ঢাকা ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪৪:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 18

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক আয়োজন করা হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর প্রধানসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রধান উপদেষ্টার সহকারী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, নির্বাচনের দিন যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, তার জন্য সর্বোচ্চ মনোযোগী হতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ভোট দেশের জন্য আদর্শ নির্বাচন হিসেবে স্মরণীয় হবে। তিনি আরও বলেন, ধাপে ধাপে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে এবং ইসির নির্দেশনা মেনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

ড. ইউনূস জানান, এবারের নির্বাচনে বডি ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সবকিছু মনিটরিং করা হবে, যাতে ভোট কেন্দ্রগুলোতে সঠিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনে গভীর আগ্রহ দেখাচ্ছেন, তাই প্রস্তুতিটিও সুসংগঠিত হতে হবে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ২৬টি দেশের প্রতিনিধি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন তিনশজন পর্যবেক্ষক পাঠাবে, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ৫৬ জন বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তিনি সতর্ক করেন, সাইবার স্পেসে তথ্য বিকৃতি এ বছর বড় চ্যালেঞ্জ, তাই গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি জানান, ভোটকেন্দ্রে বডি ক্যামেরা এবং ড্রোন ব্যবহার করা হবে। ভোটের চার দিন আগে সকল বাহিনী মাঠে মোতায়েন হবে এবং ভোটের পর আরও সাত দিন উপস্থিত থাকবে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে লুট হওয়া অস্ত্রের উল্লেখযোগ্য অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। নির্বাচনের সময় জনগণ শান্তিতে ভোট দিতে পারবে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান নির্বাচনের দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে কাজ করছে। বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছেন, মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা সব কেন্দ্রেই নিশ্চিত করা হবে।

ড. ইউনূস বৈঠকের শেষভাগে বলেন, বডি ক্যামেরা যথাযথভাবে ব্যবহৃত হলে নির্বাচন নিরাপদ ও সুষ্ঠু হবে। প্রয়োজনে সপ্তাহে একবার অথবা আরও ঘন বৈঠক আয়োজন করা হবে।

এই বৈঠক প্রতিফলিত করেছে যে, নির্বাচনকে ঘিরে সর্বোচ্চ সমন্বয়, প্রযুক্তি ব্যবহার ও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে যাতে দেশের জনগণ নিরাপদ, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা পায়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪৪:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক আয়োজন করা হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর প্রধানসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রধান উপদেষ্টার সহকারী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, নির্বাচনের দিন যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, তার জন্য সর্বোচ্চ মনোযোগী হতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ভোট দেশের জন্য আদর্শ নির্বাচন হিসেবে স্মরণীয় হবে। তিনি আরও বলেন, ধাপে ধাপে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে এবং ইসির নির্দেশনা মেনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

ড. ইউনূস জানান, এবারের নির্বাচনে বডি ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সবকিছু মনিটরিং করা হবে, যাতে ভোট কেন্দ্রগুলোতে সঠিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনে গভীর আগ্রহ দেখাচ্ছেন, তাই প্রস্তুতিটিও সুসংগঠিত হতে হবে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ২৬টি দেশের প্রতিনিধি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন তিনশজন পর্যবেক্ষক পাঠাবে, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ৫৬ জন বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তিনি সতর্ক করেন, সাইবার স্পেসে তথ্য বিকৃতি এ বছর বড় চ্যালেঞ্জ, তাই গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি জানান, ভোটকেন্দ্রে বডি ক্যামেরা এবং ড্রোন ব্যবহার করা হবে। ভোটের চার দিন আগে সকল বাহিনী মাঠে মোতায়েন হবে এবং ভোটের পর আরও সাত দিন উপস্থিত থাকবে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে লুট হওয়া অস্ত্রের উল্লেখযোগ্য অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। নির্বাচনের সময় জনগণ শান্তিতে ভোট দিতে পারবে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান নির্বাচনের দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে কাজ করছে। বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছেন, মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা সব কেন্দ্রেই নিশ্চিত করা হবে।

ড. ইউনূস বৈঠকের শেষভাগে বলেন, বডি ক্যামেরা যথাযথভাবে ব্যবহৃত হলে নির্বাচন নিরাপদ ও সুষ্ঠু হবে। প্রয়োজনে সপ্তাহে একবার অথবা আরও ঘন বৈঠক আয়োজন করা হবে।

এই বৈঠক প্রতিফলিত করেছে যে, নির্বাচনকে ঘিরে সর্বোচ্চ সমন্বয়, প্রযুক্তি ব্যবহার ও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে যাতে দেশের জনগণ নিরাপদ, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা পায়।