ঢাকা ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢালিউডের নতুন ঠিকানা, ভারতের কপালে হাত

বিনোদন ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:১২:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 79

ঢালিউডের নতুন ঠিকানা, ভারতের কপালে হাত।

ভারতের লোকেশন, কলকাতা-মুম্বই-হায়দরাবাদ- এক সময় ঢালিউড ছবির শুটিং মানেই এই শহরগুলোর নাম। কিন্তু হঠাৎ করেই বদলে যাচ্ছে চিত্র। ভারত নয়, শ্রীলঙ্কা!

 

ভারতের প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক পত্রিকা আনন্দবাজার জানাচ্ছে, গত কয়েক মাসে একাধিক বাংলাদেশি ছবির শুটিং বাতিল হয়েছে ভারতে। প্রশ্ন উঠছে- এটা কি শুধু শুটিং সুবিধার সিদ্ধান্ত, নাকি এর পেছনে আছে রাজনীতি, কূটনীতি আর সীমান্তের টানাপোড়েন?

 

চলতি মাসেই শ্রীলঙ্কায় শুটিং শুরু হচ্ছে একাধিক বাংলাদেশি সিনেমার। যেগুলোর শুটিং হওয়ার কথা ছিল ভারতে। তালিকায় আছে- ‘রাক্ষস’, ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা’।

পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয় ইতিমধ্যেই টিম নিয়ে শ্রীলঙ্কায় পৌঁছে গেছেন। একইভাবে ‘প্রিন্স’ ছবির কলাকুশলীরাও দেশটিতে পা রেখেছেন। অথচ পরিকল্পনা ছিল- কলকাতা, মুম্বই, হায়দরাবাদ ঘুরে শুটিং। কিন্তু শেষ মুহুর্তে বাতিল!

 

কেন বাতিল হলো ভারত? সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মূল সমস্যা তিনটি- এক. ভিসা জটিলতা। ছবির সঙ্গে যুক্ত একাধিক শিল্পী ও কলাকুশলী ভারতের ভিসা পাননি। দুই. যাতায়াত ও অনুমতির অনিশ্চয়তা। বাংলাদেশ-ভারতের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনে শুটিংয়ের অনুমতি ও নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। তিন. সময় ও অর্থের ঝুঁকি। ভিসা পেতে দেরি হলে শুটিং পিছিয়ে যেত, বাজেট বেড়ে যেত বহুগুণ।

 

আর এসব কারনে প্রযোজকেরা বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হন। এই জায়গায় ঢালিউডের সামনে উঠে আসে শ্রীলঙ্কা। কারণ- ভৌগোলিকভাবে ভারতের মতো পরিবেশ। আধুনিক শহর, সমুদ্র, পাহাড়- এক লোকেশনেই সব। শুটিং অনুমতি দ্রুত, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস এবং তুলনামূলক কম খরচ

 

পরিচালক হৃদয়ের ভাষায়- ভারতের সঙ্গে আমাদের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বহু পুরনো। সাময়িক ছেদ পড়েছে, মন খারাপ আছে। তাই বিকল্প হিসেবে শ্রীলঙ্কা।”

 

রাজনীতি কি প্রভাব ফেলেছে? এই প্রশ্নও কিন্তু ঘুরেফিরে সামনে আসছে। আর এ নিয়ে সামনে এসেছে সবচেয়ে বিতর্কিত প্রশ্ন- ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন কি এর পেছনে?

 

কিছু মহলের দাবি- আইপিএলে মুস্তাফিজুর রহমানকে কেকেআর থেকে বাদ দেওয়া, দুই দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক দূরত্ব- এসবই নাকি প্রভাব ফেলেছে।

 

তবে পরিচালক হৃদয় তা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি- “ক্রিকেট বা রাজনীতি আমাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেনি।” কিন্তু বাস্তবতা হলো- ভিসা না পাওয়া, যাতায়াত জটিলতা- সবই কিন্তু রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত।

 

খবর এখানেই শেষ নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি বড় প্রযোজনা সংস্থার দাবি- দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বড় বাজেটের মিউজিক ভিডিও, আন্তর্জাতিক প্রজেক্ট সবই হতে পারে শ্রীলঙ্কায়। অর্থাৎ, এটি একদিনের সিদ্ধান্ত নয়- এটি হতে পারে ঢালিউডের নতুন ট্রেন্ড।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ঢালিউডের নতুন ঠিকানা, ভারতের কপালে হাত

সর্বশেষ আপডেট ০৭:১২:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতের লোকেশন, কলকাতা-মুম্বই-হায়দরাবাদ- এক সময় ঢালিউড ছবির শুটিং মানেই এই শহরগুলোর নাম। কিন্তু হঠাৎ করেই বদলে যাচ্ছে চিত্র। ভারত নয়, শ্রীলঙ্কা!

