ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নীল আকাশ আর সবুজ স্বপ্নের দ্বীপ: ল্যাংকাউই

শরিয়ত খান, মালয়েশিয়া থেকে ফিরে
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:১৬:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
  • / 16

নীল আকাশ আর সবুজ স্বপ্নের দ্বীপ: ল্যাংকাউই। ছবি: শরিয়ত খান

মালয়েশিয়ার উত্তর-পশ্চিমে আন্দামান সাগরের বুকে ছড়িয়ে থাকা দ্বীপপুঞ্জ ল্যাংকাউই। যেখানে প্রকৃতি নিজেই যেন শিল্পী। নীল সমুদ্র, সবুজ পাহাড়, সাদা বালুর সৈকত আর রহস্যময় লোককথার মিশেলে ল্যাংকাউই হয়ে উঠেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্য।

 

নীল সমুদ্র, সবুজ পাহাড় আর সাদা বালুর সৈকত এই দ্বীপকে করেছে স্বপ্নের মতো সুন্দর। স্কাই ব্রিজ ও কেবল কারে চড়ে দ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় আকাশছোঁয়া উচ্চতা থেকে। মাহসুরি লোককথা, ম্যানগ্রোভ বন আর ডিউটি-ফ্রি শপিং ল্যাংকাউই ভ্রমণকে করে তোলে বৈচিত্র্যময় ও স্মরণীয়।

 

নীল আকাশ আর সবুজ স্বপ্নের দ্বীপ: ল্যাংকাউই। ছবি: শরিয়ত খান
নীল আকাশ আর সবুজ স্বপ্নের দ্বীপ: ল্যাংকাউই। ছবি: শরিয়ত খান

ল্যাংকাউই মূলত ৯৯টি ছোট-বড় দ্বীপ নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে প্রধান দ্বীপটি পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয়। এখানে রয়েছে মনোরম সৈকত পান্তাই চেনাং এবং পান্তাই তেঙ্গা, যেখানে সূর্যাস্তের দৃশ্য মনে গেঁথে যাওয়ার মতো। সমুদ্রের নীল জল আর ঢেউয়ের মৃদু শব্দ ভ্রমণপিপাসুদের এনে দেয় প্রশান্তির ছোঁয়া।

 

ল্যাংকাউইয়ের অন্যতম আইকন হলো স্কাই ব্রিজ। কেবল কারে চড়ে পাহাড়ের চূড়ায় উঠলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে সমুদ্র, জঙ্গল ও দ্বীপপুঞ্জের অপূর্ব দৃশ্য। ১২৫ মিটার দীর্ঘ বাঁকানো এই সেতুতে দাঁড়িয়ে মনে হয় যেন আকাশের ওপর হাঁটছেন।

 

ল্যাংকাউই শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যে ভরপুর নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রোমাঞ্চকর ইতিহাস ও কিংবদন্তি। মাহসুরি সমাধি দ্বীপটির সবচেয়ে পরিচিত ঐতিহাসিক স্থান। লোককথা অনুযায়ী, নির্দোষ মাহসুরির অভিশাপেই দীর্ঘদিন ল্যাংকাউই দুর্ভিক্ষ ও দুর্ভোগে আক্রান্ত ছিল- এই গল্প আজও পর্যটকদের কৌতূহলী করে তোলে।

 

কিলিম কার্স্ট ভূ-প্রাকৃতিক বনাঞ্চল – এ নৌভ্রমণ ল্যাংকাউই ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ। চুনাপাথরের পাহাড়, ম্যানগ্রোভ বন আর ঈগল পাখির উড়াল এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেয়। এখানেই ল্যাংকাউইয়ের নামকরণের উৎস- ‘ল্যাং’ অর্থ ঈগল, ‘কাউই’ অর্থ লালচে বাদামি।

 

নীল আকাশ আর সবুজ স্বপ্নের দ্বীপ: ল্যাংকাউই। ছবি: শরিয়ত খান
নীল আকাশ আর সবুজ স্বপ্নের দ্বীপ: ল্যাংকাউই। ছবি: শরিয়ত খান

ল্যাংকাউই একটি ডিউটি-ফ্রি দ্বীপ, ফলে এখানে চকলেট, পারফিউম, কসমেটিকস ও পানীয় তুলনামূলক সস্তায় পাওয়া যায়। পাশাপাশি মালয়, থাই ও সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ ভ্রমণকে করে তোলে আরও উপভোগ্য।

 

নভেম্বর থেকে এপ্রিল ল্যাংকাউই ভ্রমণের সেরা সময়। এ সময় আবহাওয়া শুষ্ক থাকে এবং সমুদ্র শান্ত থাকে ভ্রমণ ও জলক্রীড়ার জন্য।

 

ল্যাংকাউই এমন একটি গন্তব্য, যেখানে প্রকৃতি, ইতিহাস ও আধুনিক পর্যটনের অপূর্ব সমন্বয় পাওয়া যায়। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলতে চাইলে ল্যাংকাউই হতে পারে আপনার পরবর্তী স্বপ্নের ঠিকানা।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নীল আকাশ আর সবুজ স্বপ্নের দ্বীপ: ল্যাংকাউই

