ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে, পাল্টা হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েল
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:০০:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / 5
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সেনা মোতায়েন সম্পন্ন করছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি, তবে সম্ভাব্য ইরানি প্রতিশোধের আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। অন্যদিকে, যেকোনো হামলাকে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে দেখার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কয়েক দিনের মধ্যেই পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি গত আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিসরে পৌঁছেছে।
এই মোতায়েনের অংশ হিসেবে মোতায়েন করা হয়েছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, গাইডেড মিসাইলবাহী ডেস্ট্রয়ার ও ক্রুজার, যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন এবং উন্নত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, একটি ‘বিশাল নৌবহর’ ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর অবস্থানের পর যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার সতর্কবার্তা দেয়।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA) জানিয়েছে, বিক্ষোভ দমনে এখন পর্যন্ত প্রায় চার হাজার মানুষ নিহত এবং কয়েক দশক হাজার মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় এসব তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর অধীন হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানিয়েছে, তারা এখনো নতুন কোনো সতর্কতা জারি করেনি। তবে ‘হুমকির পরিবেশ’ পরিবর্তিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে জনগণকে জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলা, তা সীমিত হোক বা ব্যাপক, সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর বলেছেন, তাদের বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে এবং তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত। তিনি বলেন, “আমাদের আঙুল ট্রিগারে রয়েছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি ও ইরানের কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তা পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।




































