তিন ভাইয়ের দাফন হলো পাশাপাশি তিন কবরে
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৮:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 71
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তিন ভাইয়ের দাফন সম্পন্ন হয়েছে পাশাপাশি তিনটি কবরেই—এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের মধ্য দিয়ে। রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে সদকী ইউনিয়নের দুধরাজপুর-মহম্মদপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে সমাহিত করা হয় সুমন মণ্ডল (২৫), তার ছোট ভাই রিমন মণ্ডল (১৪) এবং চাচাতো ভাই আশিক মোল্লার (২২) মরদেহ। শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে আশপাশের কয়েকটি গ্রাম।
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় শনিবার গভীর রাতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়। সুমন ও রিমন বোনের শাশুড়ির জানাজায় অংশ নিতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন চাচাতো ভাই আশিকের মোটরসাইকেলে। রাত একটার দিকে ফরিদপুর–ভাঙ্গা–বরিশাল মহাসড়কের মাধবপুর কবরস্থানের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তারা সড়কে ছিটকে পড়েন; ঠিক সে সময় পিছন দিক থেকে আসা আরেকটি যান তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিনজনের।
নিহত সুমন ও রিমন মহম্মদপুর গ্রামের কৃষক করিম মণ্ডলের ছেলে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যাওয়ার পরই অন্য গাড়ি চাপা দেয়। “আমাদের কোনো অভিযোগ নেই, মামলা করবো না,” বলেন তিনি।
৮৫ বছর বয়সী গ্রামবাসী আক্কাস আলী বলেন, একসঙ্গে তিন লাশের দাফন—এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখেননি। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
সুমন ঢাকায় আসবাবপত্রের কাজ করতেন, তার সঙ্গে কাজ শিখছিল রিমন। আশিক ঢাকায় চাকরির পাশাপাশি মোটরসাইকেল ভাড়া করে চালাতেন। সুমনের বোনের শাশুড়ির জানাজায় অংশ নিতে বের হয়েই তারা দুর্ঘটনার মুখে পড়েন।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি হেলাল উদ্দিন জানান, কোন গাড়ির ধাক্কায় দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা শনাক্তে কাজ চলছে। তিনজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ভোরে মাইকিংয়ের মাধ্যমে মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়লে গ্রামজুড়ে নেমে আসে শোক। সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহগুলো পৌঁছালে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে স্বজনদের আহাজারিতে। আশিকের বাড়িতে স্বজনদের কান্নায় হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। তার মা শিউলি খাতুন বলছিলেন, “কিছুই জানতাম না… ও কিছুই বলে গেল না।”
গ্রামবাসী হৃদয় জানান, দুর্ঘটনার কিছু ঘণ্টা আগে আশিক ফেসবুকে বাড়ি ফেরার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তিনজনই গ্রামে এলে সবার সঙ্গে হাসিমুখে মিশতেন—সেই তিন প্রাণ একসঙ্গে নিভে যাওয়া পুরো গ্রামকে শোকে নিমজ্জিত করেছে।


































