১৬টি স্যাটেলাইট নিয়ে মহাকাশে নিখোঁজ ভারতীয় রকেট
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / 53
১৬টি স্যাটেলাইট বহনকারী একটি পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেল (পিএসএলভি) যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় বড় ধাক্কা খেয়েছে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচি। ঘটনার পর বিষয়টি তদন্তে নেমেছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় অবস্থিত সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে পিএসএলভি-সি৬২ রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে শুরু হওয়া এই উৎক্ষেপণ ছিল ২০২৬ সালের ভারতের প্রথম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ অভিযান। তবে উৎক্ষেপণের শেষ পর্যায়ে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ায় রকেটটিকে সঠিক কক্ষপথে স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
ইসরো জানায়, উৎক্ষেপণের প্রায় আট মিনিট পর রকেটটির তৃতীয় ধাপের কার্যকারিতায় সমস্যা দেখা দেয়, যার ফলে যানটি গতিপথ হারিয়ে ফেলে। উৎক্ষেপণ-পরবর্তী এক ব্রিফিংয়ে ইসরো চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন বলেন, মিশনে একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিয়েছে এবং রকেটটি নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করা যায়নি।
ইসরোর সাবেক বিজ্ঞানী ও সৌর প্যানেল বিশেষজ্ঞ মনীশ পুরোহিত বলেন, মহাকাশ অভিযানে এমন বিপর্যয় নতুন নয়। তবে কত দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, ব্যর্থতা বিশ্লেষণ কমিটি ইতোমধ্যে সব টেলিমেট্রি তথ্য পর্যালোচনা করে মূল কারণ শনাক্তের কাজ শুরু করেছে।
মিশনে মোট ১৬টি স্যাটেলাইট ছিল, যার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছিল পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ ‘অন্বেষা’। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (ডিআরডিও) তৈরি এই উপগ্রহটিকে পৃথিবী থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার উচ্চতায় একটি সান-সিনক্রোনাস পোলার কক্ষপথে স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল।
ইসরো জানিয়েছিল, অন্বেষার মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অনুপ্রবেশ ও নাশকতার ওপর ঘনিষ্ঠ নজরদারি চালানো সম্ভব হবে। এ কারণে উপগ্রহটিকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘ভারতের সিসিটিভি’ হিসেবেও উল্লেখ করা হচ্ছিল।
উন্নত হাইপারস্পেকট্রাল ইমেজিং ও রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অন্বেষা সূক্ষ্ম তথ্য সংগ্রহে সক্ষম হওয়ার কথা ছিল। এর মাধ্যমে ঘন জঙ্গল বা বাঙ্কারের ভেতরে লুকিয়ে থাকা শত্রুকেও শনাক্ত করা সম্ভব হতো। সীমান্তবর্তী ও সংবেদনশীল এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারির ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। তবে মিশন ব্যর্থ হওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলো না।
এ ছাড়া এই মিশনে ফ্রান্স, নেপাল, ব্রাজিল ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন সংস্থার মালিকানাধীন আটটি বিদেশি স্যাটেলাইটও বহন করা
হচ্ছিল।





































