আবারও এনসিপি থেকে কেন্দ্রীয় ৪ নেতার পদত্যাগ
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৮:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
- / 117
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে আবারও একযোগে চারজন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) তারা পৃথকভাবে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে এনসিপির সব পদ ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন।
পদত্যাগকারীরা হলেন— যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন, আইসিটি সেলের প্রধান ফারহাদ আলম ভূঁইয়া এবং কেন্দ্রীয় সদস্য আল আমিন আহমেদ টুটুল।
মুশফিক উস সালেহীন তার পদত্যাগপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটে এনসিপির যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি নীতিগতভাবে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি আগেই কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেন এবং পরে স্মারকলিপির মাধ্যমেও আপত্তি জানান। তার মতে, এই সিদ্ধান্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণতন্ত্র এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিক রাষ্ট্র গঠনের রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এদিকে খান মুহাম্মদ মুরসালীন ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, দীর্ঘ সময় ধরে এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকলেও বৃহস্পতিবার থেকে তিনি দলের সব পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। তবে রাজনীতি থেকে বিদায় নিচ্ছেন না বলেও জানান তিনি। ভিডিও বার্তায় তার বক্তব্য, “দেখা হবে রাজপথে।”
আইসিটি সেলের প্রধান ফারহাদ আলম ভূঁইয়াও একই দিনে দলের আহ্বায়কের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সদস্য আল আমিন আহমেদ টুটুল পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন, দলের লক্ষ্য ও আদর্শের অস্পষ্টতা এবং সাংগঠনিক বৈষম্যের কারণে তিনি আর দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী নন।
এর আগে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সংক্ষিপ্ত বার্তায় দলের সব পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ওই পদত্যাগপত্রের অনুলিপি দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের কাছেও পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, এর আগেই তাসনিম জারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন, তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেবেন। তার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা–৯। পরবর্তীতে তার স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহর পদত্যাগ এনসিপির অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
ক্রমাগত পদত্যাগের ঘটনায় এনসিপির সাংগঠনিক স্থিতি ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে।
































