ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকেই শুরু হয়েছিল দুই দেশের ভয়াবহ যুদ্ধ

ক্রীড়া ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৪৬:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 74

বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকেই শুরু হয়েছিল দুই দেশের ভয়াবহ যুদ্ধ

মধ্য আমেরিকার দুই প্রতিবেশী দেশ—এল সালভাদর ও হন্ডুরাসের মধ্যে বহুদিন ধরেই সম্পর্ক ছিল উত্তপ্ত। বিশেষ করে হন্ডুরাসে বিপুলসংখ্যক সালভাদরীয় কৃষকের অভিবাসন দুই দেশের বিরোধকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল। সেই জটিল পরিস্থিতিই ১৯৬৯ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাইপর্বকে ঘিরে ভয়াবহ রূপ নেয়।

১৯৬৯ সালের জুনে প্রথম লেগের ম্যাচ খেলতে এল সালভাদর দল পৌঁছায় হন্ডুরাসে। ম্যাচের আগের রাতেই তেগুসিগালপায় তাদের টিম হোটেলের জানালায় ছোড়া হয় ইট–পাথর। হন্ডুরাসের সমর্থকদের চিৎকার–চেঁচামেচিতে রাতভর ঘুমোতে পারেননি খেলোয়াড়রা।

পরদিন নির্ধারিত ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোল করে স্বাগতিক দলকে জেতান রবার্তো “দ্য পিস্তল” কারদোনা। এই হার সহ্য করতে না পেরে মাত্র ১৮ বছরের সালভাদরীয় তরুণী আমেলিয়া বোলানিওস বাবার রিভলভার দিয়ে নিজের জীবন শেষ করে। পরদিন দেশটির শীর্ষ পত্রিকা এল নাসিওনাল তার মৃত্যুসংবাদ প্রকাশ করে শিরোনাম দেয়—“নিজ দেশের পরাজয় মেনে নিতে পারেনি সে”। আমেলিয়ার মরদেহ বহন করেছিলেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা, আর টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে দেশের প্রেসিডেন্টও প্রকাশ্যে শোক জানান।

এই আবেগঘন সময়ে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় এল সালভাদরে। ম্যাচের দিনের পত্রিকায় আবারও ছাপা হয় আমেলিয়ার ছবি ও একই রকম উত্তেজনাকর শিরোনাম। স্বাগতিক শহর সান সালভাদরে ম্যাচের আগের রাতেও হন্ডুরাস দলের হোটেলে ইট–পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। নিরাপত্তার কারণে ম্যাচের দিন তাদের স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয় সেনাবাহিনীর ট্যাংক-যানে করে। পথে হাজারো মানুষ হাতে আমেলিয়ার ছবি তুলে দাঁড়িয়ে ছিল। স্টেডিয়ামের ভেতরে পুড়িয়ে ফেলা হয় হন্ডুরাসের পতাকা, আর তার বদলে ওড়ানো হয় ছেঁড়া কাপড়। এমন উন্মাদ পরিবেশে এল সালভাদর ৩–০ গোলে জেতে।

ম্যাচশেষে পরিস্থিতি আকার ধারণ করে সহিংসতায়। দেশ ছাড়ার সময় দুই হন্ডুরাস সমর্থক নিহত হন, আহত হন শতাধিক মানুষ। উত্তেজনা বাড়তে থাকায় তৃতীয় লেগের সিদ্ধান্ত হয় মেক্সিকোতে। সেখানে ৩–২ গোলের জয় পেয়ে বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করে এল সালভাদর।

কিন্তু মাঠের লড়াই থেমে গেলেও সীমান্তে জ্বলে ওঠে প্রকৃত যুদ্ধ। জুলাইয়ের শুরুতে শুরু হওয়া সেই সংঘর্ষ মাত্র ১০০ ঘণ্টা স্থায়ী হলেও ছিল ভয়াবহ—প্রায় ৬ হাজার মানুষের মৃত্যু, ১২ হাজারের বেশি আহত এবং ৫০ হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়।

