ঢাকা ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ওমান প্রবাসীদের লাশ নিয়ে প্রতারণার ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভোলা
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৬:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 99

ওমান প্রবাসীদের লাশ নিয়ে প্রতারণার ব্যবসা

মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার হিসেবে ওমান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। দেশে প্রায় ১০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি কাজ করছেন। সড়ক দুর্ঘটনায় কোনো বৈধ প্রবাসী নিহত হলে ওমান সরকার ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রায় ১৫ হাজার রিয়াল (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা) তার ওয়ারিশদের প্রদান করে। তবে এই ক্ষতিপূরণকে কেন্দ্র করে একটি প্রতারক চক্র গড়ে উঠেছে, যারা নানা জালিয়াতির মাধ্যমে মৃত প্রবাসীদের প্রাপ্য অর্থ আত্মসাৎ করছে।

তদন্তে জানা গেছে, মৃত প্রবাসীর পাসপোর্ট ও মেডিকেল সনদ হাতিয়ে নিয়ে এবং ওয়ারিশদের কাছ থেকে ভুয়া অ্যাটর্নি দেখিয়ে তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই চক্রের মূলহোতা ভোলার লালমোহন উপজেলার মোহাম্মদ সবুজ। তার শ্বশুর মো. মাকসুদুর রহমানও এ প্রতারণায় সহযোগিতা করেন।

মোহাম্মদ সবুজ ছোটবেলা থেকেই উচ্ছৃঙ্খল ছিলেন। ২০০৮ সালে বাবার ধারদেনার মাধ্যমে তিনি ওমানে যান এবং একজন আইনজীবীর গাড়িচালক হিসেবে চাকরি শুরু করেন। পরে তিনি সেখানকার বাংলাদেশি প্রবাসীদের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণ হাতিয়ে নেওয়ার প্রতারণায় জড়িয়ে পড়েন।

চট্টগ্রামে মো. আরিফ এবং মো. খোরশেদ আলমসহ কয়েকজন প্রবাসীর পরিবার তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এসব মামলায় সবুজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। ওমান ও বাংলাদেশের আইনজীবীসহ জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও একই ধরনের একটি মামলা করা হয়েছে।

সবুজের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, তার প্রতারণার টাকায় একটি রাজপ্রাসাদ নির্মিত হয়েছে। তার স্ত্রী ইফফাত আরা তিন্নি জানান, সবুজ ২০০৮ সালে ওমানে যান এবং গাড়িচালক হিসেবে চাকরি শুরু করেন। শ্বশুর মো. মাকসুদুর রহমান জানান, মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলবে এবং আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।

লালমোহন থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, সবুজ বড় ধরনের প্রতারক। তিনি মৃত প্রবাসীদের ক্ষতিপূরণ হাতিয়ে নেন এবং তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ওমান প্রবাসীদের লাশ নিয়ে প্রতারণার ব্যবসা

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৬:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার হিসেবে ওমান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। দেশে প্রায় ১০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি কাজ করছেন। সড়ক দুর্ঘটনায় কোনো বৈধ প্রবাসী নিহত হলে ওমান সরকার ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রায় ১৫ হাজার রিয়াল (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা) তার ওয়ারিশদের প্রদান করে। তবে এই ক্ষতিপূরণকে কেন্দ্র করে একটি প্রতারক চক্র গড়ে উঠেছে, যারা নানা জালিয়াতির মাধ্যমে মৃত প্রবাসীদের প্রাপ্য অর্থ আত্মসাৎ করছে।

তদন্তে জানা গেছে, মৃত প্রবাসীর পাসপোর্ট ও মেডিকেল সনদ হাতিয়ে নিয়ে এবং ওয়ারিশদের কাছ থেকে ভুয়া অ্যাটর্নি দেখিয়ে তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই চক্রের মূলহোতা ভোলার লালমোহন উপজেলার মোহাম্মদ সবুজ। তার শ্বশুর মো. মাকসুদুর রহমানও এ প্রতারণায় সহযোগিতা করেন।

মোহাম্মদ সবুজ ছোটবেলা থেকেই উচ্ছৃঙ্খল ছিলেন। ২০০৮ সালে বাবার ধারদেনার মাধ্যমে তিনি ওমানে যান এবং একজন আইনজীবীর গাড়িচালক হিসেবে চাকরি শুরু করেন। পরে তিনি সেখানকার বাংলাদেশি প্রবাসীদের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণ হাতিয়ে নেওয়ার প্রতারণায় জড়িয়ে পড়েন।

চট্টগ্রামে মো. আরিফ এবং মো. খোরশেদ আলমসহ কয়েকজন প্রবাসীর পরিবার তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এসব মামলায় সবুজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। ওমান ও বাংলাদেশের আইনজীবীসহ জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও একই ধরনের একটি মামলা করা হয়েছে।

সবুজের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, তার প্রতারণার টাকায় একটি রাজপ্রাসাদ নির্মিত হয়েছে। তার স্ত্রী ইফফাত আরা তিন্নি জানান, সবুজ ২০০৮ সালে ওমানে যান এবং গাড়িচালক হিসেবে চাকরি শুরু করেন। শ্বশুর মো. মাকসুদুর রহমান জানান, মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলবে এবং আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।

লালমোহন থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, সবুজ বড় ধরনের প্রতারক। তিনি মৃত প্রবাসীদের ক্ষতিপূরণ হাতিয়ে নেন এবং তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।