তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন
৩০০ ফিটে সংবর্ধনার মহাকর্মযজ্ঞ
- সর্বশেষ আপডেট ০১:০৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 158
দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন কাটিয়ে আগামী ২৫ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) দেশে ফিরছেন তারেক রহমান। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দল থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানী ঢাকার ৩০০ ফিট এলাকায় বিশাল সংবর্ধনা মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বিএনপি। রোববার দুপুর থেকে বিশ্বরোড-পূর্বাচলমুখী সড়কের একটি অংশে মঞ্চ নির্মাণে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন দলের নেতাকর্মীরা।
বিএনপি নেতারা জানান, তারেক রহমান লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। বিমানবন্দর থেকে বনানী-কাকলী হয়ে তিনি সরাসরি ৩০০ ফিট এলাকায় জনসভায় যোগ দেবেন এবং সেখানে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। এই আয়োজনের জন্য ইতোমধ্যে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি পেয়েছে বিএনপি।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য লিখিত অনুমতি পাওয়া গেছে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন হবে গত ৫৫ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জনসমাগম। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের আসার সুবিধার্থে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে স্পেশাল ট্রেনের আবেদন জানানো হয়েছে।
দেশে ফেরার প্রস্তুতি সম্পন্ন:
সূত্র জানায়, এরই মধ্যে দেশে ফেরার জন্য ট্রাভেল পাস পেয়েছেন তারেক রহমান। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকায় রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সব ঠিক থাকলে উড়োজাহাজটি ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। ঢাকায় নামার আগে উড়োজাহাজটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ঘণ্টা যাত্রাবিরতি করবে। এই ফ্লাইটের বিজনেস ক্লাসে তারেক রহমানের পাশাপাশি আরও পাঁচ সফরসঙ্গীর টিকিট বুকিং দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন- তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা জারনাজ রহমান। এ ছাড়া তারেক রহমানের মিডিয়া টিমের প্রধান আবু আবদুল্লাহ সালেহ, পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুর রহমান সানি ও তাবাসসুম ফারহানা নামে আরেকজনেরও টিকিট বুকিং রয়েছে।
দলীয় নিরাপত্তা:
বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্সসহ একাধিক টিম কাজ করবে। এ ছাড়া দলের বিশ্বস্ত নেতাকর্মীদের সমন্বয়েও একটি টিম গঠন করা হয়েছে।
নিরাপত্তায় সরকারের প্রস্তুতি:
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তারেক রহমান দেশে এলে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ কোনো ঝুঁকির তথ্য নেই। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর নিরাপত্তায় কোথাও যেন কোনো ফাঁক না থাকে, এ বিষয়টি ভালোভাবে তদারকি করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশে ফেরার পর তারেক রহমান যাতায়াতের সময় পাবেন পুলিশি পাহারাসহ বিশেষ নিরাপত্তা। এ ছাড়া তাঁর বাসভবন ও অফিসেও থাকবে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা।
সোয়াট টিম-বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট মাঠে থাকবে:
জানা যায়, তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে গুলশানে আসার পথে কয়েক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওই দিন তাঁর নিরাপত্তায় মাঠে থাকবে ঢাকা মহানগর পুলিশের সোয়াট টিম, বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। তাঁর বাসা ও অফিস ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে পুলিশ।
জিয়ার মাজার জিয়ারত:
দেশে ফেরার পর যে কোনো সময় বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করতে যাওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। বিএনপির একটি সূত্র জানায়, প্রত্যাবর্তনের পরদিন শুক্রবার তিনি সেখানে যেতে পারেন।
তারেক রহমানের আগমন ঘিরে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকবে। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতাকর্মীদের আমরা সংগঠিতভাবে বরণ করে নেব। এটি হবে ইতিহাসের একটি স্মরণীয় সংবর্ধনা। ঢাকা মহানগরী থেকেই ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ অংশ নেবে, জানিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।































