ক্ষতি নিশ্চিত। করোনাকালের দীর্ঘ ক্ষতির পর মুদ্রণ ও কাগজের মূল্য বৃদ্ধির কারণে প্রকাশনা খাত এখন শঙ্কার মুখে।

লেজেন্ডারি পাবলিকেশনের প্রকাশক অঞ্জন হাসান পবন বলেন, “প্রকাশনা খাত এখন তীব্র সংকটে। করোনা-পরবর্তী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাঁচলেও অধিকাংশ প্রকাশক মারাত্মক ক্ষতির মুখে। রমজান মাসে মেলা হলে আর্থিক ক্ষতি আরও নিশ্চিত।”

আহমেদ পাবলিশিং হাউসের মেসবাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “রমজান মাসে পাঠক ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকেন, তাই মেলার সাফল্য আসে না। প্রকাশকরা লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন, এই সময়ে অংশগ্রহণ মানেই ক্ষতি।”

অনন্যা প্রকাশনার মনিরুল হক যোগ করেন, “২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও রমজান মেলাকে অনুপযুক্ত করছে। তাই এই সময়ে মেলা আয়োজন করা ঠিক হবে না।”

বাংলাদেশ সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. গফুর হোসেন বলেন, “এটি আবেগিক দাবি নয়, বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক দাবি। দিনের বেলা পাঠক অনুপস্থিত থাকেন, রাতেও ইবাদত-ব্যস্ততায় আসা কমে যায়। মেলার খরচ ঠিকই থাকে। এই পরিস্থিতিতে মেলা আয়োজন মানে প্রকাশকরা আর্থিক ঝুঁকিতে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলা একাডেমি এখনও মেলার কাঠামোগত কাজ, স্টল হস্তান্তর ও লটারি সময়সূচি নির্দিষ্ট করেনি। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে অংশগ্রহণ মানে অজানায় ঝাঁপ দেওয়া। প্রকাশনা শিল্পকে বাঁচাতে ঈদের পর মেলা ছাড়া অন্য বিকল্প নেই।”

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম সাংবাদিকদের জানান, “২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা হবে। প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রকাশকরা না হলেও একাডেমি নিজ উদ্যোগেই মেলার আয়োজন করবে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ঈদের পর বইমেলা আয়োজনের দাবি জানিয়েছে প্রকাশকরা

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৯:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

লাদেশের প্রকাশক ও বই বিক্রেতারা অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর সময়সূচি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মেলার সময় ঈদের পর আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) এ বিষয়ে বাপুসের পক্ষ থেকে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এর আগে, ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির বইমেলা স্ট্যান্ডিং কমিটির আলোচনা সভায় সৃজনশীল প্রকাশকরা রমজান মাসে বইমেলা আয়োজনের সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয় তুলে ধরেন।

২০২৬ সালের মেলা ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারিত। প্রকাশকরা বলছেন, রমজান ও জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির সময় মেলা আয়োজন করলে ক্ষতি নিশ্চিত। করোনাকালের দীর্ঘ ক্ষতির পর মুদ্রণ ও কাগজের মূল্য বৃদ্ধির কারণে প্রকাশনা খাত এখন শঙ্কার মুখে।

লেজেন্ডারি পাবলিকেশনের প্রকাশক অঞ্জন হাসান পবন বলেন, “প্রকাশনা খাত এখন তীব্র সংকটে। করোনা-পরবর্তী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাঁচলেও অধিকাংশ প্রকাশক মারাত্মক ক্ষতির মুখে। রমজান মাসে মেলা হলে আর্থিক ক্ষতি আরও নিশ্চিত।”

আহমেদ পাবলিশিং হাউসের মেসবাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “রমজান মাসে পাঠক ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকেন, তাই মেলার সাফল্য আসে না। প্রকাশকরা লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন, এই সময়ে অংশগ্রহণ মানেই ক্ষতি।”

অনন্যা প্রকাশনার মনিরুল হক যোগ করেন, “২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও রমজান মেলাকে অনুপযুক্ত করছে। তাই এই সময়ে মেলা আয়োজন করা ঠিক হবে না।”

বাংলাদেশ সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. গফুর হোসেন বলেন, “এটি আবেগিক দাবি নয়, বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক দাবি। দিনের বেলা পাঠক অনুপস্থিত থাকেন, রাতেও ইবাদত-ব্যস্ততায় আসা কমে যায়। মেলার খরচ ঠিকই থাকে। এই পরিস্থিতিতে মেলা আয়োজন মানে প্রকাশকরা আর্থিক ঝুঁকিতে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলা একাডেমি এখনও মেলার কাঠামোগত কাজ, স্টল হস্তান্তর ও লটারি সময়সূচি নির্দিষ্ট করেনি। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে অংশগ্রহণ মানে অজানায় ঝাঁপ দেওয়া। প্রকাশনা শিল্পকে বাঁচাতে ঈদের পর মেলা ছাড়া অন্য বিকল্প নেই।”

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম সাংবাদিকদের জানান, “২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা হবে। প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রকাশকরা না হলেও একাডেমি নিজ উদ্যোগেই মেলার আয়োজন করবে।”