সর্বশেষ আপডেট ০৭:১৬:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

মালয়েশিয়ার উত্তর-পশ্চিমে আন্দামান সাগরের বুকে ছড়িয়ে থাকা দ্বীপপুঞ্জ ল্যাংকাউই। যেখানে প্রকৃতি নিজেই যেন শিল্পী। নীল সমুদ্র, সবুজ পাহাড়, সাদা বালুর সৈকত আর রহস্যময় লোককথার মিশেলে ল্যাংকাউই হয়ে উঠেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্য।

 

নীল সমুদ্র, সবুজ পাহাড় আর সাদা বালুর সৈকত এই দ্বীপকে করেছে স্বপ্নের মতো সুন্দর। স্কাই ব্রিজ ও কেবল কারে চড়ে দ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় আকাশছোঁয়া উচ্চতা থেকে। মাহসুরি লোককথা, ম্যানগ্রোভ বন আর ডিউটি-ফ্রি শপিং ল্যাংকাউই ভ্রমণকে করে তোলে বৈচিত্র্যময় ও স্মরণীয়।

 

নীল আকাশ আর সবুজ স্বপ্নের দ্বীপ: ল্যাংকাউই। ছবি: শরিয়ত খান
নীল আকাশ আর সবুজ স্বপ্নের দ্বীপ: ল্যাংকাউই। ছবি: শরিয়ত খান

ল্যাংকাউই মূলত ৯৯টি ছোট-বড় দ্বীপ নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে প্রধান দ্বীপটি পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয়। এখানে রয়েছে মনোরম সৈকত পান্তাই চেনাং এবং পান্তাই তেঙ্গা, যেখানে সূর্যাস্তের দৃশ্য মনে গেঁথে যাওয়ার মতো। সমুদ্রের নীল জল আর ঢেউয়ের মৃদু শব্দ ভ্রমণপিপাসুদের এনে দেয় প্রশান্তির ছোঁয়া।

 

ল্যাংকাউইয়ের অন্যতম আইকন হলো স্কাই ব্রিজ। কেবল কারে চড়ে পাহাড়ের চূড়ায় উঠলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে সমুদ্র, জঙ্গল ও দ্বীপপুঞ্জের অপূর্ব দৃশ্য। ১২৫ মিটার দীর্ঘ বাঁকানো এই সেতুতে দাঁড়িয়ে মনে হয় যেন আকাশের ওপর হাঁটছেন।

 

ল্যাংকাউই শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যে ভরপুর নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রোমাঞ্চকর ইতিহাস ও কিংবদন্তি। মাহসুরি সমাধি দ্বীপটির সবচেয়ে পরিচিত ঐতিহাসিক স্থান। লোককথা অনুযায়ী, নির্দোষ মাহসুরির অভিশাপেই দীর্ঘদিন ল্যাংকাউই দুর্ভিক্ষ ও দুর্ভোগে আক্রান্ত ছিল- এই গল্প আজও পর্যটকদের কৌতূহলী করে তোলে।

 

কিলিম কার্স্ট ভূ-প্রাকৃতিক বনাঞ্চল – এ নৌভ্রমণ ল্যাংকাউই ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ। চুনাপাথরের পাহাড়, ম্যানগ্রোভ বন আর ঈগল পাখির উড়াল এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেয়। এখানেই ল্যাংকাউইয়ের নামকরণের উৎস- ‘ল্যাং’ অর্থ ঈগল, ‘কাউই’ অর্থ লালচে বাদামি।

 

নীল আকাশ আর সবুজ স্বপ্নের দ্বীপ: ল্যাংকাউই। ছবি: শরিয়ত খান
নীল আকাশ আর সবুজ স্বপ্নের দ্বীপ: ল্যাংকাউই। ছবি: শরিয়ত খান

ল্যাংকাউই একটি ডিউটি-ফ্রি দ্বীপ, ফলে এখানে চকলেট, পারফিউম, কসমেটিকস ও পানীয় তুলনামূলক সস্তায় পাওয়া যায়। পাশাপাশি মালয়, থাই ও সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ ভ্রমণকে করে তোলে আরও উপভোগ্য।

 

নভেম্বর থেকে এপ্রিল ল্যাংকাউই ভ্রমণের সেরা সময়। এ সময় আবহাওয়া শুষ্ক থাকে এবং সমুদ্র শান্ত থাকে ভ্রমণ ও জলক্রীড়ার জন্য।

 

ল্যাংকাউই এমন একটি গন্তব্য, যেখানে প্রকৃতি, ইতিহাস ও আধুনিক পর্যটনের অপূর্ব সমন্বয় পাওয়া যায়। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলতে চাইলে ল্যাংকাউই হতে পারে আপনার পরবর্তী স্বপ্নের ঠিকানা।