রফিক আজাদ স্মৃতি পুরস্কার পেলেন ময়ুখ চৌধুরী ও ওবায়েদ আকাশ
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:০৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / 58
কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছেন সমসাময়িক বাংলা কবিতার দুই গুরুত্বপূর্ণ কবি-সম্পাদক ময়ুখ চৌধুরী ও ওবায়েদ আকাশ। ব্যতিক্রমী সাহিত্যচর্চা ও সম্পাদনায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
ধানমণ্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে আয়োজিত কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন বলেন,
“অনেকে জেগে থেকেও চুপ থাকেন, আবার অনেকে ঘুমিয়ে গেলেও কথা বলেন। কবি রফিক আজাদ আজ ঘুমিয়ে থাকলেও তাঁর কবিতা এখনো কথা বলছে। তাঁর কবিতা সারা দেশের মানুষ পাঠ করছে।”
তিনি বলেন, কবি রফিক আজাদ ছিলেন তাঁর বন্ধু ও সহপাঠী এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। এ সময় তিনি রফিক আজাদের দেওয়া একটি অটোগ্রাফযুক্ত বইয়ের স্মৃতিচারণ করেন এবং একটি কবিতা পাঠ করে শোনান, যা বর্তমান সময়ের সঙ্গে গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করেন। একজন কবি কীভাবে ভবিষ্যৎদ্রষ্টা হয়ে ওঠেন, তার ইঙ্গিত কবিতার ভেতরেই থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রফিক আজাদের প্রিয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভক্তিগীতি “সকাতরে ওই কাঁদিছে সকলে, শোনো শোনো পিতা” পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
২০২৫ সালের জন্য কবি ও গবেষক ময়ুখ চৌধুরী এবং ২০২৬ সালের জন্য দৈনিক সংবাদ-এর সাহিত্য সম্পাদক ও লিটল ম্যাগাজিন শালুক-এর সম্পাদক কবি ওবায়েদ আকাশ কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পুরস্কারে ভূষিত হন। প্রত্যেককে একটি করে ক্রেস্ট, ৫০ হাজার টাকার চেক, উত্তরীয় ও পুষ্পস্তবক দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
ময়ুখ চৌধুরীর নামে শংসাপত্র পাঠ করেন কবি আব্দুর রব এবং ওবায়েদ আকাশের নামে শংসাপত্র পাঠ করেন কবি সাবেরা তাবাসসুম। প্রধান অতিথি অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন কবিদ্বয়ের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন। সম্মাননা সনদ প্রদান করেন রফিক আজাদ–পত্নী কবি দিলারা হাফিজ এবং পুরস্কারের অর্থমূল্য তুলে দেন তাঁর দুই পুত্র অব্যয় আজাদ ও অভিন্ন আজাদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পর্ষদের সভাপতি কবি ফারুক মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি জরিনা আখতার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কবি সাকিরা পারভীন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন রফিক আজাদের পুত্র অব্যয় আজাদ।
অনুষ্ঠানে কবি রফিক আজাদের কবিতার মূল্যায়ন করে প্রবন্ধ পাঠ করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রফিক আজাদ গবেষক গোলাম রব্বানী। পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই কবি-সম্পাদক সংক্ষেপে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
বিশেষ অতিথি জরিনা আখতার ও সভাপতি ফারুক মাহমুদ তাদের বক্তব্যে কবি রফিক আজাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করেন। লিটল ম্যাগাজিন শালুক-এর পক্ষ থেকে পুরস্কারপ্রাপ্তদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান নির্বাহী সম্পাদক কবি ও নন্দনতাত্ত্বিক মাহফুজ আল-হোসেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পর্ষদের উপদেষ্টা কবি দিলারা হাফিজ। তিনি ২০১৭ সালে স্মৃতি পর্ষদের যাত্রা থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতেও এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।





































