ঢাকা ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দি হাঙ্গার প্রজেক্ট’র সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উৎসব

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 92

বৈচিত্র্যের বন্ধনে সম্প্রীতি: মিরপুরে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উৎসব।

বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাসে গড়ে ওঠা বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধই জাতি, বর্ণ ও ধর্ম নির্বিশেষে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার মূল শক্তি। এই বৈচিত্র্যকে উদযাপন করতেই দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ আয়োজন করে “সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উৎসব ২০২৬”

রাজধানীর মিরপুরের একটি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ উৎসবের প্রথম পর্বে ছিল আলোচনা সভা। স্বাগত বক্তব্যে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা বলেন, বাংলাদেশে শান্তি ও সম্প্রীতির অন্যতম মাপকাঠি হতে পারে- একে অপরের সংস্কৃতি, জীবনাচার ও বিশ্বাস সম্পর্কে জানা এবং পার্থক্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। তিনি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে বোঝা ও মর্যাদা দেওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেন, সংস্কৃতি চর্চা বাড়ালে সমাজের অন্ধকার দূর হয় এবং সহনশীলতা বৃদ্ধি পায়। বাউলদের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মেঘনা গুহঠাকুরতা বলেন, মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। শারীরিক আঘাত বা অপমান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

উৎসবের দ্বিতীয় পর্বে ছিল বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে স্থান পায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মনোমুগ্ধকর মানব পুতুল নাচ, জারি গান ও পট গান, ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী গীতিকা, পার্বত্য অঞ্চলের রাখাইন নৃত্য, বাংলার আট কবির গান, নাটক, আবৃত্তি এবং একক ও দলীয় নৃত্য। এসব পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দর্শকরা বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ও বহুমাত্রিক সংস্কৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান।

পুরো আয়োজন জুড়ে সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে সংঘাত পরিহার করে সম্প্রীতিময় বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দি হাঙ্গার প্রজেক্ট’র সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উৎসব

সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাসে গড়ে ওঠা বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধই জাতি, বর্ণ ও ধর্ম নির্বিশেষে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার মূল শক্তি। এই বৈচিত্র্যকে উদযাপন করতেই দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ আয়োজন করে “সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উৎসব ২০২৬”

রাজধানীর মিরপুরের একটি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ উৎসবের প্রথম পর্বে ছিল আলোচনা সভা। স্বাগত বক্তব্যে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা বলেন, বাংলাদেশে শান্তি ও সম্প্রীতির অন্যতম মাপকাঠি হতে পারে- একে অপরের সংস্কৃতি, জীবনাচার ও বিশ্বাস সম্পর্কে জানা এবং পার্থক্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। তিনি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে বোঝা ও মর্যাদা দেওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেন, সংস্কৃতি চর্চা বাড়ালে সমাজের অন্ধকার দূর হয় এবং সহনশীলতা বৃদ্ধি পায়। বাউলদের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মেঘনা গুহঠাকুরতা বলেন, মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। শারীরিক আঘাত বা অপমান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

উৎসবের দ্বিতীয় পর্বে ছিল বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে স্থান পায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মনোমুগ্ধকর মানব পুতুল নাচ, জারি গান ও পট গান, ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী গীতিকা, পার্বত্য অঞ্চলের রাখাইন নৃত্য, বাংলার আট কবির গান, নাটক, আবৃত্তি এবং একক ও দলীয় নৃত্য। এসব পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দর্শকরা বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ও বহুমাত্রিক সংস্কৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান।

পুরো আয়োজন জুড়ে সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে সংঘাত পরিহার করে সম্প্রীতিময় বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।