ঢাকা ০৭:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ এনসিপির

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৯:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 58

এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

 

সরকার একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি ঝুঁকে পড়ায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) চিফ ইলেকশন অবজারভার আইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বে আসা নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

 

এ সময় এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সেলের প্রধান সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়াসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

নাহিদ ইসলাম বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ একটি বড় ও শক্তিশালী পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে যাচ্ছে। ইইউ চায় নির্বাচনটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক হোক এবং ফলাফল ঘোষণার পর সব পক্ষ যেন তা গ্রহণ করে। এতে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর নির্বিঘ্ন হবে বলেও ইইউ প্রতিনিধিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

 

তিনি আরও জানান, ইইউ প্রতিনিধি দল রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবনা ও উদ্বেগ জানতে আগ্রহী এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চাওয়ার পাশাপাশি এনসিপিকেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ইইউ।

 

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রয়েছে- এমন আত্মবিশ্বাস বা ঐকমত্য সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে নেই, এমনকি এনসিপির মধ্যেও নয়। তার অভিযোগ, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও বিশেষ প্রোটোকল দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পক্ষপাতের বার্তা যাচ্ছে, যা নির্বাচনী পরিবেশে অসমতা তৈরি করতে পারে।

 

মিডিয়ার ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কিছু মূলধারার গণমাধ্যম এনসিপিকে লক্ষ্য করে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করছে। প্রশাসন ও গণমাধ্যমে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

 

নাহিদ ইসলাম বলেন, এসব বিষয় নির্বাচন কমিশনকে নিয়মিত জানানো হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে যে ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে, সে সম্পর্কেও কমিশনকে অবহিত করা হবে।

 

তিনি আরও বলেন, ঋণখেলাপিদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আরও কঠোর অবস্থান প্রয়োজন। অভিযোগ রয়েছে, প্রাথমিক যাচাইয়ে অনেক ঋণখেলাপির মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি পোস্টারিংসহ বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রমে আইন লঙ্ঘনের চেষ্টাও হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান এনসিপির আহ্বায়ক।

 

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নে নাহিদ ইসলাম বলেন, শহিদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সরকার কিছু উদ্যোগ নিলেও পুরোপুরি আশঙ্কা কাটেনি। তবে এসব পরিস্থিতির মধ্যেও এনসিপি রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং ২১ তারিখের পর আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা আরও জোরদার করবে বলে জানান তিনি।

 

আসন সমঝোতা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে এনসিপির অবস্থান খুব শিগগিরই স্পষ্ট করা হবে। আগামী ১১ বা ১২ জানুয়ারির মধ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

 

তিনি দাবি করেন, জামায়াত ও এনসিপির জোট নির্বাচনী প্রস্তুতিতে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে এবং গণভোটের পক্ষে ইতোমধ্যে প্রচারণা শুরু হয়েছে। আসন সমঝোতার ঘোষণা এলে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ এনসিপির

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৯:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

 

সরকার একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি ঝুঁকে পড়ায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) চিফ ইলেকশন অবজারভার আইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বে আসা নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

 

এ সময় এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সেলের প্রধান সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়াসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

নাহিদ ইসলাম বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ একটি বড় ও শক্তিশালী পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে যাচ্ছে। ইইউ চায় নির্বাচনটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক হোক এবং ফলাফল ঘোষণার পর সব পক্ষ যেন তা গ্রহণ করে। এতে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর নির্বিঘ্ন হবে বলেও ইইউ প্রতিনিধিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

 

তিনি আরও জানান, ইইউ প্রতিনিধি দল রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবনা ও উদ্বেগ জানতে আগ্রহী এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চাওয়ার পাশাপাশি এনসিপিকেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ইইউ।

 

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রয়েছে- এমন আত্মবিশ্বাস বা ঐকমত্য সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে নেই, এমনকি এনসিপির মধ্যেও নয়। তার অভিযোগ, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও বিশেষ প্রোটোকল দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পক্ষপাতের বার্তা যাচ্ছে, যা নির্বাচনী পরিবেশে অসমতা তৈরি করতে পারে।

 

মিডিয়ার ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কিছু মূলধারার গণমাধ্যম এনসিপিকে লক্ষ্য করে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করছে। প্রশাসন ও গণমাধ্যমে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

 

নাহিদ ইসলাম বলেন, এসব বিষয় নির্বাচন কমিশনকে নিয়মিত জানানো হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে যে ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে, সে সম্পর্কেও কমিশনকে অবহিত করা হবে।

 

তিনি আরও বলেন, ঋণখেলাপিদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আরও কঠোর অবস্থান প্রয়োজন। অভিযোগ রয়েছে, প্রাথমিক যাচাইয়ে অনেক ঋণখেলাপির মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি পোস্টারিংসহ বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রমে আইন লঙ্ঘনের চেষ্টাও হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান এনসিপির আহ্বায়ক।

 

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নে নাহিদ ইসলাম বলেন, শহিদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সরকার কিছু উদ্যোগ নিলেও পুরোপুরি আশঙ্কা কাটেনি। তবে এসব পরিস্থিতির মধ্যেও এনসিপি রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং ২১ তারিখের পর আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা আরও জোরদার করবে বলে জানান তিনি।

 

আসন সমঝোতা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে এনসিপির অবস্থান খুব শিগগিরই স্পষ্ট করা হবে। আগামী ১১ বা ১২ জানুয়ারির মধ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

 

তিনি দাবি করেন, জামায়াত ও এনসিপির জোট নির্বাচনী প্রস্তুতিতে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে এবং গণভোটের পক্ষে ইতোমধ্যে প্রচারণা শুরু হয়েছে। আসন সমঝোতার ঘোষণা এলে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।