পোলিশ সাংবাদিক রিশার্ড কাপুশিনস্কি এই সংঘাতের প্রতিবেদন করে পরে নাম দেন—“ফুটবল যুদ্ধ”।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকেই শুরু হয়েছিল দুই দেশের ভয়াবহ যুদ্ধ

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৪৬:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

মধ্য আমেরিকার দুই প্রতিবেশী দেশ—এল সালভাদর ও হন্ডুরাসের মধ্যে বহুদিন ধরেই সম্পর্ক ছিল উত্তপ্ত। বিশেষ করে হন্ডুরাসে বিপুলসংখ্যক সালভাদরীয় কৃষকের অভিবাসন দুই দেশের বিরোধকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল। সেই জটিল পরিস্থিতিই ১৯৬৯ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাইপর্বকে ঘিরে ভয়াবহ রূপ নেয়।

১৯৬৯ সালের জুনে প্রথম লেগের ম্যাচ খেলতে এল সালভাদর দল পৌঁছায় হন্ডুরাসে। ম্যাচের আগের রাতেই তেগুসিগালপায় তাদের টিম হোটেলের জানালায় ছোড়া হয় ইট–পাথর। হন্ডুরাসের সমর্থকদের চিৎকার–চেঁচামেচিতে রাতভর ঘুমোতে পারেননি খেলোয়াড়রা।

পরদিন নির্ধারিত ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোল করে স্বাগতিক দলকে জেতান রবার্তো “দ্য পিস্তল” কারদোনা। এই হার সহ্য করতে না পেরে মাত্র ১৮ বছরের সালভাদরীয় তরুণী আমেলিয়া বোলানিওস বাবার রিভলভার দিয়ে নিজের জীবন শেষ করে। পরদিন দেশটির শীর্ষ পত্রিকা এল নাসিওনাল তার মৃত্যুসংবাদ প্রকাশ করে শিরোনাম দেয়—“নিজ দেশের পরাজয় মেনে নিতে পারেনি সে”। আমেলিয়ার মরদেহ বহন করেছিলেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা, আর টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে দেশের প্রেসিডেন্টও প্রকাশ্যে শোক জানান।

এই আবেগঘন সময়ে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় এল সালভাদরে। ম্যাচের দিনের পত্রিকায় আবারও ছাপা হয় আমেলিয়ার ছবি ও একই রকম উত্তেজনাকর শিরোনাম। স্বাগতিক শহর সান সালভাদরে ম্যাচের আগের রাতেও হন্ডুরাস দলের হোটেলে ইট–পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। নিরাপত্তার কারণে ম্যাচের দিন তাদের স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয় সেনাবাহিনীর ট্যাংক-যানে করে। পথে হাজারো মানুষ হাতে আমেলিয়ার ছবি তুলে দাঁড়িয়ে ছিল। স্টেডিয়ামের ভেতরে পুড়িয়ে ফেলা হয় হন্ডুরাসের পতাকা, আর তার বদলে ওড়ানো হয় ছেঁড়া কাপড়। এমন উন্মাদ পরিবেশে এল সালভাদর ৩–০ গোলে জেতে।

ম্যাচশেষে পরিস্থিতি আকার ধারণ করে সহিংসতায়। দেশ ছাড়ার সময় দুই হন্ডুরাস সমর্থক নিহত হন, আহত হন শতাধিক মানুষ। উত্তেজনা বাড়তে থাকায় তৃতীয় লেগের সিদ্ধান্ত হয় মেক্সিকোতে। সেখানে ৩–২ গোলের জয় পেয়ে বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করে এল সালভাদর।

কিন্তু মাঠের লড়াই থেমে গেলেও সীমান্তে জ্বলে ওঠে প্রকৃত যুদ্ধ। জুলাইয়ের শুরুতে শুরু হওয়া সেই সংঘর্ষ মাত্র ১০০ ঘণ্টা স্থায়ী হলেও ছিল ভয়াবহ—প্রায় ৬ হাজার মানুষের মৃত্যু, ১২ হাজারের বেশি আহত এবং ৫০ হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়।

পোলিশ সাংবাদিক রিশার্ড কাপুশিনস্কি এই সংঘাতের প্রতিবেদন করে পরে নাম দেন—“ফুটবল যুদ্ধ”।