জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে ‘চোর’ অপবাদ
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৫:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / 52
ভালোবাসার মানুষকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে ‘চোর’ অপবাদ ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহনন করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ বৈরাগী। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শারমিন আক্তার।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে শুভ বৈরাগীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা। তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। শুভ বৌলতলী গ্রামের প্রয়াত সুখলাল বৈরাগী ও শেফালী বৈরাগী দম্পতির ছেলে। শৈশবেই বাবা-মাকে হারিয়ে বোন ও ভগ্নিপতির আশ্রয়ে বড় হন তিনি।
মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে নিজের চরম সিদ্ধান্তের জন্য প্রেমিকার পরিবারের নির্যাতন ও সামাজিক অপমানকে দায়ী করেন শুভ। ১ জানুয়ারি ওই স্ট্যাটাসটি প্রকাশ করার পর তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন।
ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোটালীপাড়া উপজেলার কাফুলাবাড়ি গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে শুভর দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে প্রেমিকার জন্মদিন উপলক্ষে সরাসরি শুভেচ্ছা জানাতে তার বাড়িতে যান শুভ। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তরুণীর পরিবারের সদস্যরা তাকে আটক করে মারধর করেন এবং গুরুতরভাবে আহত করেন।
শুভর অভিযোগ, সম্পর্কের কথা স্বীকার করার পরও তরুণীর জেঠা ও অন্যান্য পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক একটি ‘মিথ্যা ভিডিও’ ধারণ করেন। ওই ভিডিওতে তাকে স্বীকার করানো হয় যে, তিনি ওই বাড়িতে চুরি করতে গিয়েছিলেন। পরে সেই অপবাদ এলাকায় ছড়িয়ে দিয়ে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়।
স্ট্যাটাসে শুভ লেখেন, “তারা সত্যকে আড়াল করে আমাকে মিথ্যা চোর অপবাদ দিয়ে সকলের কাছে দোষী করেছে। এতে আমার মানসম্মান নষ্ট হয়েছে। আমি কারও সামনে মুখ দেখাতে পারবো না। তারা আমাকে জানে মারার চেয়েও বেশি মেরে ফেলেছে।”
আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকায় প্রেমিকার পরিবার সম্পর্কটি মেনে নেয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শুভ লিখেছেন, আজ টাকা নেই, কাল হতে পারত; কিন্তু এই অপমানের পর বেঁচে থাকা তার পক্ষে সম্ভব নয়। নিজের মৃত্যুর জন্য তিনি প্রেমিকা, তার বাবা, কাকা ও জেঠাকে সরাসরি দায়ী করে যান।
শুভ বৈরাগীর অকাল মৃত্যুতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেধাবী এই শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যু তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।

































