ঢাকা ০২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চরমোনাই ছাড়াই জরুরি বৈঠকে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৫৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 68

সংগৃহীত ছবি

চরমোনাই পীর নেতৃত্বাধীন দল-ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে জোটসঙ্গীদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আসন সমঝোতা ঘিরে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক শুরু হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের উদ্দেশ্য জানানো না হলেও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ফয়সাল বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চাঁদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমাদ আব্দুর কাদেরসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।

তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো নেতা বৈঠকে অংশ নেননি। দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ সাংবাদিকদের বলেন, আজকের বৈঠকে আমাদের কোনো প্রতিনিধি নেই, যদিও সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে এবং জোটে থাকা না থাকার সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।

জানা গেছে, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতা নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এ ইস্যুতে শরিক দলগুলোর সঙ্গে এবং দলের অভ্যন্তরে একাধিক বৈঠক হলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। একই ধরনের অবস্থান রয়েছে মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসেরও।

এর আগে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ আসন সমঝোতা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকলেও পরে তা স্থগিত করা হয়। জামায়াত জানায়, ইসলামী আন্দোলনের অনুরোধেই এই স্থগিতাদেশ, যদিও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আলাদা বিবৃতিতে সে দাবি নাকচ করে।

গত ৮ ডিসেম্বর আট দলের মধ্যে আসন সমঝোতা আলোচনা শুরু হয়। পরে ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় নাগরিক পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও আমার বাংলাদেশ পার্টি জোটে যোগ দেয়। পরবর্তীতে সব দলই স্বতন্ত্রভাবে ৩০০ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়।

জোটসংশ্লিষ্ট নেতারা জানান, শুরুতে জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে আসন বণ্টনের কথা থাকলেও পরে কয়েকটি দল নির্দিষ্ট সংখ্যক আসনের দাবি তোলে। ইসলামী আন্দোলন যেখানে ৭০টির বেশি আসন চেয়েছে, সেখানে জামায়াত সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪৫টি আসন দিতে রাজি। খেলাফত মজলিস ২৫টি আসনে নির্বাচন করতে চাইলে জামায়াত তাদের ১৫টির বেশি দিতে চায় না। অন্য নয়টি দলের সঙ্গে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত হলেও এই দুই দলের সঙ্গে আলোচনা এখনো ঝুলে আছে।

জোটের ভেতরে অসন্তোষ আরও বেড়েছে জামায়াতের একক কিছু সিদ্ধান্তকে ঘিরে। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও আমার বাংলাদেশ পার্টির সঙ্গে আলাদা বৈঠক করে আসন সমঝোতার বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ায় অন্য শরিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

জোটের অস্থিরতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে বগুড়া-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী নূর মোহাম্মদের একটি ফেসবুক পোস্টে। তিনি লেখেন, ‘১১ দলের সমঝোতা ভেঙে যাচ্ছে।’ পোস্টে তিনি আরও জানান, ইসলামী আন্দোলন তাদের মজলিসে শুরা ও সংসদ সদস্য প্রার্থীদের মতামত নিয়েছে, যেখানে অধিকাংশই জোট ছাড়িয়ে এককভাবে নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছেন।

নূর মোহাম্মদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামী আন্দোলনকে চূড়ান্তভাবে ৪৫টি আসন দেওয়ার প্রস্তাব থাকলেও তারা এখন ৬৫ থেকে ৭০টি আসন এবং নির্বাচন পরবর্তী সরকার কাঠামো নিয়েও স্পষ্ট ঘোষণা চাচ্ছে। পাশাপাশি প্রার্থী প্রত্যাহারের কারণে তৃণমূল পর্যায়ে অসন্তোষ বেড়ে যাওয়ায় শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চরমোনাই ছাড়াই জরুরি বৈঠকে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট

সর্বশেষ আপডেট ০২:৫৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

চরমোনাই পীর নেতৃত্বাধীন দল-ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে জোটসঙ্গীদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আসন সমঝোতা ঘিরে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক শুরু হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের উদ্দেশ্য জানানো না হলেও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ফয়সাল বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চাঁদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমাদ আব্দুর কাদেরসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।

তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো নেতা বৈঠকে অংশ নেননি। দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ সাংবাদিকদের বলেন, আজকের বৈঠকে আমাদের কোনো প্রতিনিধি নেই, যদিও সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে এবং জোটে থাকা না থাকার সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।

জানা গেছে, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতা নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এ ইস্যুতে শরিক দলগুলোর সঙ্গে এবং দলের অভ্যন্তরে একাধিক বৈঠক হলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। একই ধরনের অবস্থান রয়েছে মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসেরও।

এর আগে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ আসন সমঝোতা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকলেও পরে তা স্থগিত করা হয়। জামায়াত জানায়, ইসলামী আন্দোলনের অনুরোধেই এই স্থগিতাদেশ, যদিও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আলাদা বিবৃতিতে সে দাবি নাকচ করে।

গত ৮ ডিসেম্বর আট দলের মধ্যে আসন সমঝোতা আলোচনা শুরু হয়। পরে ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় নাগরিক পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও আমার বাংলাদেশ পার্টি জোটে যোগ দেয়। পরবর্তীতে সব দলই স্বতন্ত্রভাবে ৩০০ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়।

জোটসংশ্লিষ্ট নেতারা জানান, শুরুতে জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে আসন বণ্টনের কথা থাকলেও পরে কয়েকটি দল নির্দিষ্ট সংখ্যক আসনের দাবি তোলে। ইসলামী আন্দোলন যেখানে ৭০টির বেশি আসন চেয়েছে, সেখানে জামায়াত সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪৫টি আসন দিতে রাজি। খেলাফত মজলিস ২৫টি আসনে নির্বাচন করতে চাইলে জামায়াত তাদের ১৫টির বেশি দিতে চায় না। অন্য নয়টি দলের সঙ্গে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত হলেও এই দুই দলের সঙ্গে আলোচনা এখনো ঝুলে আছে।

জোটের ভেতরে অসন্তোষ আরও বেড়েছে জামায়াতের একক কিছু সিদ্ধান্তকে ঘিরে। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও আমার বাংলাদেশ পার্টির সঙ্গে আলাদা বৈঠক করে আসন সমঝোতার বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ায় অন্য শরিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

জোটের অস্থিরতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে বগুড়া-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী নূর মোহাম্মদের একটি ফেসবুক পোস্টে। তিনি লেখেন, ‘১১ দলের সমঝোতা ভেঙে যাচ্ছে।’ পোস্টে তিনি আরও জানান, ইসলামী আন্দোলন তাদের মজলিসে শুরা ও সংসদ সদস্য প্রার্থীদের মতামত নিয়েছে, যেখানে অধিকাংশই জোট ছাড়িয়ে এককভাবে নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছেন।

নূর মোহাম্মদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামী আন্দোলনকে চূড়ান্তভাবে ৪৫টি আসন দেওয়ার প্রস্তাব থাকলেও তারা এখন ৬৫ থেকে ৭০টি আসন এবং নির্বাচন পরবর্তী সরকার কাঠামো নিয়েও স্পষ্ট ঘোষণা চাচ্ছে। পাশাপাশি প্রার্থী প্রত্যাহারের কারণে তৃণমূল পর্যায়ে অসন্তোষ বেড়ে যাওয়ায় শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।