ঢাকা ১১:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাহবুব আলী চাষীর মুক্তি পথের সন্ধানে

রীতা ভৌমিক, সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:১৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 42

মাহবুব আলী চাষীর মুক্তি পথের সন্ধানের বইয়ের কভার ।

মুক্তি পথের সন্ধানে মাহবুব আলী চাষীর একটি অসমাপ্ত- অনুসন্ধিৎসু ভ্রমণ কাহিনী। লেখক বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তারই অন্তর দৃষ্টিমূলক বর্ণনা তুলে ধরেছেন।

এই বইতে তার ২৩টি লেখা সংকলিত হয়েছে। মুক্তির পথের সন্ধানে, গান্ধী, পঞ্চায়েতে মৌল ভূমিকা, পাঞ্জাব ও হরিয়ানার সঙ্গে তুলনা, পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা বিপরীত, ভারতীয় সিভিল সার্ভিস প্রসঙ্গে, জাতীয়তাবোধ, ট্রেনে কলকাতা থেকে দিল্লী, পাকিস্তান, ভারত, অপারেশন বর্গা, ভূমি বন্টন, কৃষি উৎপাদনের ওপর এর প্রভাব, ইন্দিরা গান্ধীর নয়া ২০ দফা কমসূচী, নয়া দিল্লীর পরিবহন ব্যবস্থা, বাংলাদেশ- গতকাল, আজ ও আগামীকাল, নিজামুউদ্দিন আউলিয়া, পাকিস্তানের পথে, পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা, চৌরঙ্গী পাইলট প্রকল্প, ইসলাম সম্পর্কে আখতার হামিদ খান, স্থানীয় সরকার প্রসঙ্গে, আখতার হামিদ খান ও আমি এই লেখাগুলোতে লেখক ভারত, পাকিস্তানের কৃষি, শিক্ষা, যাতায়াত ব্যবস্থা, পরিবেশ ইত্যাদি বিষয়গুলো বিশ্লেষণ- গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেছেন।

আপন মনে কাজ করছেন মাহবুব আলী চাষী। ছবি: সংগৃহীত
আপন মনে কাজ করছেন মাহবুব আলী চাষী। ছবি: সংগৃহীত

বইটির সমন্বয়ক সম্পাদকের ভূমিকায় এএইচএম নোমান লিখেছেন, মাহবুব আলম চাষী একজন মুক্তিযোদ্ধা, কুটনীতিক, দেশ প্রেমিক, সমাজ সংস্কারক।
তিনি কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন করেছেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টাস করেছেন। সিভিল সার্ভিস পাকিস্তান (সিএসপি) পরীক্ষায় অংশ নেন। সেসঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন অফিসারের পরীক্ষাও দেন। সেখানে নির্বাচিত হন। কিন্তু তিনি ১৯৪৯ সালে যোগ দেন পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে।

স্থলপথে লেখক ভ্রমণ করতে গিয়ে কি কি বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন, সেই বাঁধা পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছেছেন, সেখানকার ভাষা, সংস্কৃতি সাবলীলভাবে তুলে ধরেছেন ‘মুক্তি পথের সন্ধানে’ শিরোনামের প্রথম লেখাটিতে।

মাহবুব আলম চাষী তাঁর ‘মুক্তি পথের সন্ধানে’ ভূমিকায় লিখেছেন- ‘১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশের বাইরে এই- আমার প্রথম দিন। ১৯৭১ সালের ৬ই এপ্রিল আমি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতে এসেছিলাম।

উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করা, নিজস্ব আবাস ভূমির জন্য লড়াই করা। মুক্তিযুদ্ধকালীন পররাষ্ট্র সচিব ১৯৮১ সালে মুখ্য সচিব (স্ব-নির্ভর) ছিলেন। সেই বাংলাদেশ আজ অর্জিত হয়েছে। তবে সেদিন আমরা যে স্বপ্ন ও আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যুদ্ধে শরীক হয়েছিলাম, তার কি হয়েছে সে জবাব আজ কে দেবে?

চতুর্থ প্যারায় তিনি লিখেছেন, আমার ভারত ও পাকিস্তান হয়ে মক্কা যাত্রার অন্যতম উদ্দেশই হল এর একটা উত্তর খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করা।

লেখক মাহবুব আলম চাষী হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে সড়ক পথে বাসে-ট্রেনে ৩য় শ্রেণীতে বেনাপোল হয়ে কোলকাতা-দিল্লি করাচি, পাকিস্তান সফর শেষে দুবাই হয়ে সৌদি আরবের পথে প্রতিদিনকার রোজনামচা বিস্তারিত লিখা ‘সাপ্তাহিক আমার দেশ’ এ ডাকযোগে পাঠাতেন যা পরবর্তীতে বই আকারে ছাপা হয়।

তবে এই যাত্রায় একটি মর্মান্তিক দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। মাহবুব আলম চাষী পবিত্র মক্কায় পৌঁছার ৩০০ মাইল দূরত্বে ১৯৮৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আল-গাসিম’র উনাইজা’র কাছে মেজনাব নামক স্থানে মরুপথে এক অপ্রত্যাশিত সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে-রাজিউন)।

চালকসহ ৩ জনকে মরুপথে মসজিদের পাশে গাড়ির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিমানযোগে তার মৃতদেহ দেশে আনা হয়। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে রাঙ্গুনীয়ায় ‘চাষী ফার্মের’ পাহাড়ি চূড়ায় ১৯৮৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তাঁর পূর্ব ইচ্ছায় গাছের নিচে দাফন করা হয়।

