ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রয়োজনে চিকিৎসার জন্য হাদিকে বিদেশে পাঠানো হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৬:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 84

প্রয়োজনে চিকিৎসার জন্য হাদিকে বিদেশে পাঠানো হবে

ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজন হলে তাকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠানোর ব্যবস্থা সরকার নেবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ওসমান হাদির পরিবার ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি এ আশ্বাস দেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ওসমান হাদির সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সারাদেশ তার সুস্থতার জন্য দোয়া করছে। তার শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী যদি বিদেশে বা অন্য কোনো বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানোর প্রয়োজন হয়, সরকার সে ব্যবস্থাই নেবে।

হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের নৃশংস হামলার সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ঘটনার পেছনের সব দিক খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।

সাক্ষাতে ওসমান হাদিকে ‘পরিবারের মেরুদণ্ড’ উল্লেখ করে তার বোন মাসুমা বলেন, ছোটবেলা থেকেই হাদি দেশকে গভীরভাবে ভালোবাসত এবং ছিল বিপ্লবী চেতনার মানুষ। বিদ্রোহী কবিতা তার প্রিয় ছিল, সে কবিতা আবৃত্তি করত। তার ১০ মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। মাসুমা বলেন, হাদির সামনে এখনও অনেক দায়িত্ব ও কাজ বাকি, তাকে বাঁচতে হবে। তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবীদের সুরক্ষা না দিলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা জাবের বলেন, ৫ আগস্টের পর অনেকেই বাড়ি ফিরে গেলেও ওসমান হাদি ঘরে ফেরেনি। সে জুলাই বিপ্লবকে ধারণ করত এবং দিনরাত কাজ করত। যে ব্যক্তি গুলি চালিয়েছে, সে আগেও একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিল—কীভাবে সে জামিন পেয়েছে, তা তদন্ত করার দাবি জানান তিনি।

সাক্ষাতের সময় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর বক্স কালভার্ট এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে গুরুতর আহত করে দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে উদ্ধার করে বিকেল পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাত ৯টার দিকে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

প্রয়োজনে চিকিৎসার জন্য হাদিকে বিদেশে পাঠানো হবে

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৬:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজন হলে তাকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠানোর ব্যবস্থা সরকার নেবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ওসমান হাদির পরিবার ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি এ আশ্বাস দেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ওসমান হাদির সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সারাদেশ তার সুস্থতার জন্য দোয়া করছে। তার শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী যদি বিদেশে বা অন্য কোনো বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানোর প্রয়োজন হয়, সরকার সে ব্যবস্থাই নেবে।

হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের নৃশংস হামলার সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ঘটনার পেছনের সব দিক খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।

সাক্ষাতে ওসমান হাদিকে ‘পরিবারের মেরুদণ্ড’ উল্লেখ করে তার বোন মাসুমা বলেন, ছোটবেলা থেকেই হাদি দেশকে গভীরভাবে ভালোবাসত এবং ছিল বিপ্লবী চেতনার মানুষ। বিদ্রোহী কবিতা তার প্রিয় ছিল, সে কবিতা আবৃত্তি করত। তার ১০ মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। মাসুমা বলেন, হাদির সামনে এখনও অনেক দায়িত্ব ও কাজ বাকি, তাকে বাঁচতে হবে। তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবীদের সুরক্ষা না দিলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা জাবের বলেন, ৫ আগস্টের পর অনেকেই বাড়ি ফিরে গেলেও ওসমান হাদি ঘরে ফেরেনি। সে জুলাই বিপ্লবকে ধারণ করত এবং দিনরাত কাজ করত। যে ব্যক্তি গুলি চালিয়েছে, সে আগেও একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিল—কীভাবে সে জামিন পেয়েছে, তা তদন্ত করার দাবি জানান তিনি।

সাক্ষাতের সময় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর বক্স কালভার্ট এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে গুরুতর আহত করে দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে উদ্ধার করে বিকেল পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাত ৯টার দিকে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন।