স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে মেট্রোরেল
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৩:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 111
শুক্রবার মেট্রোরেল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিলেও তা হচ্ছে না। স্বয়ংসম্পূর্ণ চাকরি-বিধিমালা প্রণয়ন ও প্রকাশ না করায় পূর্বঘোষিত আলটিমেটাম অনুযায়ী শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেট্রোরেলের নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফলে মেট্রোরেলের সব যাত্রীসেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।
তবে মেট্রোরেল চলাচল নিয়ে স্বস্তির বার্তা দিয়েছে মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। ডিএমটিসিএল থেকে জানানো হয়েছে, মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে।
ডিএমটিসিএল জানায়, ‘মেট্রোরেলের সম্মানিত যাত্রীসাধারনের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে মেট্রোরেল নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল করবে।’
এদিকে মেট্রোরেলের আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, ২০১৩ সালে ডিএমটিসিএল প্রতিষ্ঠার ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটির ৯০০-এর বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য এখনও কোনও স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা চূড়ান্ত হয়নি।
২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক অপারেশন শুরু হওয়ার পর থেকে উন্মুক্ত নিয়োগে যোগ দেওয়া এসব কর্মচারী দিন-রাত দায়িত্ব পালন করলেও ছুটি, সিপিএফ, গ্র্যাচুইটি, শিফট-অ্যালাউন্স/ওভারটাইম, গ্রুপ ইনস্যুরেন্সসহ নানামুখী মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ করেছেন।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর উপদেষ্টা কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে সার্ভিস রুল প্রণয়নের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কর্মচারীরা আন্দোলনে নামলে ২০ ফেব্রুয়ারি কর্তৃপক্ষ ২০ মার্চের মধ্যে সার্ভিস রুল চূড়ান্তের আশ্বাস দেয়। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন না হওয়ায় ৯ মাস ধরে কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দানা বাঁধে।
গত ১০ ডিসেম্বর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্মচারীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় জানান, সার্ভিস রুলের সব ধারা নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ একমত হলেও ‘বিশেষ বিধান’ সংক্রান্ত একাদশ অধ্যায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ‘বিশেষ বিধান’ মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর জনবলকে ডিএমটিসিএলে আত্তীকরণ করার বিষয় জড়িত, যা কর্মচারীদের দাবি—বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
কর্মচারীদের অভিযোগ, পরিচালনা পর্ষদ বিতর্কিত বিধান বাদ দিতে আগ্রহী হলেও ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষের চাপের কারণেই সার্ভিস রুল প্রকাশ বিলম্বিত হচ্ছে।
