 

ভারতের প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক পত্রিকা আনন্দবাজার জানাচ্ছে, গত কয়েক মাসে একাধিক বাংলাদেশি ছবির শুটিং বাতিল হয়েছে ভারতে। প্রশ্ন উঠছে- এটা কি শুধু শুটিং সুবিধার সিদ্ধান্ত, নাকি এর পেছনে আছে রাজনীতি, কূটনীতি আর সীমান্তের টানাপোড়েন?

 

চলতি মাসেই শ্রীলঙ্কায় শুটিং শুরু হচ্ছে একাধিক বাংলাদেশি সিনেমার। যেগুলোর শুটিং হওয়ার কথা ছিল ভারতে। তালিকায় আছে- ‘রাক্ষস’, ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা’।

পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয় ইতিমধ্যেই টিম নিয়ে শ্রীলঙ্কায় পৌঁছে গেছেন। একইভাবে ‘প্রিন্স’ ছবির কলাকুশলীরাও দেশটিতে পা রেখেছেন। অথচ পরিকল্পনা ছিল- কলকাতা, মুম্বই, হায়দরাবাদ ঘুরে শুটিং। কিন্তু শেষ মুহুর্তে বাতিল!

 

কেন বাতিল হলো ভারত? সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মূল সমস্যা তিনটি- এক. ভিসা জটিলতা। ছবির সঙ্গে যুক্ত একাধিক শিল্পী ও কলাকুশলী ভারতের ভিসা পাননি। দুই. যাতায়াত ও অনুমতির অনিশ্চয়তা। বাংলাদেশ-ভারতের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনে শুটিংয়ের অনুমতি ও নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। তিন. সময় ও অর্থের ঝুঁকি। ভিসা পেতে দেরি হলে শুটিং পিছিয়ে যেত, বাজেট বেড়ে যেত বহুগুণ।

 

আর এসব কারনে প্রযোজকেরা বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হন। এই জায়গায় ঢালিউডের সামনে উঠে আসে শ্রীলঙ্কা। কারণ- ভৌগোলিকভাবে ভারতের মতো পরিবেশ। আধুনিক শহর, সমুদ্র, পাহাড়- এক লোকেশনেই সব। শুটিং অনুমতি দ্রুত, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস এবং তুলনামূলক কম খরচ

 

পরিচালক হৃদয়ের ভাষায়- ভারতের সঙ্গে আমাদের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বহু পুরনো। সাময়িক ছেদ পড়েছে, মন খারাপ আছে। তাই বিকল্প হিসেবে শ্রীলঙ্কা।”

 

রাজনীতি কি প্রভাব ফেলেছে? এই প্রশ্নও কিন্তু ঘুরেফিরে সামনে আসছে। আর এ নিয়ে সামনে এসেছে সবচেয়ে বিতর্কিত প্রশ্ন- ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন কি এর পেছনে?

 

কিছু মহলের দাবি- আইপিএলে মুস্তাফিজুর রহমানকে কেকেআর থেকে বাদ দেওয়া, দুই দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক দূরত্ব- এসবই নাকি প্রভাব ফেলেছে।

 

তবে পরিচালক হৃদয় তা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি- “ক্রিকেট বা রাজনীতি আমাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেনি।” কিন্তু বাস্তবতা হলো- ভিসা না পাওয়া, যাতায়াত জটিলতা- সবই কিন্তু রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত।

 

খবর এখানেই শেষ নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি বড় প্রযোজনা সংস্থার দাবি- দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বড় বাজেটের মিউজিক ভিডিও, আন্তর্জাতিক প্রজেক্ট সবই হতে পারে শ্রীলঙ্কায়। অর্থাৎ, এটি একদিনের সিদ্ধান্ত নয়- এটি হতে পারে ঢালিউডের নতুন ট্রেন্ড।