বডি-শেমিংয়ের শিকার হন কেট উইন্সলেট
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৮:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 63
হলিউড তারকাদের প্লাস্টিক সার্জারির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতার কঠোর সমালোচনা করেছেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী কেট উইন্সলেট। সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তরুণ অভিনয়শিল্পীরা ইনস্টাগ্রামে বেশি লাইক পাওয়ার জন্য নিখুঁত হওয়ার দৌড়ে নিজেদের হারিয়ে ফেলছেন। এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন টাইটানিক-খ্যাত এ অভিনেত্রী।
প্লাস্টিক সার্জারির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কেট উইন্সলেট বলেন, কারও আত্মসম্মান যদি পুরোপুরি নিজের বাহ্যিক চেহারার ওপর নির্ভর করে, সেটি ভয়ংকর। কখনো কখনো মনে হয়, পরিস্থিতি বদলাচ্ছে—লালগালিচায় বিভিন্ন গড়নের, নিজেদের মতো করে সাজা অভিনেত্রীদের দেখা যায়। আবার দেখা যায়, কেউ ওজন কমানোর ওষুধ নিচ্ছেন; কেউ নিজের মতো থাকতে চাইছেন, আবার কেউ যেভাবেই হোক নিজেকে বদলে ফেলতে চাইছেন।
অস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী বলেন, “তারা কি জানেন—নিজেদের শরীরে ঠিক কী প্রবেশ করাচ্ছেন? নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি এই অবহেলা ভয় ধরিয়ে দেয়। এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বিষয়টি আমাকে বেশি নাড়া দেয়। সত্যি বলতে—ওটা একদম চরম বিশৃঙ্খলা।” কেট উইন্সলেট জানান, প্লাস্টিক সার্জারির প্রবণতা শুধু অভিনেত্রীদের মধ্যেই নয়, সাধারণ নারীরাও বোটক্স বা ঠোঁটে ফিলার নেওয়ার জন্য টাকা জমাচ্ছেন—এটাই তাকে সবচেয়ে বেশি বিচলিত করে।
তিনি আরও বলেন, “আমার সবচেয়ে ভালো লাগে, যখন আমার বয়স বোঝা যায়। আমার পরিচিত সবচেয়ে সুন্দরী অনেক নারীই ৭০ বছরের বেশি।” আর যে বিষয়টি তাকে কষ্ট দেয়—তরুণীরা জানেই না সৌন্দর্যের প্রকৃত অর্থ কী।
‘টাইটানিক’-এর সাফল্যের পর কীভাবে নিষ্ঠুর বডি-শেমিংয়ের মুখে পড়তে হয়েছিল, সেটিও জানিয়েছেন কেট উইন্সলেট। গত বছর এক গণমাধ্যমে তিনি জানান, পুরস্কার মৌসুমে এক জনপ্রিয় বিনোদন-চ্যানেলের উপস্থাপক রেড কার্পেটে তার পোশাক দেখে মন্তব্য করেছিলেন—নাকি তাকে গলে পড়ে যাওয়া কারও মতো লাগছে।
তিনি বলেন, “একজন তরুণী অভিনেত্রীকে এভাবে বলা ভীষণ জঘন্য। যে নিজের জায়গা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছে, তাকে যারা এভাবে অপমান করে, তারা কেমন মানুষ তা ভেবে দেখার সময় এসেছে।”
অভিনেত্রী জানান, তিনি একসময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। “আমি বলেছিলাম—আমি চাই এটি তোমাদের মনে গেঁথে থাকুক। শুধু আমার জন্য নয়, বরং যারা এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হন, তাদের সবার পক্ষ থেকে কথা বলা প্রয়োজন ছিল।” তিনি বলেন, পরিস্থিতি তখন ভয়ংকর ছিল—সত্যিই খুব খারাপ।
২০২২ সালের এক সাক্ষাৎকারে কেট উইন্সলেট জানান, অভিনয় শেখার সময়ও তাকে বলা হয়েছিল যেন তিনি ‘মোটা মেয়ের’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রস্তুত থাকেন। কিন্তু টাইটানিক মুক্তির পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়।
‘হ্যাপি স্যাড কনফিউজড’ পডকাস্টে তিনি বলেন, মানুষ সিনেমার শেষ দৃশ্য নিয়েও তাকে বিদ্রূপ করত—বলত, “রোজ নাকি এত মোটা ছিল যে জ্যাক দরজার ওপর উঠতে পারেনি।” তিনি বলেন, “আমি নাকি খুব মোটা ছিলাম! মানুষ এত নিষ্ঠুর ছিল কেন? আমি মোটেও মোটা ছিলাম না। তখন আমি তরুণী, শরীর বদলে যাচ্ছিল, নিজের অস্তিত্ব নিয়ে অনিশ্চিত ছিলাম, ভীষণ ভীত ছিলাম—আর তারা পুরো পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছিল। এটি নিছক বুলিং—সত্যি বলতে সীমা ছাড়ানো নির্যাতন।”
































