সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্বেগ
ত্রয়োদশ নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ আশানুরূপ নয়
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৫:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / 64
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা আশানুরূপ না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি- যা ৭১টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্ল্যাটফর্ম।
মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১০৯ জন নারী, যা মোট প্রার্থীর ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। নারী-পুরুষ জনসংখ্যার অনুপাতের তুলনায় এই চিত্রকে তারা চরম বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অধিকাংশ রাজনৈতিক দল থেকেই কোনো নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এমনকি যে রাজনৈতিক দলগুলো প্রকাশ্যে তাদের নেতৃত্বে ৪০ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্বের দাবি করে, সেসব দল থেকেও নারী প্রার্থীর অনুপস্থিতি বিস্ময়কর ও হতাশাজনক।
সংগঠনটি জানায়, নির্বাচনে অংশ নেওয়া ১০৯ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে ৭২ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত এবং বাকি ৩৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এই তথ্য থেকেই স্পষ্ট হয় যে, ক্ষমতার কাঠামোতে নারীর অংশগ্রহণ এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, প্রতিকূল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে নারীদের প্রতিটি পদক্ষেপেই লড়াই করে রাজনৈতিক পরিসরে জায়গা করে নিতে হয়। অর্থনীতি ও জাতীয় উন্নয়নে নারীর অংশগ্রহণ পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে যতটা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে, রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের অংশগ্রহণ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ততটাই উপেক্ষিত।
এতে আরও বলা হয়, সমাজে বিদ্যমান নারী বিদ্বেষী ও পুরুষতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণে অনেক নারী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে ভয় ও শঙ্কা অনুভব করছেন। এই বাস্তবতা পুরুষতান্ত্রিক রাজনীতি টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল হিসেবেও কাজ করছে বলে মন্তব্য করে সংগঠনটি। অথচ ১৯৫২ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নারীর সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা ছিল বলে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।
বিবৃতির শেষাংশে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি নারীর দৃশ্যমান ও অর্থবহ রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সব রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তারা মনে করে, একটি গণতান্ত্রিক ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীর সমঅংশীদারিত্ব নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি।































