ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অস্ত্র উদ্ধারের পর জাতীয় নির্বাচন চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবদেক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৭:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 105

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ মারণাস্ত্র ও গোলাবারুদের বড় একটি অংশ এখনো উদ্ধার না হওয়ায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পরবর্তী সব কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে গণভোট আয়োজনের পক্ষে অবস্থান জানানো হয়েছে।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান রেজিস্ট্রি ডাক ও ইমেইলের মাধ্যমে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র‍্যাব মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিবাদের পতন ঘটলেও দেশে একটি গভীর নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বিভিন্ন থানা ও নিরাপত্তা স্থাপনা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়ে যায়, যার বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। এসব অবৈধ অস্ত্র অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এরই মধ্যে নির্বাচনি সহিংসতার ঘটনাও সামনে আসতে শুরু করেছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় নির্বাচনি পরিবেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উদাহরণ হিসেবে ১২ ডিসেম্বর ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না করে নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা প্রার্থীদের প্রাণনাশের ঝুঁকি বাড়াবে এবং সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের জীবনের অধিকার লঙ্ঘিত হবে।

নোটিশে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে পার্থক্যও তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, গণভোট একটি জাতীয় ঐকমত্যভিত্তিক প্রক্রিয়া এবং রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ, যেখানে সহিংস প্রতিযোগিতার আশঙ্কা নেই। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক প্রক্রিয়া। ফলে অবৈধ অস্ত্রের ঝুঁকি বিদ্যমান রেখে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে লিগ্যাল নোটিশে দাবি জানানো হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জুলাই সনদের ওপর গণভোট যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হোক। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক লুণ্ঠিত সব অস্ত্র উদ্ধার এবং সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখা প্রয়োজন।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে একই দাবিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পরবর্তী কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে একটি রিট আবেদন করা হলেও তা খারিজ হয়ে যায়। ৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ কংগ্রেসের পক্ষে দলটির মহাসচিব আইনজীবী মো. ইয়ারুল ইসলাম আবেদনটি করেছিলেন। পরে হাইকোর্টের বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

অস্ত্র উদ্ধারের পর জাতীয় নির্বাচন চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৭:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ মারণাস্ত্র ও গোলাবারুদের বড় একটি অংশ এখনো উদ্ধার না হওয়ায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পরবর্তী সব কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে গণভোট আয়োজনের পক্ষে অবস্থান জানানো হয়েছে।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান রেজিস্ট্রি ডাক ও ইমেইলের মাধ্যমে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র‍্যাব মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিবাদের পতন ঘটলেও দেশে একটি গভীর নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বিভিন্ন থানা ও নিরাপত্তা স্থাপনা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়ে যায়, যার বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। এসব অবৈধ অস্ত্র অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এরই মধ্যে নির্বাচনি সহিংসতার ঘটনাও সামনে আসতে শুরু করেছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় নির্বাচনি পরিবেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উদাহরণ হিসেবে ১২ ডিসেম্বর ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না করে নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা প্রার্থীদের প্রাণনাশের ঝুঁকি বাড়াবে এবং সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের জীবনের অধিকার লঙ্ঘিত হবে।

নোটিশে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে পার্থক্যও তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, গণভোট একটি জাতীয় ঐকমত্যভিত্তিক প্রক্রিয়া এবং রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ, যেখানে সহিংস প্রতিযোগিতার আশঙ্কা নেই। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক প্রক্রিয়া। ফলে অবৈধ অস্ত্রের ঝুঁকি বিদ্যমান রেখে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে লিগ্যাল নোটিশে দাবি জানানো হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জুলাই সনদের ওপর গণভোট যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হোক। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক লুণ্ঠিত সব অস্ত্র উদ্ধার এবং সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখা প্রয়োজন।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে একই দাবিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পরবর্তী কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে একটি রিট আবেদন করা হলেও তা খারিজ হয়ে যায়। ৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ কংগ্রেসের পক্ষে দলটির মহাসচিব আইনজীবী মো. ইয়ারুল ইসলাম আবেদনটি করেছিলেন। পরে হাইকোর্টের বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন।