ঢাকা ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মোহাম্মদপুরে মা–মেয়ে হত্যাকাণ্ডে গৃহকর্মী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:০৫:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 88

মোহাম্মদপুরে মা–মেয়ে হত্যাকাণ্ডে গৃহকর্মী আয়েশা গ্রেপ্তার

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে মা–মেয়েকে হত্যা করার অভিযোগে গৃহকর্মী আয়েশাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঝালকাঠি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন।

গত সোমবার সকালে লায়লা আফরোজ (৪৮) এবং তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫) নিজ বাসায় খুন হন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গৃহকর্মী আয়েশা বোরকা পরে বাসায় ঢোকেন এবং কিছুক্ষণ পর নাফিসার স্কুল ড্রেস ও মাস্ক পরে বের হয়ে যান। ঘটনার পর গৃহকর্তা এম জেড আজিজুল ইসলাম আয়েশাকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার মাত্র চার দিন আগে সাততলার ওই বাসায় কাজ নেন আয়েশা। তিনি নিজের পরিচয় দেন ‘আয়েশা’ নামে। হত্যার পর নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে বাসা ত্যাগ করেন তিনি।

নিহত লায়লা আফরোজ গৃহিণী ছিলেন এবং নাফিসা মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নাফিসার বাবা এম জেড আজিজুল ইসলাম উত্তরার সানবীমস স্কুলে শিক্ষকতা করেন।

সিসিটিভি বিশ্লেষণে দেখা যায়—সকাল ৭টার দিকে নাফিসার বাবা বাসা থেকে বের হন। ৭টা ৫১ মিনিটে বোরকা পরা অবস্থায় আয়েশা বাসায় ঢোকেন এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ৯টা ৩৬ মিনিটে স্কুল ড্রেস পরে বেরিয়ে যান। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাসায় ফিরে তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান।

পুলিশের ধারণা, প্রথমে লায়লা আফরোজকে হত্যা করা হয়। এরপর বিষয়টি টের পেয়ে নাফিসা ইন্টারকম থেকে কল দেওয়ার চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির সময় ইন্টারকমের লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সেখানেই তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। বাসা তল্লাশি করে বাথরুম থেকে একটি সুইচ গিয়ার চাকু ও একটি ফল কাটার ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো দিয়েই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় ভবনের দারোয়ান মালেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মোহাম্মদপুরে মা–মেয়ে হত্যাকাণ্ডে গৃহকর্মী গ্রেপ্তার

সর্বশেষ আপডেট ০৫:০৫:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে মা–মেয়েকে হত্যা করার অভিযোগে গৃহকর্মী আয়েশাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঝালকাঠি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন।

গত সোমবার সকালে লায়লা আফরোজ (৪৮) এবং তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫) নিজ বাসায় খুন হন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গৃহকর্মী আয়েশা বোরকা পরে বাসায় ঢোকেন এবং কিছুক্ষণ পর নাফিসার স্কুল ড্রেস ও মাস্ক পরে বের হয়ে যান। ঘটনার পর গৃহকর্তা এম জেড আজিজুল ইসলাম আয়েশাকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার মাত্র চার দিন আগে সাততলার ওই বাসায় কাজ নেন আয়েশা। তিনি নিজের পরিচয় দেন ‘আয়েশা’ নামে। হত্যার পর নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে বাসা ত্যাগ করেন তিনি।

নিহত লায়লা আফরোজ গৃহিণী ছিলেন এবং নাফিসা মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নাফিসার বাবা এম জেড আজিজুল ইসলাম উত্তরার সানবীমস স্কুলে শিক্ষকতা করেন।

সিসিটিভি বিশ্লেষণে দেখা যায়—সকাল ৭টার দিকে নাফিসার বাবা বাসা থেকে বের হন। ৭টা ৫১ মিনিটে বোরকা পরা অবস্থায় আয়েশা বাসায় ঢোকেন এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ৯টা ৩৬ মিনিটে স্কুল ড্রেস পরে বেরিয়ে যান। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাসায় ফিরে তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান।

পুলিশের ধারণা, প্রথমে লায়লা আফরোজকে হত্যা করা হয়। এরপর বিষয়টি টের পেয়ে নাফিসা ইন্টারকম থেকে কল দেওয়ার চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির সময় ইন্টারকমের লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সেখানেই তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। বাসা তল্লাশি করে বাথরুম থেকে একটি সুইচ গিয়ার চাকু ও একটি ফল কাটার ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো দিয়েই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় ভবনের দারোয়ান মালেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।