মাহবুব আলম চাষীর জন্ম ১ অক্টোবর ১৯২৭। তিনি ১৯৭৮ সালে স্বাধীনতা পুরষ্কার পান।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মাহবুব আলী চাষীর মুক্তি পথের সন্ধানে

সর্বশেষ আপডেট ০১:১৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

মুক্তি পথের সন্ধানে মাহবুব আলী চাষীর একটি অসমাপ্ত- অনুসন্ধিৎসু ভ্রমণ কাহিনী। লেখক বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তারই অন্তর দৃষ্টিমূলক বর্ণনা তুলে ধরেছেন।

এই বইতে তার ২৩টি লেখা সংকলিত হয়েছে। মুক্তির পথের সন্ধানে, গান্ধী, পঞ্চায়েতে মৌল ভূমিকা, পাঞ্জাব ও হরিয়ানার সঙ্গে তুলনা, পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা বিপরীত, ভারতীয় সিভিল সার্ভিস প্রসঙ্গে, জাতীয়তাবোধ, ট্রেনে কলকাতা থেকে দিল্লী, পাকিস্তান, ভারত, অপারেশন বর্গা, ভূমি বন্টন, কৃষি উৎপাদনের ওপর এর প্রভাব, ইন্দিরা গান্ধীর নয়া ২০ দফা কমসূচী, নয়া দিল্লীর পরিবহন ব্যবস্থা, বাংলাদেশ- গতকাল, আজ ও আগামীকাল, নিজামুউদ্দিন আউলিয়া, পাকিস্তানের পথে, পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা, চৌরঙ্গী পাইলট প্রকল্প, ইসলাম সম্পর্কে আখতার হামিদ খান, স্থানীয় সরকার প্রসঙ্গে, আখতার হামিদ খান ও আমি এই লেখাগুলোতে লেখক ভারত, পাকিস্তানের কৃষি, শিক্ষা, যাতায়াত ব্যবস্থা, পরিবেশ ইত্যাদি বিষয়গুলো বিশ্লেষণ- গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেছেন।

আপন মনে কাজ করছেন মাহবুব আলী চাষী। ছবি: সংগৃহীত
আপন মনে কাজ করছেন মাহবুব আলী চাষী। ছবি: সংগৃহীত

বইটির সমন্বয়ক সম্পাদকের ভূমিকায় এএইচএম নোমান লিখেছেন, মাহবুব আলম চাষী একজন মুক্তিযোদ্ধা, কুটনীতিক, দেশ প্রেমিক, সমাজ সংস্কারক।
তিনি কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন করেছেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টাস করেছেন। সিভিল সার্ভিস পাকিস্তান (সিএসপি) পরীক্ষায় অংশ নেন। সেসঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন অফিসারের পরীক্ষাও দেন। সেখানে নির্বাচিত হন। কিন্তু তিনি ১৯৪৯ সালে যোগ দেন পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে।

স্থলপথে লেখক ভ্রমণ করতে গিয়ে কি কি বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন, সেই বাঁধা পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছেছেন, সেখানকার ভাষা, সংস্কৃতি সাবলীলভাবে তুলে ধরেছেন ‘মুক্তি পথের সন্ধানে’ শিরোনামের প্রথম লেখাটিতে।

মাহবুব আলম চাষী তাঁর ‘মুক্তি পথের সন্ধানে’ ভূমিকায় লিখেছেন- ‘১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশের বাইরে এই- আমার প্রথম দিন। ১৯৭১ সালের ৬ই এপ্রিল আমি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতে এসেছিলাম।

উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করা, নিজস্ব আবাস ভূমির জন্য লড়াই করা। মুক্তিযুদ্ধকালীন পররাষ্ট্র সচিব ১৯৮১ সালে মুখ্য সচিব (স্ব-নির্ভর) ছিলেন। সেই বাংলাদেশ আজ অর্জিত হয়েছে। তবে সেদিন আমরা যে স্বপ্ন ও আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যুদ্ধে শরীক হয়েছিলাম, তার কি হয়েছে সে জবাব আজ কে দেবে?

চতুর্থ প্যারায় তিনি লিখেছেন, আমার ভারত ও পাকিস্তান হয়ে মক্কা যাত্রার অন্যতম উদ্দেশই হল এর একটা উত্তর খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করা।

লেখক মাহবুব আলম চাষী হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে সড়ক পথে বাসে-ট্রেনে ৩য় শ্রেণীতে বেনাপোল হয়ে কোলকাতা-দিল্লি করাচি, পাকিস্তান সফর শেষে দুবাই হয়ে সৌদি আরবের পথে প্রতিদিনকার রোজনামচা বিস্তারিত লিখা ‘সাপ্তাহিক আমার দেশ’ এ ডাকযোগে পাঠাতেন যা পরবর্তীতে বই আকারে ছাপা হয়।

তবে এই যাত্রায় একটি মর্মান্তিক দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। মাহবুব আলম চাষী পবিত্র মক্কায় পৌঁছার ৩০০ মাইল দূরত্বে ১৯৮৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আল-গাসিম’র উনাইজা’র কাছে মেজনাব নামক স্থানে মরুপথে এক অপ্রত্যাশিত সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে-রাজিউন)।

চালকসহ ৩ জনকে মরুপথে মসজিদের পাশে গাড়ির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিমানযোগে তার মৃতদেহ দেশে আনা হয়। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে রাঙ্গুনীয়ায় ‘চাষী ফার্মের’ পাহাড়ি চূড়ায় ১৯৮৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তাঁর পূর্ব ইচ্ছায় গাছের নিচে দাফন করা হয়।

মাহবুব আলম চাষীর জন্ম ১ অক্টোবর ১৯২৭। তিনি ১৯৭৮ সালে স্বাধীনতা পুরষ্কার পান।